X
শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
১৩ মাঘ ১৪২৯

ঢাবিতে কোণঠাসা বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো!

আবিদ হাসান
৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৪:৩৩

বাংলাদেশের রাজনীতির আঁতুড়ঘর বলা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি)। মুক্তবুদ্ধিচর্চার অন্যতম সেরা স্থানও এই বিদ্যাপীঠ। দলমত-নির্বিশেষে সবাই অবস্থান করেন এখানে। যুগের পর যুগ এ রকমই ছিল ঢাবির পরিবেশ। তবে এখন এই সহাবস্থানকে কেবলই অতীত স্মৃতি বলছে বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বাইরে অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো বলছে, ২০১৮ সালে ডাকসু নির্বাচনের পর ঢাবি ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও ডাকসুর মেয়াদ শেষে আবারও একই অবস্থা বিরাজ করছে এখন। তারা বলছে, ক্যাম্পাসে সরকার-সমর্থিত ছাত্র সংগঠনগুলোর একক আধিপত্য ধরে রাখতে হামলা-মামলা করে বিরোধী সংগঠনগুলোকে কোণঠাসা করে রাখতে চায়। এ কারণে বিভিন্ন সময় বিরোধী দলগুলোর ওপর পরিকল্পিতভাবেও হামলা চালায় ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।

তবে ছাত্রলীগ বলছে, অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি করার বিষয়ে যথেষ্ট সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েছে এবং এই দুর্বলতা ঢাকতেই তারা দোষারোপ করছে।

ক্যাম্পাসে সহাবস্থান না থাকার দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের ওপর দিচ্ছে বিরোধী সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব সংগঠনের অভিভাবক। তাদের উচিত সব শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাম্পাসে সুস্থ-সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুধু ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ ছাড়া আর কোনও সংগঠনের প্রতি নজর দেয় না। ছাত্রলীগের সব অনৈতিক কার্যক্রমেও নীরবে সমর্থন দিয়ে যায়।

বিরোধী সংগঠনগুলোর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন দলমত-নির্বিশেষে সব সংগঠনের জন্য ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাবি শাখার সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনও সহাবস্থানের পরিবেশ নেই। বর্তমান সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য বিস্তারের জন্য বারবার বিরোধী সংগঠনের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ছাত্রদলের ওপর গত মে মাস থেকে যেসব হামলা হয়েছে, এ বর্বরতার শেষ সীমায় পৌঁছেছে। ডাকসু নির্বাচনের পর কিছুটা সহাবস্থান থাকলেও, বর্তমানে তা কেবলই অতীত স্মৃতি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে আমাদের সব শিক্ষার্থীর অভিভাবক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু তারা পরোক্ষভাবে ছাত্রলীগের এসব কর্মকাণ্ডের পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবি জানাই।’

ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের হামলা-মামলা প্রমাণ করে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নেই। এখানে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নিপীড়িনমূলক পরিবেশ বিদ্যমান। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ছাত্রলীগের এই দখলদারত্ব ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কাছে জিম্মি। বর্তমান সরকারের দলদাস হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই সংগঠনের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাবিতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির পূর্বশর্ত হলো এই প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণরূপে সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত করে সত্যিকারের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।’

‘বিশ্ববিদ্যালয়কে গণতান্ত্রিকীকরণ আজ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ছাত্র সংসদ নির্বাচন, প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে প্রথম বর্ষ থেকে বৈধ সিট প্রদান ইত্যাদির পাশাপাশি আমরা সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন আদায়ের লড়াই গড়ে তুলতে ছাত্রসমাজকে আহ্বান জানাই’ বলেন মশিউর রহমান খান রিচার্ড।

‘আধিপত্য বিস্তার এখন করে ছাত্রলীগ, আগে করতো ছাত্রদল’ উল্লেখ করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাবি শাখার সভাপতি সাদিকুল ইসলাম সাদিক বলেন, ‘ক্যাম্পাসে এখন কোনও ধরনের সহাবস্থান নেই। আর যেকোনও সময় সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য বিস্তার করে। এখন ছাত্রলীগ করে, আর আগে করতো ছাত্রদল। এর পেছনে কারণ হিসেবে রয়েছে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের আয়ত্তে রাখতে চায়। সে জন্য যে সরকার আসে, সে সরকার তার আজ্ঞাবহদের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়। আর তারা ওই ছাত্র সংগঠনকে পরোক্ষভাবে মদদ দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সহাবস্থান নিশ্চিতের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন গড়ে তুলবো এবং সহাবস্থান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গণতান্ত্রিকভাবে রাজনীতি করে এবং প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আমাদের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ছাত্রলীগ ছাত্র সংগঠনগুলোর একতার ভিত্তিতে যেন ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকে, সেটি নিয়ে নিরন্তর কাজ করে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই হচ্ছে মৌলবাদের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের শত্রুর বিরুদ্ধে। আজ যারা নিছক দোষারোপের জন্য ছাত্রলীগের বিষয়টিকে সামনে এনেছে, আমরা মনে করি তারা নিজের সাংগঠনিক দুর্বলতা ঢাকার জন্য এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাদের বিচ্ছিন্নতাকে কূটকৌশলে আড়াল করার জন্য এটি করছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘ছাত্র সংগঠনের কোনও কর্মকাণ্ডের দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে না। সুস্পষ্ট কোনও প্রমাণ থাকলে লিখিতভাবে অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কোনও অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে না, এমন অভিযোগের উত্তরে প্রক্টর বলেন, ‘আসলে এগুলো তো তাত্ত্বিক কথা। তাত্ত্বিক কথা না বলে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ করলে ভালো হয়। আমরা তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবো।’

/এনএআর/এফএস/
সর্বশেষ খবর
মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রীদের অবস্থান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রীদের অবস্থান
কাভার্ডভ্যানের চাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
কাভার্ডভ্যানের চাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির টার্গেট ১৩ মুসলিম অধ্যুষিত আসন
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির টার্গেট ১৩ মুসলিম অধ্যুষিত আসন
সারাদেশে যুব মজলিসের বিক্ষোভ: মামুনুল হকের মুক্তি দাবি
সারাদেশে যুব মজলিসের বিক্ষোভ: মামুনুল হকের মুক্তি দাবি
সর্বাধিক পঠিত
বিয়ে করে বিপাকে অভিনেতা তৌসিফ!
বিয়ে করে বিপাকে অভিনেতা তৌসিফ!
উপহার পেয়েছিলেন মাত্র চারটি, এখন তাদের ছাগল-ভেড়া ৬৩টি
উপহার পেয়েছিলেন মাত্র চারটি, এখন তাদের ছাগল-ভেড়া ৬৩টি
রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে জমজমের পানি
রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে জমজমের পানি
কলকাতার দেয়ালে দেয়ালে তাসনিয়া: ফারিণের পাশে দাঁড়ালেন প্রসেনজিৎ
কলকাতার দেয়ালে দেয়ালে তাসনিয়া: ফারিণের পাশে দাঁড়ালেন প্রসেনজিৎ
প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লা নামেই বিভাগ দিন: এমপি বাহার
প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লা নামেই বিভাগ দিন: এমপি বাহার