রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার সময় সম্পদের বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তার মতে, রাষ্ট্রপতির সম্পদ বিবরণী প্রকাশ, দায়িত্ব পালনকালীন আইনগত দায়মুক্তি এবং ব্যক্তিগত অপরাধের দায়—এসব বিষয় বিদ্যমান আইনে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। এ কারণে রাষ্ট্রপতি-সম্পর্কিত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে দায়মুক্তির পরিধি ও সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বাংলা ট্রিবিউনকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আদর্শিকভাবে অবশ্যই থাকা দরকার। তবে এ জন্য আলাদা আইন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি-সম্পর্কিত বিদ্যমান আইনে বিষয়টি সেভাবে বিবেচনা করা হয়নি। আবার রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব পালনের সময় আইনগত দায়মুক্তি বা ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সম্পদ বিবরণী প্রকাশের প্রশ্নটি দায়মুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে যায়। এটিও একটি বিতর্কিত বিষয়।’
দায়মুক্তির বিধান কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি পদত্যাগকৃত রাষ্ট্রপতির কথা বলা যায়। তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। কিছু অভিযোগ তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে এবং সেই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে, হয়তো তিনি দায়মুক্তির সুবিধা দাবি করতে পারেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় তিনি যদি উদাহরণস্বরূপ ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য অবৈধভাবে কোনো জমি দখল করেন, তাহলে সেই অপরাধের জন্য তাঁর দায়মুক্তি পাওয়ার কথা নয়। আইনে এসব ব্যাখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে দেওয়া হয়নি।’
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বা রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে, সেগুলোর বিচার অবশ্যই হতে হবে বলেও মনে করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগ, অবৈধভাবে একাধিক বিদেশি পাসপোর্ট রাখার অভিযোগ অথবা বিদেশে সম্পদ পাচারের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর বিচার করতে হবে।’
তার ভাষ্য, ‘বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যেও এটি সম্ভব। বাংলাদেশে সাবেক রাষ্ট্রপতির দুর্নীতির দায়ে বিচার হওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। কাজেই যেকোনো রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের বিচার করার সুযোগ থাকা উচিত।’

‘রাষ্ট্র সংস্কারের অভীষ্ট রাজনৈতিক-আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধে জিম্মি’







