ইডেন মহিলা কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনটির এই শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত ও ১৬ জনকে স্থায়ী বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির দেওয়া এই আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছে সদ্য বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেত্রীদের ১২ জন।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ইডেন কলেজ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন বহিষ্কৃত নেত্রীরা। এসময় তারা ধানমন্ডিতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে আমরণ অনশন করার ঘোষণা দেন। পায়ে হেঁটে ধানমন্ডির উদ্দেশে রওনা করেন।
এই ১৬ জন নেত্রী হলেন, ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সোনালি আক্তার, সুস্মিতা বাড়ৈ, জেবুন্নাহার শিলা, কল্পনা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আফরোজা রশ্মি, মারজানা ঊর্মি, সানজিদা পারভীন চৌধুরী, এসএম মিলি, সাদিয়া জাহান সাথী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা খানম বিন্তি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখী।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বহিষ্কারাদেশ অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানান এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং এর সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন করবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সদ্য বহিস্কৃত সহ-সভাপতি সুষ্মিতা বাড়ৈ বলেন, ‘কলেজ শাখা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের বহিষ্কার না করে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো। একজন নেত্রী পদত্যাগ করার পরেও কোনও নতুন তদন্ত কমিটি গঠন না করে কোন তদন্তের ভিত্তিতে এই প্রেস রিলিজ দেওয়া হলো?’
এসময় লিখিত বক্তব্যে বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখী বলেন, ‘এখানে একটা কথা বারবার উল্লেখ করা হচ্ছে আমাদের ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভাকে কেন মারধর করা হলো। যদি মারধরের ঘটনায় আসি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেনজির হোসেন নিশি রোকেয়া হলের সাবেক এজিএস ফাল্গুনী দাস তন্বীকে মারধর করার পর কেন বেনজির হোসেন নিশিকে বহিষ্কার করা হলো না, যে মামলা এখনো চলমান। আপনাদের এবং সকলের ভাষ্যমতে, দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অনিরপেক্ষভাবে শুধু একটি গ্রুপকে কেন বহিষ্কার করা হলো। এই স্থায়ী বহিষ্কারের পেছনে কে বা কারা আছে এর সুষ্ঠু জবাব দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তিলোত্তমা শিকদারের ফেসবুক পেজ থেকে একরকম প্রেস রিলিজ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের ফেসবুক পেজ আপলোড হওয়া প্রেস রিলিজ অন্যরকম। এই ভিন্নতর রহস্য উন্মোচন করতে হবে। বিভিন্ন ইউনিটে কোনও সমস্যা হলে তার তদন্ত বা সমাধানের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে সে নিয়ম না হয়ে কেন সরাসরি স্থায়ী বহিষ্কার করা হলো, তাহলে কি কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের এই অন্যায়ের সাথে সহমত পোষণ করছে? আপনারা জানেন সংবাদ সম্মেলনে আমরা ২১ জন নেত্রী উপস্থিত ছিলাম। তাহলে ১২ জনকে কেন বহিষ্কার করা হলো।’
এদিকে গত শনিবার রাতে মারধরের শিকার কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস লালবাগ থানায় মামলা করতে গেলে অভিযোগ নেওয়া হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। এই অভিযোগ এনে জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, গতকাল আমরা গিয়েছিলাম। আজকে সকালেও গিয়েছি। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি।তারা আমাদের বলছে উপর মহলের নির্দেশ আছে মামলা নেয়া যাবে না।
এসময় সুস্মিতা বাড়ৈ বলেন, তারা ভিক্টিমকেও মারলো আবার ভিক্টিমের সাথে কথা না বলেই তাকে রাতের আঁধারে একটা প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বহিষ্কার করলো। তাহলে ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি কোন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে?
সুস্মিতা আরো বলেন, রিভার নানা কুকীর্তির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাকে বহিষ্কার না করা ছাত্রলীগের ব্যর্থতা। আমাদের বিরুদ্ধে যে প্রেস রিলিজ দেয়া হয়েছে সেটা মানি না। ছাত্রলীগের অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী যেদিন থেকে আমাদের বহিষ্কার করবে সেটা আমরা মেনে নিবো কিন্তু ছাত্রলীগের এই বহিষ্কার আমরা মানি না। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ রিভা-জাকিয়াকে প্রটেক্ট করছে। গতকালের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুগ্রুপে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে কিন্তু আমাদের বহিষ্কার করা হলেও তাদের পক্ষের কাউকে বহিষ্কার করা হয়নি। বহিষ্কার হলে দুপক্ষেরই হবে। এটা কেন একপাক্ষিক হবে।
কলেজের সুনাম নষ্টের দায় ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে নিতে হবে উল্লেখ করে সুস্মিতা বলেন, ছাত্রলীগ সভাপতি সেক্রেটারি বিতর্কিত নেতৃত্বকে কেন বাছাই করেছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একাংশ এই ষড়যন্ত্রের সাথে সরাসরি জড়িত।
এসময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সংগঠনে এত অনিয়ম কেন এটা নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আপনারা ধরুন।
জান্নাতুল ফেরদৌসকে মারধরের ঘটনা ও রিভা জাকিয়ার অপকর্মের সুষ্ঠু বিচার না হলে একযোগে ২৫ জন নেত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক সামিয়া আক্তার বৈশাখী বলেন, আমাদের গণহারে পদত্যাগের যে ফল আসতে পারে সেটাকে ফলপ্রসূ হতে দিবে না বিধায় তারা কোনোরকম তদন্ত ছাড়াই নির্দিষ্ট সংখ্যক নেত্রীকে বহিষ্কার করেছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বহিষ্কৃতরা ধানমন্ডি পার্টি অফিসে দিকে রওনা দেন। তারা সেখানে অনশন করবেন বলে জানান।









