জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৮ এপ্রিল ২০১৬, ১৯:৪৬আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৬, ২১:১৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার বিষয়টা যুক্তরাষ্ট্রই চিহ্নিত করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সেদেশের কোর্টেই বেরিয়ে এসেছে প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়টি। যারা এত বড় ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লিপ্ত তারা গ্রেফতার হলে ব্যথা জাগে, নিন্দা করা হয়। অথচ ষড়যন্ত্র যিনি করলেন তার জন্য নিন্দা করেন না কেউ। এটা কোন ধরনের সাংবাদিকতা? কোন ধরনের স্বাধীনতা? আমার প্রশ্ন সেখানে।
সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার দিবস উপলক্ষে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ষড়যন্ত্রকারী তাদের জন্য মায়াকান্না, আর যে ষড়যন্ত্রের শিকার তার জন্য কিছুই না! সেখানে মানবাধিকার হরণ হয় না? শফিক রেহমানকে নিয়ে তোলপাড়, অনেক কথা। এটা যারা বলেন তাদের তো লজ্জা হওয়া উচিত। কারণ যে দেশের মাটিতে তারা ষড়যন্ত্র করেছেন সে দেশের কোর্টেই বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই তাদেরকেই নিন্দা জানানো উচিত। অপরাধীকে গ্রেফতার করলে যদি অপরাধ করা হয়, আমি মনে করি- এরা আর কোনওদিন হত্যার বিচার চাইবে না। বিচার চাওয়া তাদের উচিত না। কারণ কোনও অপরাধকে তারা অপরাধ হিসেবে দেখেন না। অপরাধীকে একজন সাংবাদিক হিসেবে দেখা হলো, অথচ তার অপকর্ম দেখা হলো না। এটা তো আমাদের দেশের আইনে হয়নি। আমেরিকার আইনে হয়েছে। তাদের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা করেছে।

তিনি আরও বলেন, যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে- যখন আমার মা, বাবা, ভাই, ছোট শিশু রাসেলকে যারা হত্যা করেছে সেই খুনিদের ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছিল যে, তাদের বিচার করা যাবে না। কিন্তু সেই বিচার বাংলাদেশে হয়েছে। আমাদের কেউ মারা গেলে বা কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হলে আমাদের কি মানবাধিকার নেই? আমাদের কি এ দেশে বাঁচার অধিকার নেই? আমরা কি মানুষ না? আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেফতার করলে সেটা নাকি খুব নিন্দার হয়ে যায়। আর যারা ষড়যন্ত্র করবে তাদেরকে সমর্থন করতে হবে?

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশে আরেকটি শ্রেণি রয়েছে। যারা মুক্তচিন্তার নামে পর্নো চিন্তা করেন। মুক্তচিন্তার নামে বিকৃত লেখালেখি হলে নিশ্চয়ই সেটা মুক্তচিন্তা নয়। মুক্তচিন্তা যদি বিকৃত কাজ হয়, বিকৃত মানসিকতা, বিকৃত ও নোংরা হয়, জঘন্য ভাষায় যদি লেখা হয় এটার নাম নিশ্চই মুক্তচিন্তা না, এটা বিকৃত মানসিকতা। বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতা আছে, সকল ধর্মের নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা আছে। প্রত্যেকে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবেন। সেটা আমরা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছি। প্রত্যেকে তাদের ধর্ম পালন করবে, ধর্ম পালনে স্বাধীনতা প্রত্যেকের আছে। ইসলাম ধর্মেও সেই কথা বলা আছে।

তিনি বলেন, আমি ধর্ম পালন করি। আমার ধর্ম নিয়ে কেউ কথা বললে নিশ্চই আমি তা মেনে নেব না। আমার কাছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনও ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। নিজের ধর্মকে যতটা সম্মান করবো অন্যের ধর্মকেও ততটাই সম্মান করবো। কিন্তু মুক্তচিন্তায় এমন সব কথা লেখা হয় যা আমার পড়তেও লজ্জা হয়, ঘৃনা হয়। এটা মুক্তচিন্তা হতে পারে না। মুক্তচিন্তা হলে রুচিরোধ ও মানসম্মত লেখা লিখুক। ভালো কথা লিখুক। কেউ যদি ধর্ম মানতে না চায়, না মানুক। সে বিচার আল্লাহ করবে। কিন্তু মুক্তচিন্তার জন্য যারা কথা বলেন তারাই ষড়যন্ত্রকারীদের জন্যও কাঁদেন। আসলে এদের চরিত্রটা কী? প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

/পিএইচসি/এসএনএইচ/এএইচ/

 

আরও খবর পড়ুন-

কারা চালাচ্ছেন আইএসের বাংলা ওয়েবসাইট?


সম্পর্কিত
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
আদালতে আত্মসমর্পণের পর কারাগারে আওয়ামী লীগের ১৪ নেতা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বশেষ খবর
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী