রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনি ফল পত্যাখ্যান করছে বিএনপি। একইসঙ্গে পুনরায় নির্বাচনের দাবি এবং নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চেয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ঘোষণা দিতে পারে দলটি। আগামীকাল মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এর ঘোষণা দেবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (৩০ জুলাই) রাত ৮টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে তিন সিটি নির্বাচন পর্যালোচনা করতে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ঘন্টাব্যাপী এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সেখানে উপস্থিত দলের স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সিটি নির্বাচন নিয়ে দলের সিনিয়র নেতারা বৈঠকে বসেছিলাম। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে তিন সিটি নিয়ে আমাদের দলের অবস্থানের বিষয়ে কথা বলবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ।’
বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপি নেতারা মনে করছেন, যে উদ্দেশ্যে তারা খুলনা, গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তা সফল হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় স্থানীয় সরকারের এই পাঁচ সিটির নির্বাচনের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে দেশবাসীসহ সারাবিশ্বের কাছে। নির্বাচনের আগে প্রশাসন দিয়ে গ্রেফতার ও হুমকি দিয়ে, কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দিয়ে এবং বিএনপিসহ অন্য দলের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে আওয়ামী লীগ ভোটের ফল নিজেদের করে নিয়েছে তার চিত্র ফুঠে উঠেছে এসব নির্বাচনে।
দলটির নেতারা মনে করছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে পাঁচ সিটি নির্বাচন সব দলের কাছে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করা ছিল আওয়ামী লীগ ও নির্বাচন কমিশনের জন্য পরীক্ষা। তারা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন হয় না, অথচ সেই নির্বাচনগুলোও তারা সুষ্ঠু করেনি। তাহলে কিভাবে আওয়ামী লীগ ও এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে? যে নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হয়। বিএনপি যে বিভিন্ন সময় দাবি করে আসছিল, এই সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না, পাঁচ সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। এখন এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরাও এই নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন। এখানেই বিএনপির সফলতা এসেছে।
স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, তিন সিটির ফল পত্যাখান করা এবং এর প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়ার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির নেতারা একমত হয়েছেন। তবে কর্মসূচির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে লন্ডনে থাকা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে। রাতে তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি কর্মসূচির বিষয়ে রাজি হলে সংবাদ সম্মেলনে এর ঘোষণা দেওয়া হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহাবুবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আমরা বিশ্লেষণ করেছি। এছাড়া দলের পরবর্তী করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কাল সকালে এসব বিষয়ে আপনাদের জানাবেন দলের মহাসচিব।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আজকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন– স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে.জে.(অব.) মাহাবুবুর রহমান, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।








