মহল্লায়-মহল্লায় সন্ত্রাসীরা মহড়া দিয়ে বিরোধী দলের প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘ভোটারদের হুমকি দিয়ে ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের উসকানিমূলক বক্তব্য, তাদের দলের মন্ত্রী ও নেতাদের বক্তব্যের ফলে নির্বাচনের পরিবেশ ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের দিকেই চলে যাচ্ছে।’
বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, ‘আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী ক্রমাগত নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। রঙিন পোস্টার লাগিয়েছেন, বিরোধী দলের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। ফুটপাতের ওপর অফিস নির্মাণ করা হয়েছে। সর্বোপরি আওয়ামী লীগের ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, আওয়ামী লীগ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডেকে এনে ঢাকায় সন্ত্রাসীদের জড়ো করে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।’
ফখরুল বলেন, ‘ঢাকা উত্তর সিটিতে তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রচারণায় অংশগ্রহণকারীদের ওপর আক্রমণ করা, কাউন্সিলরদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা ও পরে মিথ্যা মামলায় বাড়িতে-বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি ও গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আবারও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।’
ভোটের একদিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশ সম্পর্কে ফখরুল বলেন, ‘এই সময়ে ভোটের একদিন আগে এমন সমাবেশ করার মানেই হচ্ছে সিটি নির্বাচনকে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এটা নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন ‘আওয়ামী লীগের সমাবেশের বিষয়টি আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। পরে কমিশন জানিয়েছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ হতে বাধা কিসের? তবে ভোট চাইতে পারবে না।’
ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের যে বক্তব্য, তাতে স্পষ্ট হয়ে যায়, তারা ক্ষমতাসীনদের নির্দেশই পালন করছে।’
পুলিশও একই ভূমিকা পালন করছে, অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিএনপির অনেক সাবেক এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা, যারা চিকিৎসা বা ব্যবসার কাজে এসেছেন, তাদের হয়রানি করছেন।’
‘এত আপত্তির পরও কেন বিএনপি নির্বাচনে’—এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছি। পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। ধানের শীষ নিয়ে বের হয়েছি। অন্য কোনও গণতান্ত্রিক সুযোগ নেই। যখন গণতন্ত্রের চর্চার সুযোগ নেই, তখন মানুষকে নিয়ে বের হয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান প্রমুখ।








