স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে সরকার সারাবিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তাদের অভিযোগ, ৫০ বছরে যা কিছুই ঘটেছে, সবকিছুরই ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সরকার সর্বদাই সচেষ্ট রয়েছে।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ও স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ সিনিয়র নেতাদের বক্তব্যে এসব অভিযোগ উঠে এসেছে। এদিন রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমাদের সেইসব বুদ্ধিজীবী যারা তাদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, যারা রক্ত দিয়ে দিয়েছেন শুধুমাত্র দেশের স্বাধীনতার জন্যে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্যে। তাদের এই আত্মত্যাগ কখনও স্বার্থক হবে না।’
দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী আমাদের বুদ্ধিজীবীদেরকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছিল। সেই সময়ে চিত্রের সঙ্গে আজকের এই চেহারার খুব একটা পার্থক্য নেই। এই সরকার যারা আজকে স্বাধীনতার কথা বলে আমাদের দেশের জনগণের ওপরে নির্যাতন-অত্যাচারের স্টিমরোলার চালাচ্ছে, তা কোনও মতেই ১৯৭১ সালের সেই হানাদার বাহিনী থেকে কোনও অংশেই তাদের শ্রেষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারবে না।’
সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে তুলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য আজকে ৫০ বছরে আমাদের স্বাধীনতাকে সুসংহত করার কথা, আমাদের সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করার কথা, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও ওপরে নিয়ে যাওয়ার কথা— তখন এমন একটি সরকার যারা আজকে বিনা ভোটে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। যাদের জনগণের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। আজকে তারা সারাবিশ্বে বাংলাদেশে সব সম্মানকে ক্ষুণ্ন করছে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজকে দেশে মুক্তিযুদ্ধের যে আকাঙ্ক্ষা সেই গণতন্ত্র অনুপস্থিত। মানুষের অধিকার নাই, ভোট দেওয়ার অধিকার নাই, কথা বলার অধিকার নাই। অর্থনৈতিক বিশাল বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে।’
খন্দকার মোশাররফের অভিযোগ— দেশে আইনের শাসন নাই। বিচার ব্যবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখলাম, আমেরিকায় গণতন্ত্র সম্মেলন বা কনভেনশন হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ আমন্ত্রণ পায়নি। আর সরকার কী বললো? যারা এই সম্মেলন করছে তাদের গণতন্ত্র হলো নরম গণতন্ত্র। আর বাংলাদেশে নাকি খুব শক্তিশালী গণতন্ত্র আছে। এভাবে আপনারা দেখবেন— মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গত ৫০ বছর বাংলাদেশে যা ঘটছে, সবকিছুরই একটা ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এই সরকার সর্বদায় সচেষ্ট রয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিমের সঞ্চালনায় সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, মহানগর দক্ষিণের রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের আমিনুল হক।








