X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

বহিষ্কার-অব্যাহতির প্রভাব নিয়ে চিন্তিত বিএনপি!

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ২৩:৪৯

২০১৯ সালে সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অসংখ্য নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। অতি সম্প্রতি এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম। যে কারণে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এসব নেতাকে বহিষ্কারের ফল উল্টো প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। পুরো প্রক্রিয়াটি দলের শীর্ষপর্যায় থেকে গৃহীত হওয়ার কারণে কোনও নেতাই ভেতরে-বাইরে এ বিষয়ে নিজ নিজ অবস্থান স্পষ্ট করা থেকে বিরত রয়েছেন।

গত কয়েক মাসে কমিটি গঠন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে নিজেদের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দিয়েছে বিএনপি। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলাপকালে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

বরিশালে দলের কমিটির কোনও পর্যায়ে রাখা হয়নি মজিবুর রহমান সরোয়ারকে। কমিটি পুনর্গঠনের প্রতিক্রিয়ার জের ধরে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে খুলনার পরিচিত নেতা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে। কুমিল্লার মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে গত বছরের ২৮ অক্টোবর অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ বছরের ১৮ জানুয়ারি মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও পরবর্তী সময়ে প্রতিপক্ষ সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে মিষ্টি-বিনিময়ের জের ধরে বহিষ্কৃত হন নারায়ণগঞ্জে বিএনপির পরিচিত নেতা তৈমুর আলম খন্দকার। বহিষ্কারের পাশাপাশি কয়েকজন নেতাকে কোণঠাসা করে রেখেছে বিএনপি। এ তালিকায় আছেন রাজশাহীর সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অব্যাহতি ও কোণঠাসা করে রাখার বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের আলাপ হয়। তারা বলছেন, ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ দেখিয়ে তাদের অব্যাহতি বা দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে বিএনপিই। বিশেষত, যাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে বা বসিয়ে রাখা হয়েছে তারা প্রত্যেকেই সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নেতা। এ কারণে সাংগঠনিকভাবে প্রভাব না পড়লেও রাজনৈতিকভাবে আদতে দলের ক্ষতিই হবে। এর পুরো দায় তখন শীর্ষনেতৃত্বের দিকেই যাবে।’

স্থায়ী কমিটির একজন নেতার মন্তব্য, ‘আমি তো ভীত। সরকার না শেষমেষ এসব বিষয়কে খেলার অংশ করে। কারণ, যাদের অব্যাহতি বা বহিষ্কার বা বসিয়ে রাখা হচ্ছে, তারা তো সামাজিকভাবে গৃহীত। সেক্ষেত্রে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ‘বিএনপি হিসেবে’ পরিচিত করানোর আশঙ্কা কিন্তু থেকে যায়।’

দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের প্রভাবশালী একটি সূত্রের তথ্য, সামনের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যেকোনও ইস্যুতেই বিষয়গুলো উঠে আসবে। ফ্যাক্টর হবে কী হবে না তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু ইস্যুগুলো উপযুক্ত পক্ষকে দুর্বল করার জন্য কাজে লাগানো হতে পারে।

সূত্রের দাবি, ‘ভুলতথ্য আর শত্রুতা’কে কাজে লাগিয়ে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, ‘রাজশাহীতে নতুন কমিটিতে মিজানুর রহমান মিনু বা তার অনুসারী কাউকেই কমিটিতে রাখা হয়নি। সাইডলাইনে রেখে নতুন কমিটি করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় শীর্ষনেতৃত্বকে কনভিন্স করেছেন কেন্দ্রীয় দফতরের প্রভাবশালী একজন নেতা। তার পেছনে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্যের ইন্ধন রয়েছে, বলে জানিয়েছেন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা।

সিলেটের একজন প্রভাবশালী নেতার দৃষ্টিতে, সিলেটে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে কোণঠাসা করে রাখার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাবা খন্দকার আব্দুল মালিকের রাজনীতির সুবাদে বিএনপিতে এসে স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করলেও তার স্থানীয় বিরোধিতা এখন দলকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও দুর্বল করে রেখেছে বলে মনে করেন সিলেটের বিএনপির একাধিক নেতা।

দলের একাধিক দায়িত্বশীল জানান– বিএনপিসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, ওলামা দলেও বহিষ্কার-অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে নেতাদের। সবচেয়ে বেশি বহিষ্কারের ঘটনা রয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দলে। 

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ছয় মাসে খুব বেশি বহিষ্কার বা অব্যাহতি নেই। যখন দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ নির্বাচনে যায়, যেমন কিছুদিন আগে উপজেলা নির্বাচনে অনেকে সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করেছিল, তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আবার অনেককে অব্যাহতি থেকে দলে ফেরানো হয়েছে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। গত ছয় মাসে খু্ব বেশি এমন সিদ্ধান্ত আসেনি।’

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার পর্যবেক্ষণ, “বহিষ্কার ও অব্যাহতির বিষয়ে দলকে আরও অনেক বেশি হিসাবী ও সাবধানী হলে ভালো। বিশেষ করে ‘চেক না রেখে চাল’ দিলে তো রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে ভুল হতেই পারে।”

দলের আরেক নেতার দাবি, ‘বিএনপিতে একটি অংশের নেতা আছেন, যারা হয়তো দলকে ক্ষমতায়ও দেখতে চায় না। তারা ভাবে এখন যেভাবে আছে, তাতেই বা মন্দ কী! সেক্ষেত্রে বহিষ্কার বা অব্যাহতির বিষয়ে দলকে আরও সতর্ক হওয়া দরকার।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শনিবার (২২ জানুয়ারি) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একটা দলে নিয়ম-কানুন সারাজীবন থাকবে। এটা দলের নিয়মে আছে। বিএনপি গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের শৃঙ্খলার বাইরে কোনও কাজ হলে এমন করবে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও এটা (বহিষ্কার-অব্যাহতি) করা হতো। এজন্যই গঠনতন্ত্রে এগুলো বলা আছে। এটা বরং দলকে শক্তিশালী করছে। যারা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে তাদের কাছে বার্তা চলে যাচ্ছে।’

/জেএইচ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
মিরপুর টেস্টে পয়েন্টের আশায় বাংলাদেশ 
মিরপুর টেস্টে পয়েন্টের আশায় বাংলাদেশ 
অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্ট জয় করলেন প্রথম বাঙালি নারী পিয়ালী
অক্সিজেন ছাড়াই এভারেস্ট জয় করলেন প্রথম বাঙালি নারী পিয়ালী
চোরাই গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ 
চোরাই গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ 
হাজী সেলিমের এমপি পদের কী হবে?
হাজী সেলিমের এমপি পদের কী হবে?
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত