রাষ্ট্র সংস্কারের যৌথ রূপরেখা নিয়ে ঐকমত্য না হলেও অবশেষে ‘কমন ঘোষণা’ ও যুগপৎ কর্মসূচি নিয়ে আবারও কাছাকাছি এসেছে বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চ। আন্দোলনের স্বার্থে ‘যৌথ রূপরেখা’ নিয়ে অনড় না থেকে একদফা ঘোষণা ও একই সংখ্যক দফার ভিত্তিতে পৃথক পৃথক ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে উভয় পক্ষ। এক্ষেত্রে জুলাইয়ের প্রথম দিকে এই বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আনার বিষয়ে উভয় পক্ষের নেতারা সম্মতি দিয়েছেন।
সোমবার (২৬ জুন) বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, সোমবার দলের প্রভাবশালী একজন নেতার বাসায় গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষনেতা আ স ম রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকি ও শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ কয়েকজন নেতা। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা দাবি করেছেন, আন্তরিক পরিবেশে উভয় পক্ষের বৈঠক হয়েছে। অনেক দিন পর উভয় পক্ষের নেতারা খোলামেলা আলোচনা করেছেন। কোথায় কোথায়, কী কী প্রসঙ্গে উভয় পক্ষকে ছাড় দেওয়া উচিত, সেসব বিষয়ও উঠে এসেছে আলোচনায়।
বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষের নেতাদের মধ্যে নতুন কর্মসূচি ও দফা ঘোষণা নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে। আগামী জুলাইয়ের প্রথম ভাগে যুগপৎ আন্দোলনে যুক্ত জোট ও সংগঠনগুলো নিজ নিজ ব্যানারে কর্মসূচি ঘোষণা করবে। এই কর্মসূচিগুলো হবে ঢাকাকেন্দ্রিক।
বিএনপির একাধিক নেতা জানান, এই সময়ের মধ্যে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কর্মসূচিও আসবে। সেক্ষেত্রে এই কর্মসূচিগুলো ঢাকার বাইরে গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে হবে। কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রও দেবে বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে ৩১ দফা, গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকেও ৩১ দফা দেওয়া হবে। তবে উভয় পক্ষের ঘোষণাপত্রই হবে পৃথক। যেসব বিষয়ে দ্বিমত হওয়ার কারণে যৌথ রূপরেখা হয়নি, সেসব প্রসঙ্গ নিজ নিজ অংশে যোগ করা হবে। তবে কর্মসূচি হবে যুগপৎ ধারায়।
কর্মসূচির ধরন নিয়ে উভয় পক্ষের নেতাদের দাবি—ঢাকাকেন্দ্রিক অলআউট কর্মসূচির ধরন নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। এতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির পক্ষে উভয় পক্ষের নেতারা একমত হয়েছে। হরতাল বা অবরোধের মতো কর্মসূচি না দিয়ে সমাবেশ, অবস্থান, ঘেরাও কর্মসূচির পক্ষে মত দিয়েছেন নেতারা।
জানতে চাইলে গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। আশা করি জুলাইয়ের প্রথম দিকে এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা দিতে পারবো। যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারবো। জুলাইয়ে আন্দোলন উঁচু পর্যায়ে নেবো। এরপর আমরা পরবর্তী ধাপের কর্মসূচি জানাবো।’
গণতন্ত্র মঞ্চের একাধিক নেতা উল্লেখ করেন, ‘বিএনপি অলমোস্ট প্রস্তুতি নিয়েছে। দ্যাট ইজ ভেরি পজিটিভ। নাও আর নেভার।’
বিএনপি সূত্র জানায়, বিএনপির পক্ষ থেকে গণতন্ত্র মঞ্চকে জানানো হয়েছে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতের সঙ্গে প্রকাশ্যে বা আনুষ্ঠানিক কোনও সম্পর্কে জড়াবে না বিএনপি। এ ক্ষেত্রে জামায়াত এককভাবে তাদের মতো কর্মসূচি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করবে। তবে মঞ্চের পক্ষ থেকে বিএনপিকে ‘অযাচিত মন্তব্য’ থেকে সতর্ক থাকতে নেতাদের পরামর্শ দেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘গত বছর থেকে আমাদের দলের অনেক নেতাই কিন্তু ভারসাম্যহীন, অযাচিত বক্তব্য দিয়েছেন, যাতে সরকারের পক্ষে রেজাল্ট গেছে। এ বিষয়টি আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকারক।’
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কর্মসূচিতেই আছি। এটাকে আরও বেগবান করা হবে। আমরা একদফার আন্দোলনে রূপান্তরিত করবো।’
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ঈদের পরে আমাদের আন্দোলন আরও জোরদার হবে, আরও বেগবান হবে। যারা আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলছি। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলন আরও বেগবান করবো। আন্দোলন বেগবান হবে।’
আরও পড়ুন:








