বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান আন্দোলনে বিজয় এলে তারা সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার করবে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অনিবার্য বিজয়ের মাধ্যমে স্থাপিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে, সাগর-রুনি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে, আমরা সব সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করবো, ইনশাআল্লাহ।’
সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের এক যুগ আজ পেরিয়ে গেলো। অথচ আজও তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলো না। খুনিদের শনাক্ত করা হলো না। বিচারের ন্যূনতম উদ্যোগ নেওয়া হলো না। বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এই স্বেচ্ছাচারী রহস্য উন্মোচনের দাবি জানাই, সাগর-রুনি হত্যার বিচার চাই। আমরা চাই, প্রত্যেক সাংবাদিকের নিরাপত্তা, তাদের পেশাগত স্বাধীনতা।’
বিভিন্ন সংগঠনের সূত্র দিয়ে রিজভী জানান, গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এই সরকারের আমলে ৫৯ জন সাংবাদিক হত্যা হয়েছেন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২৫০ এর বেশি সাংবাদিক চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিএনপির শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশকে পুলিশ পণ্ড করতে, তাদের ছোড়া টিয়ারসেলের আঘাতে সাংবাদিক রফিক ভুঁইয়া নিহত হন। অথচ নিহত রফিক ভুঁইয়ার মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ঘোষণা করতে বাধ্য করেছে সরকার।
বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘সাংবাদিক নির্যাতনের জন্য যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী, তারা প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি বা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সে কারণেই তারা বিচারের আওতামুক্ত থাকে। আওয়ামী আইন ও বিচার এদের স্পর্শ করতে পারে না। এভাবেই দেশে তৈরি করা হয়েছে এক নৈরাজ্যময় ভীতিকর পরিবেশ।’
সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের প্রতিবেদন উল্লেখ করে রিজভী জানান, সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৮৯০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে, সর্বোচ্চ ১৩.৬৮ শতাংশ মামলা হয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মামলা দায়ের করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন ক্ষমতা-সংশ্লিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল।









