X
শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪
২৯ আষাঢ় ১৪৩১

ভারত ইস্যুতে সক্রিয় বিএনপিসহ বিরোধী দল ও হেফাজত, কর্মসূচি আসছে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৫ জুন ২০২৪, ২২:০০আপডেট : ২৫ জুন ২০২৪, ২২:২৪

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক এসেছিল অনলাইনে। কিছু রাজনৈতিক দল দেশটিকে অভিযুক্ত করেছিল—৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভারতই আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছে। বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে চলতি বছরের ২০ মার্চ নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের গায়ের চাদর ছুড়ে ফেলা এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায়। এরপর ভারত অনেকটাই আলোচনার বাইরে ছিল। তবে সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের মধ্য দিয়ে আবারও বিরোধী রাজনীতিতে ইস্যুটি ফিরে এসেছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে করা ‘চুক্তি-সমঝোতাসমূহ’ দেশের স্বার্থবিরোধী বলে জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে এসেছে প্রতিবেশী দেশের ক্ষমতাসীনদের পক্ষ। বিরোধী নেতাদের এই অভিযোগ প্রকাশ্যে করা হয় গত বছরের শেষ দিকে। এ বছর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তা সামনে আসে। মাঝে এই ইস্যুটি নিভে এলেও সম্প্রতি শেখ হাসিনার ভারত সফরের মধ্য দিয়ে বিষয়টিকে ‘রাজনীতিকরণ’ করার সুযোগ এসেছে বিরোধীদের। এক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়গুলো সামনে রেখে কর্মসূচি দেওয়ার আলোচনা এখন তুঙ্গে। তবে কোন ফরম্যাটে, কী ভাষায় এই বিষয়গুলোকে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে দলগুলোতে।

একাধিক দলের নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তারা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ভারতের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়গুলো সামনে রেখে কর্মসূচি দেবে।

২৮ জুন সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিএনপি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে দেশটির সঙ্গে সম্পাদিত ‘চুক্তি-সমঝোতাসমূহ’ দেশের স্বার্থবিরোধী অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের কর্মসূচি দেবে বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি শেখ হাসিনা ভারত সফরে দেশটির সঙ্গে ২টি চুক্তি, ৫টি নতুন সমঝোতা ও ৩টি চুক্তি নবায়নসহ ১০টি চুক্তি-সমঝোতা স্বাক্ষর হওয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সম্পাদিত চুক্তিগুলোতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

‘চুক্তিগুলো বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী হওয়ায় বিএনপি এই চুক্তিগুলো প্রত্যাখ্যান করছে। আমি স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, বিএনপির সৃষ্টির হয়েছে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে। বিএনপি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে আমরা ২৮ জুন সংবাদ সম্মেলন করবো। এরপর আমরা প্রয়োজন হলে যে কর্মসূচি নেবো, সেটা আপনারা জানতে পারবেন।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তবে আমাদের কথা পরিষ্কার, আমাদের এই যে বক্তব্য বা আমাদের যে আন্দোলন, এটা কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে নয়, এটা সরকারের বিরুদ্ধে।’

‘সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছে ভারতকে রিচ করতে বা তার কাছ থেকে দাবিগুলো আদায় করে নিয়ে আসতে। আপনি (সরকার) অভিন্ন নদীগুলোর পানির হিস্যা না পেয়ে চুক্তি সই করতে চাচ্ছেন। তিস্তার পানি আমাদের সবচেয়ে আগে দরকার, কিন্তু তিস্তা প্রকল্পের কাজ করতে চায় সরকার। কারণ, প্রকল্প হলে অনেক টাকা। সেই টাকাই তাদের (সরকার) আসলে উদ্দেশ্য।’

তিনি বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম, পরিষ্কার করেই মমতা ব্যানার্জি বলে দিয়েছেন পশ্চিম বাংলাকে বাদ দিয়ে এটা করা যাবে না, তারা দেবে না। এ জন্য আপনাকে তো অবশ্যই চাপ প্রয়োগ করা দরকার। ফারাক্কা তো একদিনে হয়নি, যতটুকু পাওয়া গেছে সেটা আন্দোলন করেই পাওয়া গেছে… ফারাক্কা ইস্যুটি দেশে-বিদেশে-ইউনাইটেড ন্যাশনসে তোলা হয়েছিল।’

‘এই সরকার এসব বিষয়ে (অভিন্ন নদী-তিস্তার পানির হিস্যা) জাতিসংঘে উত্থাপন করে নাই। আমরা অভিন্ন নদীর পানি পাচ্ছি না। এটাতে সমগ্র দেশের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে তাদের জীবন-জীবিকা থেকে… তাদের সব কিছু নির্ভর করে এসব নদীর ওপরে। কোটি কোটি মানুষ এই পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-তিস্তা এসব নদীর অববাহিকায় বাস করে। তাদের মাছ ধরা, পানি আনা সব কিছু নির্ভর করে এই নদীগুলোর ওপরে… সেখানে এসব নদীর হিস্যার ব্যাপারে কোনও কথাই নাই। দেখবেন, এসব চুক্তিতে কোথাও এই হিস্যা নিয়ে একটা কথাও নাই। এটা থেকে বোঝা যায় আসলে এই সরকার দেশপ্রেমিক নয়, বাংলাদশবিরোধী একটা সরকার।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনার চিকেন নেকটাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে করিডোর তৈরি করা, এটাতে বাংলাদেশের লাভ কী? কোথায়, বলতে পারেন? সম্পূর্ণ লাভ তার (ভারতের)। এটা ভারতবিরোধিতা নয়। আমাদের প্রশ্ন আমাদের স্বার্থে। দরজা কখনও বন্ধ হবে না, খোলা থাকবে। কানেক্টিভিটি আমার স্বার্থে হতে হবে, আমার স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে হবে না। আমার নদীর পানির ন্যায্য হিস্যাকে বাদ দিয়ে কোনও চুক্তি হবে না।’

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি অভিন্ন নদীর পানির ব্যাপারে কোনও কিছুই করছেন না। সীমান্তে মানুষ হত্যা করছে… আপনি কিছুই বলছেন না। আপনি কী করেছেন? চুক্তি করছেন। এই চুক্তিতে এসব বিষয়ে একটা কথা আছে… একটাও নাই।’

মির্জা ফখরুল জানান, গত ২৪ জুন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়গুলো বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতকে সব ধরনের সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে ভারতের কাছে বাংলাদেশের কোনও স্বার্থ আদায় করতে শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এটা ম্যান্ডেটবিহীন অবৈধ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ। এই সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে ভারতের ওপর নির্ভরশীল করে ফেলেছে।’

বামজোটের সভা

ভারত সফরে স্বাক্ষরিত এমওইউর বিস্তারিত প্রকাশ করুন: বাম জোট

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে স্বাক্ষরিত এমওইউ’র বিস্তারিত প্রকাশ করার দাবি করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। মঙ্গলবার (২৫ জুন) সেগুনবাগিচায় বাসদের অস্থায়ী কার্যালয়ে সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সভায় নেতারা বলেন, জনগণ জানে না কী ধরনের বোঝাপড়া, সম্মতি ও চুক্তি শেখ হাসিনা করেছেন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। দেশের সংবিধান অনুসারে অন্য দেশের সঙ্গে এই ধরনের কোনও চুক্তি বা এমওইউ করতে হলে, তা দেশবাসীর কাছে প্রকাশ করা জরুরি।’

‘ভারতকে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে রেল করিডোর দেওয়ার চুক্তি হয়েছে। অথচ নেপালে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের ভেতর দিয়ে ১৮ কিলোমিটার করিডোর ভারত আমাদের দেয়নি। ভারতকে একতরফা এত বড় করিডোর দেওয়া হলো যে সেটা চালু হলে ভারতের এক অংশ থেকে অপর অংশে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পূর্বের রেল যাতায়াতের তুলনায় দূরত্ব অনেক কমবে। এতে করে রেল ব্যবস্থাপনা, মালামাল পরিবহনসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের ওপর ভারত তার প্রভাব আরও বাড়াবে’ বলে মনে করে বাম জোট।

বাম জোটের সভা থেকে অবিলম্বে ভারতকে রেল করিডোর প্রদানের সিদ্ধান্ত বাতিল ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে পানিবণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়।

চীন যুক্ত না হলে ভারতের আগ্রহ দেখা যেতো না; সাইফুল হক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২১-২২ জুন ভারত সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। সংবাদ সম্মেলনে পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘তিস্তা চুক্তির পরিবর্তে এবার পানির ব্যাপারে বাংলাদেশকে একটা বুঝ দেবার জন্য তিস্তা নদী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায়  ভারত যুক্ত হবার কথা বলেছে। তিস্তাকে শুকিয়ে মেরে এখন তারা তিস্তার ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হতে চায়!  তাদের এই আগ্রহও দেখা যেতো না—যদি চীন তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনায় বিরাট বিনিয়োগের প্রস্তাব সহকারে আগ্রহ না দেখাতো।’

মঙ্গলবার সেগুনবাগিচায় নিজের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল হক বলেন, ‘সরকার ভারতের সঙ্গে সাধারণ কূটনৈতিক দরকষাকষির ক্ষমতা পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছে। ভারতের সাহায্যে ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে তারা ভারত তোষণনীতি গ্রহণ করেছে। ভারতের ওপর সরকারের নির্ভরতা যত বাড়ছে, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা ততই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল হক উল্লেখ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বরাতে জানা গেছে যে উভয় সরকার প্রধান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন। এসব নিয়ে দেশবাসীর কাছে সরকারের পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। ভারত দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়েও ঢুকে যাচ্ছে কিনা, তাও সরকারের স্পষ্ট করা দরকার।

সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল হক বলেন, ‘সমতা, ন্যায্যতা, আন্তর্জাতিক বিধিবিধান ও পারস্পরিক স্বার্থের স্বীকৃতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান করা জরুরি। কিন্তু  ভারতের প্রতি সরকারের অনুগত থাকার নীতি-কৌশলের কারণে বিভিন্ন দিক থেকে বাংলাদেশের বিপদ যেভাবে ঘনিয়ে আসছে, দেশের মানুষ কোনোভাবেই তা বরদাস্ত করবে না।’ তিনি জাতীয় স্বার্থরক্ষায় দেশের মানুষ এবং সব দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান।

দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে সুবিধা কেবল ভারতের: হেফাজত

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নয়, দাসত্বের সম্পর্ক তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করে হেফাজত। সংগঠনের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ‘আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সত্তা ধ্বংসকারী মোদি সরকারের সঙ্গে দেশবিরোধী কোনও চুক্তি বা সমঝোতা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।’

মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আরও বলেন, ‘ভারতকে রেল-ট্রানজিট দেওয়ার ব্যাপারে দেশের সার্বভৌমত্বের অধিকারী জনগণের সম্মতি আছে কি নেই, তা দেখা হয়নি। আমাদের বুকের ওপর দিয়ে ভারতের রেল আসা-যাওয়া করবে, কিন্তু এর বিনিময়ে ভারতের সঙ্গে তিস্তাচুক্তি করতেও ব্যর্থ হয়েছে সরকার। রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের যেকোনও চুক্তি বা সমঝোতা হতে হয় পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে। একতরফা স্বার্থের চুক্তি কোনোভাবেই সমমর্যাদা রক্ষা করে না।’

হেফাজত আমির আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নয়, দাসত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। তথাকথিত বন্ধুত্বের নামে আমাদের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারতের সুবিধাই শুধু দেখা হচ্ছে। কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে আমরাও তো অনেক অসুবিধায় আছি। আমাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো তো ভারত অনুভব করে না।’

‘২০১৩ সালে বাংলাদেশকে দখলে নেওয়ার ভারতীয় ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২১ সালে মুসলিমবিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক মোদি সরকারের নির্দেশে বিনা কারণে শত শত হেফাজত নেতাকর্মী ও দেশপ্রেমিক আলেম-ওলামাকে গ্রেফতার করে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে।’

কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আমির বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের কোনও রাজনৈতিক স্বার্থ নেই। কিন্তু দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত আসলে, ইসলামি চেতনা আক্রান্ত হলে হেফাজত নেতাকর্মী ও দেশপ্রেমিক আলেম সমাজ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারে না।’

চুক্তি বাতিলের দাবি ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন,  ‘ভারতের সঙ্গে যেকোনও চুক্তি দেশবাসী মানবে না। ভারতকে রেললাইন ব্যবহারের অনুমতি দিলে দেশের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতকে সবকিছু দিয়েই যাচ্ছেন। বিনিময়ে ভারত আমাদের প্রতিনিয়ত সীমান্তে লাশ উপহার দিচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে অভিন্ন নদীর বাঁধ ছেড়ে দিয়ে পানিতে চুবিয়ে মারছে। আর যখন পানির প্রয়োজন, তখন পানি বন্ধ করে দিয়ে মরুভূমিতে পরিণত করছে।’

ভোলায় দলের সভায় ফয়জুল করীম

ভোলায় মঙ্গলবার দলের এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ‘ভারত আমাদের সঙ্গে এমনই ব্যবহার করছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করে জাতিকে কী উপহার দিলেন? প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফলাফল জিরো। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার ব্যাপারে কোনও কথা বলতে পারেননি। ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করলেও কোনও আলোচনা নেই। সীমান্তে হত্যার ব্যাপারে কোনও আলোচনা নেই।’

‘১০টি সমঝোতা চুক্তি দেশবিরোধী নতুন দস্তখত। নতজানু ডামি সরকারের পক্ষে ভালো কিছু করা সম্ভব নয়। নয়াদিল্লির কালো চুক্তির নামে ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার ষড়যন্ত্র দেশবাসী মেনে নেবে না। ঐক্যবদ্ধভাবে দেশপ্রেমিক জনতা প্রতিহত করবে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় লাগামহীন দুর্নীতির কারণে মানুষ চরম কষ্টকর জীবনযাপন করছে’, বলেন ফয়জুল করীম।

অবিলম্বে ভারতের সঙ্গে রেলচুক্তিসহ বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সব চুক্তি বাতিল করার দাবি করেছে খেলাফত মজলিস। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, সম্প্রতি দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ভারতের এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ভারতীয় রেল চলাচলের যে সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ববিরোধী। যা বাতিল করতে হবে।’

এছাড়াও ভারত ইস্যুতে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি। দলটির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মনজু মঙ্গলবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তার দলে মনে করে, জনগণের সম্মতি ছাড়া একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর দিয়ে অন্য একটি দেশের ট্রেন চলাচলের চুক্তি সার্বভৌমত্ববিরোধী চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র।

/এসটিএস/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ধনকুবেরদের ওপর অতিরিক্ত করারোপের আহ্বান কংগ্রেসের
বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে চীন
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর: প্রত্যাশা-প্রাপ্তি নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
সর্বশেষ খবর
উজানে কমছে, ভাটিতে এখনও হাজারো পরিবার পানিবন্দি
উজানে কমছে, ভাটিতে এখনও হাজারো পরিবার পানিবন্দি
টিভিতে আজকের খেলা (১৩ জুলাই, ২০২৪)
টিভিতে আজকের খেলা (১৩ জুলাই, ২০২৪)
পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপরে, ফেরি চলছে ধীরে
পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপরে, ফেরি চলছে ধীরে
কেয়ার হোম নিয়ে ব্রিটেনের আদালতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য
কেয়ার হোম নিয়ে ব্রিটেনের আদালতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য
সর্বাধিক পঠিত
ভিটামিন বি-১২ কমে গেলে যেসব রোগের ঝুঁকি বাড়ে
ভিটামিন বি-১২ কমে গেলে যেসব রোগের ঝুঁকি বাড়ে
দুই টাইলসের মাঝে দাগ পড়লে কী করবেন
দুই টাইলসের মাঝে দাগ পড়লে কী করবেন
রাশিয়াকে সহযোগিতা নিয়ে ন্যাটোর অভিযোগে চীনের পাল্টা আক্রমণ
রাশিয়াকে সহযোগিতা নিয়ে ন্যাটোর অভিযোগে চীনের পাল্টা আক্রমণ
পুলিশ কর্মকর্তা কামরুলের স্ত্রীর নামে আছে পাঁচ জাহাজ
পুলিশ কর্মকর্তা কামরুলের স্ত্রীর নামে আছে পাঁচ জাহাজ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে ইতিবাচক মিয়ানমার
বিমসটেক রিট্রিটরোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে ইতিবাচক মিয়ানমার