বিদ্রোহের চাপ খুব বেশি সামলাতে হয়নি বিএনপিকে

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০০ আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৪৫

ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক। আর স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব। শুরু থেকেই কেবল রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাই নয়, এলাকার ভোটাররাও বলছিলেন— এই দুই সাইফুলের ভোট কাটাকাটিতে জিতে বেরিয়ে যাবেন আরেক সাইফুল আলম, জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী। হয়েছেও তাই, ঢাকা-১২ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মো. সাইফুল আলম। এ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হারিয়েছেন তিনি। সাইফুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন মোট ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট।

কেবল ঢাকা ১২ নয়, ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খান তার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী থেকে কম ভোট পেয়ে হেরেছেন। গণঅধিকার পরিষদ থেকে আসা রাশেদ খান নির্বাচনে ভোট পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪টি। এই আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আবু তালিব। পোস্টাল ভোটসহ তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট।

এরকম বেশ কয়েকটি উদাহরণ তৈরি হয়েছে এবার। সারা দেশে বেশকয়েকটি আসনে জামায়াতের কাছে আসন হারাতে হয়েছে বিএনপিকে। দেশের ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল ৭৮টিতে। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থীরা জিতেছেন ৫০টিতে। আর বিদ্রোহীরা মাত্র ৭টি। জামায়াত ও তার জোটের প্রার্থীরা জিতেছেন ২১ আসনে। মনোনয়নের পর থেকেই এই বিদ্রোহীদের আসনের বেশিরভাগ নিয়ে অনেক ধরনের শঙ্কা ছিল। সেই তুলনায় ততটা সামলাতে হয়নি।

বিএনপি রাজনৈতিক তাৎপর্য বুঝতে পারেনি উল্লেখ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বিএনপির একটা অংশ বিশেষত যুবদল, ছাত্রদল নীরবের পক্ষে কাজ করেছে। দলগতভাবে কিছু উদ্যোগ নিলেও তখন আর সময় ছিল না। বিএনপি নেতৃত্ব সেটা উপলব্ধি করতে পারেনি। ক্যাম্প বিভক্ত হলে ভাসমান ভোট অন্য জায়গায় চলে যায়। আমার আর নীরবের ভোট যুক্ত করলেই সেটা জামায়াতের জয়ী প্রার্থীর চেয়ে বেশি হয়। ওরা ভেবেছিল, নীরবও হয়তো রুমীন ফারহানার মতো জয় নিয়ে বের হয়ে আসতে পারবে।

সিলেট-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিল সবশেষ ১৯৯৬ সালে। ২০০১-এ জোটের হয়ে জামায়াত সেখানে প্রার্থী দেয়। এবারের নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জয়ী হয়েছেন জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আবুল হাসান। দ্বিতীয় অবস্থানে বিএনপি জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের উবায়দুল্লাহ ফারুক। বিএনপির বিদ্রোহী ছিলেন মামুনুর রশীদ।

নীলফামারী-৪ আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের আবদুল মুনতাকিম। ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫টি। বিএনপি দলীয় আবদুল গফুর সরকারের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা-৮১ হাজার ৫২৬টি। বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন রিয়াদ আরফান সরকার।

উল্লেখ্য, বিদ্রোহী থাকা যেসব আসনে বিএনপির দলীয়রা জিতেছেন সেগুলো হলো— ময়মনসিংহ-৩, ৭, ৯, ১০, টাঙ্গাইল-৪ ও ৫, নোয়াখালী-২, কিশোরগঞ্জ-১, কুষ্টিয়া-১, নাটোর-৩, হবিগঞ্জ-৪, পিরোজপুর-২, নেত্রকোনা-৩, পঞ্চগড়-২, নাটোর-১, রাজবাড়ী-২, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-২, নওগাঁ-১, ৩, ৬, নড়াইল-১, বাগেরহাট-৩, ঝালকাঠি-১, টাঙ্গাইল-১, জামালপুর-৩, ময়মনসিংহ-৮, ১১, নেত্রকোনা-৩, মুন্সিগঞ্জ-১, ৩, ঢাকা-৭, ১৮, নরসিংদী-৫, গোপালগঞ্জ-২, মাদারীপুর-২, সুনামগঞ্জ-৩, ৪, মৌলভীবাজার-৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, ৫, কুমিল্লা-৯ এবং পার্বত্য খাগড়াছড়ি।

নির্বাচনের আসনভিত্তিক বেসরকারি ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই ভোট ভাগাভাগির ঘটনায় জামায়াতের কাছে বিএনপি শুধু খুলনা বিভাগেই ৮টি আসন হারিয়েছে। বিএনপির বিদ্রোহীরা সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম বিভাগে তিনটি, ঢাকা বিভাগে দুটি, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে একটি করে আসন জিতেছেন। আলোচিত বিদ্রোহীদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন রুমিন ফারহানা। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জুনায়েদ আল হাবিব পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। কুমিল্লা-৭ আসনে বিএনপির দলীয় রেদোয়ান আহমেদ পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট। বিপরীতে দলটির বিদ্রোহী আতিকুল আলম শাওনের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৯১ হাজার ৬৯০টি।

প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। দেশের মোট সংসদীয় আসনগুলোর মধ্যে ৭৮টিতে বিএনপির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। বলা হচ্ছিলো, এসব আসনে দলীয় প্রার্থীরা চাপে থাকবেন। কিন্তু এর মধ্যে ৩৮টি আসনে বিএনপি চাপে পড়ে যেতে পারে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পরপরই বিএনপি ২১ জানুয়ারি ৫৩ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এর মধ্যে রয়েছেন রংপুর-৩, রাজশাহী-৮, খুলনা-৬, বরিশাল-২, ঢাকা-৯, ময়মনসিংহ-১০, ফরিদপুর-৭, সিলেট-৫, কুমিল্লা-৬ ও চট্টগ্রাম-৬ আসনের বিদ্রোহীরা।

/ইউআই/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
পদ্মা ব্যারাজ থেকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, প্রধানমন্ত্রীর কাছে যত প্রত্যাশা রাজশাহীবাসীর
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে কৃত্রিম পা পেলেন ছাত্রদলের সাবেক নেতা সাইফুল
সর্বশেষ খবর
আজকের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?
আজকের বাজারে স্বর্ণের ভরি কত?
নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানালেন জেডি ভ্যান্স
নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানালেন জেডি ভ্যান্স
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, ৫ পুলিশসহ আহত ৩০
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, ৫ পুলিশসহ আহত ৩০
জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃত্বে নাঈম-ইমরান
জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতৃত্বে নাঈম-ইমরান
সর্বাধিক পঠিত
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
ইউএনওর সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায়, তিন নারীসহ আটক চালক
ইউএনওর সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায়, তিন নারীসহ আটক চালক