জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা আজ অনেক বিষয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। বিরোধী দল থেকে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথে ফায়সালা হবে। আমার কাছে মনে হয়, জনগণেকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জুলাই সনদ আমরা স্বাক্ষর করেছি একসঙ্গে। আমরা যে সব দল আন্দোলন করেছি তারা সবাই স্বাক্ষর করেছি। আমরা বারবার করে বলছি জুলাই সনদে প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়িত করবো। এটাতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’’
গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘যে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে, সেই গণভোটের একটা অংশে আমাদের সঙ্গে কোন আলোচনাই হয়নি। আমরা বারবার বলতে চাইছি যে, উচ্চকক্ষে অনুপাতিক হারে ভোটে যে প্রতিনিধিত্ব হবে সেই বিষয়টাতে আমরা কখনোই একমত হইনি এবং সে সময়ে স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম আমি নিজেই যে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সেই সংস্কার কমিশন-রিফর্ম কমিশন তারা যে কথাগুলো সেদিন যেভাবে নিয়ে এসছেন আমাদের কনসেন্ট ছাড়া তারা নিয়ে আসছেন।’’
তিনি বলেন, ‘‘জুলাই সনদের বইটা যদি আপনারা পড়েন সেখানে প্রতিটি জায়গায় বলা আছে, যে দল নির্বাচিত হবে তারা তাদের ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী সেটাকে বাস্তবায়িত করবে। আমরা বারবারই এই কথা বলে এসেছি এবং আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা ৩১ দফাতে যেমন কমিটেড ঠিক তেমনিভাবে কমিটেড হচ্ছি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি সেভাবে বলছি। এখানে বিরোধী দল সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে।’’
‘আমরা সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন চায়’
মির্জা ফখরুল বলেন, বলেন, ‘‘এখন যে বিষয়গুলো নিয়ে তাদের কথা, সংবিধান সংস্কার আর সংবিধান সংশোধন। আমরা বরাবরই বলে এসছি, সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমরা সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি।”
তিনি বলেন, ‘‘জনগণ আমাদের যে ভোট দিয়েছে, ম্যানিফেস্টোর মধ্যে যেটা ছিল সেই ম্যানিফেস্টোতে আমরা দুই-তৃতীয়াংশ বোট পেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি। সুতরাং ওই জায়গায় কোনও রকমের বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।’’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় ১৭শ’ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বিএনপির কয়েক হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে। সুতরাং এই কথাগুলো বারবার করে আমাদের বলতে হয় এজন্য যে, অনেকে এটা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।”
জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথ আয়োজনে অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষে প্রয়াত অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই স্মরণ সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, এমাজ উদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল লফিত মাসুদ, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, আবুল কাশেম হায়দার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুদার, এম আবদুল্লাহ, অধ্যাপক ওমর ফারুক, অধ্যাপক শেখ সাদী ও কবি নাহিদ নজরুল বক্তব্য রাখেন।









