বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে এক ডজনের বেশি নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, নতুন কমিটি গঠনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্লিন ইমেজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এদিকে শীর্ষ পদপ্রত্যাশীরা শেষ মুহূর্তের সাংগঠনিক তৎপরতা ও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০২৪ সালের ১ মার্চ মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে সাত সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে একই বছরের ১৫ জুন ৩৯ জন সহ-সভাপতি ও ১১১ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৬০ সদস্যের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
বর্তমান কমিটির অধীনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, মহানগর ও মেডিকেল কলেজসহ শতাধিক সাংগঠনিক ইউনিট পুনর্গঠন করা হয়। তবে ২০২৬ সালের ১ মার্চ কেন্দ্রীয় কমিটির নির্ধারিত দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব আনতে কাজ করছে বিএনপির হাইকমান্ড।
বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আগস্টে বিভিন্ন ইস্যু আছে, নয়তো নতুন কমিটি আগস্টেই হতো। তবে এই কমিটির কার্যক্রম আগস্টেই শেষ হচ্ছে। কমিটির তালিকা তারেক রহমানের টেবিলে। আশা করি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কমিটি হবে। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’
যাদের নাম আলোচনায়
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, মনজুরুল আলম রিয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, রাজু আহমেদ, মমিনুল ইসলাম জিসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।
এ ছাড়া শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন আনোয়ার পারভেজ, মো. খোরশেদ আলম সোহেল, এইচ এম আবু জাফর, ইজাজুল কবির রুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফ প্রধান শুভ, মাহমুদ ইসলাম কাজল, আজিজুল হক জিয়নসহ আরও অনেকে।
বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া এর আগে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা ইয়াহইয়া ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হন। ২০২৩ সালে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলে ছাত্রদলের সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শাহবাগ, বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।
বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে গ্রেফতার হয়ে দুই মাস কারাগারে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠনকে সুশৃঙ্খল করা এবং ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিতের বিরুদ্ধে ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে ৯টি মামলা রয়েছে। তিনি রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং দুটি মামলায় সাজাভোগ করেছেন। কয়েকটি মামলা এখনও বিচারাধীন। ২০১৫ সালে অবরোধ চলাকালে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পুলিশ তাকে ফেলে দিলে প্রায় ১০ মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল এর আগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-স্বাস্থ্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে এবং তিনি একবার গ্রেফতার হন। বর্তমানে তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে এফসিপিএস অধ্যয়নরত।
শীর্ষ পদে নিজের প্রত্যাশা সম্পর্কে তৌহিদুর রহমান আউয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কমিটি গঠন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। ছাত্রদলের যারা পদপ্রত্যাশী, তারা সকলেই যোগ্য। এর মধ্য থেকে আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যাদের নির্বাচন করবেন, আমরা সবাই তাঁকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। আমাদের মাঝে নেতৃত্বের সুস্থ প্রতিযোগিতা আছে। তবে কোনো অসুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই।’
