জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ভাগিনারা ঘুষ-বাণিজ্য চালান। কেউ ওসি বা এসপি হতে চাইলে তার ভাগিনাকে ঘুষ দিলেই হবে। কিন্তু সালাহউদ্দিন আহমদ তো এটাই করেছেন। দেশে আবার সংকট তৈরি হলে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। সংকটের সময় যেমন তারা দেশে ছিলেন না, তেমনি পরে আবার অধ্যাপক হিসেবে আবির্ভূত হবেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) আয়োজিত জুলাই সনদের এক বছর উপলক্ষে মুক্ত আলোচনায় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিএনপির মুখে হচ্ছে জুলাই সনদ আর অন্তরে আওয়ামী লীগ। তারা মুখে বারবার বলছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন; কিন্তু ৬৯ নম্বর প্রস্তাবনায় তো কোনও দলেরই নোট অব ডিসেন্ট ছিল না। তাহলে এটি বাস্তবায়নে আপত্তি কীসের?
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের ৬২ নম্বর প্রস্তাবে তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের কথা বলা হয়েছিল। নাগরিকরা যাতে সহজে সরকারি তথ্য পেতে পারেন, সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তথ্য অধিকার আদেশ জারি করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, সরকারি কেনাকাটায় অনিয়ম ও দুর্নীতি গোপন করতে না দেওয়া এবং এসব বিষয়ে অডিটের ব্যবস্থা করা। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসেই সেই অধ্যাদেশ বাতিল করে দিয়েছে।
হাসনাত বলেন, দেখবেন, বিএনপি মন্ত্রিসভা ও সংসদের সবাই বারবার বলছেন, তারা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। কিন্তু একবার জিজ্ঞেস করে দেখুন, জুলাই সনদের কোন বিষয়টি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন? ছেলের ঠিকাদারি, ছেলের নামে ইউনিয়ন করা আর ভাইয়ের মাধ্যমে ক্যাপ্টেন আনা ছাড়া বিএনপি আর কোন বিষয়টি বাস্তবায়ন করেছেন? অথচ ইতোমধ্যে জুলাই সনদের ১৭টি ধারা তারা ভঙ্গ করেছে।
হাসনাত অভিযোগ করেন, বিএনপি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের অর্ধেক ফলাফল মেনেছে, আর অর্ধেক মানেনি। আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৪ সালে আসন চুরি, ২০১৮ সালে মধ্যরাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালে আমি-ডামি নির্বাচনের অভিযোগ ছিল। আর বিএনপি নির্বাচনের ফলাফল চুরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।