বিদিশার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় জিডি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৫৫, নভেম্বর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩০, নভেম্বর ২৩, ২০১৯

বিদিশা সিদ্দিকী (ছবি সংগৃহীত)প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পার্কে (এরশাদের বাসভবন) অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে এই জিডি করেছেন এরশাদ ট্রাস্টের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খালেদ আখতার।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) বিকালে বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদ আখতার নিজেই এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘জিডিতে উল্লেখ করেছি, এরশাদের মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট পার্ক যথারীতি ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাস্টের ওই বাসায় গত ১৪ নভেম্বর এরশাদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিদিশা সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে প্রবেশ করেন। সেখানে তার প্রবেশের আইনগত কোনও অধিকার নেই।’
বিদিশা প্রেসিডেন্ট পার্কে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে অবস্থান করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করে খালেদ আখতার বলেন, ‘শুধু তা-ই নয়, তিনি এরিককে প্রভাবিত করে তাকে দিয়েও অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য প্রচার করে আসছেন।’
খালেদ আখতার বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পার্কের ফ্ল্যাটসহ এরশাদের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ট্রাস্টের অধীনে, যা তার ছেলে এরিকের ভরণপোষণ ও জনকল্যাণে ব্যয় হবে। এর বাইরে ট্রাস্টের সম্পদের ওপর আর কারও অধিকার নেই।’
বিদিশা বেআইনিভাবে প্রেসিডেন্ট পার্কে অবস্থানের কারণে এরিকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা আছে বলেও দাবি করেন খালেদ আখতার।

জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে বিদিশার তোলা সম্পত্তি লোভের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সম্পত্তি দখল ও অপব্যবহারের কোনও সুযোগ নেই। ট্রাস্টে পরিষ্কার করে দেওয়া আছে, এটা কেউ বিক্রি ও হস্তান্তর করতে পারবে না। এমনকী এরিকও তা করতে পারবে না। তাহলে অপব্যবহার করার সুযোগ থাকলো কোথায়?’

এরশাদের ট্রাস্টের সম্পত্তির মূল্য ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা হবে বলেও জানান খালেদ আখতার।

এরিকের অভিভাবকত্ব নিয়ে বিদিশার আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একবার অভিভাবকত্বের মামলা করে বিদিশা হেরে গেছেন। এখন যদি সে মা হিসেবে আবার আইনের আশ্রয় নেন, তাহলে দেখবো আইনিভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া যায়। এখনই আগাম বলা যাচ্ছে না। আইন যদি বলে, বিদিশা তার ছেলের সঙ্গে থাকবেন, তাহলে সেখানে তো আমাদের বক্তব্য আছে।’
খালেদ আখতার আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমরা এখনও এরিকের অভিভাবক। বিদিশা এখন সাময়িকভাবে অবস্থান করছেন। সেটার তো কোনও আইনগত ভিত্তি নেই। এখন অভিভাবকত্ব নিয়ে তারা যদি আইনের দিকে যায়, আমরা মোকাবিলা করবো।’

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে এরশাদ ও বিদিশার বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০০৯ সালে এরিকের অভিভাবকত্বের দাবিতে আদালতে যান বিদিশা। ২০১১ সালে দেওয়া আদালতের রায়ে তিনি হেরে যান। অটিস্টিক এরিক বড় হতে থাকেন এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কে।

/এএইচআর/এইচআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ