খালেদা জিয়ার জামিন: আদালত-রাজপথ দুদিকেই থাকবে বিএনপি

Send
সালমান তারেক শাকিল ও আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ১৮:৪৯, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৫, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আবারও খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। দলের চেয়ারপারসনের জামিন না হওয়ায় নেতারা ‘শকড’ হলেও এ ব্যাপারে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই থাকতে চায় বিএনপি। দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা অর্জনের আগপর্যন্ত প্রয়োজনে বারবার জামিনের জন্য আদালতে যাওয়া হবে। পাশাপাশি বিক্ষোভ ও সমাবেশ কর্মসূচিও পালন করবে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে দলটির সিনিয়র কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে বিএনপির এমন মনোভাবের কথা জানা গেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি নিয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত হবে, তা নিয়ে এখনও আলোচনা হয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে শুরুতে একটা শঙ্কা ছিল। বারবার জামিন বাতিলের মধ্যে দিয়ে সেটা আরও পাকাপোক্ত হলো। এরপরও আমরা আপিল বিভাগ পর্যন্ত যাবো।’
তিনি বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ায় যেহেতু খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে, ফলে আমাদের এখন অন্য পথে যেতে হবে। সেটা রাজপথসহ অন্য সবগুলো পথে চেষ্টা করে তাকে মুক্ত করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন বাতিল করেন হাইকোর্ট। এর প্রতিবাদে এদিন বিকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। আগামী শনিবার ঢাকাসহ সারাদেশের জেলা ও মহানগরে সমাবেশ ডাকা হয়েছে।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, হাইকোর্টে জামিন আবেদন বাতিলের পর দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। নেতারা ভেবেছিলেন, আদালত থেকে অন্ততপক্ষে একটি গাইডলাইন দেওয়া হবে। সূত্রগুলোর ভাষ্য, এই মুহূর্তে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যেতে চায় না বিএনপি। দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা করা। আর সে বিষয়ে আদালত তার সম্মতির ওপর নির্ভর করতে বলেছেন।
এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছিলেন, ‘অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট তিনি নিচ্ছেন না, কারণ সাইড ইফেক্ট কিছু আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি একা, পরিবার-পরিজন, স্বজন ছাড়া এমন একটা স্পেশাল ওষুধ দেবো। তাকে বোঝানো হয়েছে, তিনি তৈরি থাকলে দেবো।’

আরও পড়ুন...

শনিবার সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ

খালেদা জিয়ার মনোভাব জানতে তৃতীয় পক্ষ খুঁজছে বিএনপি

 

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশের আদালতগুলো তো স্বাধীনভাবে রায় দিতে পারেন না। তাই খালেদা জিয়ার ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা সবসময় ক্ষীণ ছিল।’
তিনি বলেন, ‘আইনিভাবে বেগম জিয়ার মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু আছে, সেটা আইনজীবীরাই ভালো বলতে পারবেন।’
আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাইকোর্টের আদেশ বিষয়ে আপিল বিভাগে আপিল করতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে। তবে এর মধ্যে খালেদা জিয়ার সম্মতি পেলে প্যারোল আবেদনের প্রস্তুতি শুরু করা হবে। যদিও প্যারোল নিয়ে সিনিয়র আইনজীবী থেকে নেতাদের অনেকেরই সন্দেহ, বিএনপি চেয়ারপারসন এ থেকে বিরত থাকবেন। কোনও কোনও নেতা অবশ্য এখনও প্যারোলের পক্ষেই আছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘এখন অ্যাপিলেড ডিভিশনে যেতে হবে। সম্ভবত নিয়ম রয়েছে ৩০ দিনের মধ্যে যাওয়ার। আমরা বারবার চেষ্টা করবো। রাজপথেও আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এখন আমাদের করণীয় কী হবে, সেটা তো আমি একা বলতে পারবো না। আমি একা কিছু করতেও পারবো না। কারণ, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার বিষয়টি আমার একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না। দলকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কীভাবে তাকে আমার মুক্ত করবো।’
‘আজ জামিন আবেদন খারিজ হওয়ার মধ্য দিয়ে আইনিভাবে খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ বন্ধ হয়ে গেলো’ বলে মন্তব্য করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের একজন সদস্য। তিনি বলেন, ‘এখন হয় প্যারোলে তাকে মুক্ত করতে হবে, আর অন্য পথ হলো রাজপথের আন্দোলন। কিন্তু দলের সাংগঠনিক অবস্থা এবং দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এই মুহূর্তে আন্দোলন যাওয়ার বিপক্ষে। কারণ, সরকারের এখনও ৪ বছরের মতো মেয়াদ আছে। ফলে এই দীর্ঘ সময় আন্দোলনকে টেনে নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দল থেকে কোনও উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তা নেই। সেটা করতে হবে তার পরিবার ও ছেলে তারেক রহমানকে। এছাড়া প্যারোলে মুক্তি নেবেন কিনা, এ ব্যাপারে খালেদা জিয়ার রাজি হওয়ারও বিষয় আছে।’
দলের একাধিক সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক—উভয় প্রক্রিয়াতেই চলবে। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরভাবে সাংগঠনিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সাধারণ মানুষ এ দাবিকে কীভাবে দেখে, তাও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে মানুষের নিত্যদিনের সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে অন্যান্য দলের সঙ্গে দাবি ও ইস্যুর সমন্বয়ের চেষ্টা করবে বিএনপি।
জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এখন আমরা স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে করণীয় নিয়ে আলোচনা করবো।’

/এইচআই/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ