আওয়ামী সিন্ডিকেটের মুনাফার জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়লো: রিজভী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:০৯, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:২২, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০

রুহুল কবির রিজভীবিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাণিজ্যে মন্দা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দর পতনের মধ্যেই দেশে সব পর্যায়ে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য বাড়ানোর একমাত্র কারণ হলো লুটপাট। দামবৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রাহকদের পকেট থেকে বছরে দুই হাজার কোটি টাকা লুটে নেবে আওয়ামী সিন্ডিকেট। তাদের মুনাফার জন্যই সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে।’

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস দশার কথা বিবেচনা না করে সম্পূর্ণ গণবিরোধী এই নিশিরাতের সরকার বিদ্যুৎ ও ওয়াসার পানির দাম আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে। যখন ইচ্ছা বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারবে সরকার- এই স্বেচ্ছাচারী আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করিয়ে জনগণের ওপর ভয়াবহ জুলুম চালাচ্ছে এই লুটেরা শাসকরা। গণমানুষ, ভোক্তা অধিকার কিংবা ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর যুক্তি-অনুরোধ কোনও কিছুরই তোয়াক্কা না করে যখন মন চাচ্ছে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটছে। জনগণকে শোষণ করে আওয়ামী সিন্ডিকেটের মুনাফার জন্য সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গতবার কুইক রেন্টালগুলো উৎপাদন না করলেও ভাড়া দিতে হয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এবছর দিতে হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা ক্ষমতাসীন দলের ব্যবসায়ীরা পাচার করে দিচ্ছে বিদেশে।’

আওয়ামী লীগের আমলে এই নিয়ে ৯ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে সাধারণ মানুষের। শিল্প মালিকদেরও- ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি দশা। দেশীয় শিল্পকারখানা ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধের মাধ্যমে দেশকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর মাত্র আট মাসের মাথায় আবার বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি দেশের শিল্পের শক্তি ধ্বংস করে দেবে। ক্ষুদ্র শিল্পদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিকে গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘অন্যথায় বিদ্যুৎ, ওয়াসার পানির দামবৃদ্ধিসহ গণবিরোধী সব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।’

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজের প্রতিবাদে ২৯ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ঢাকায় ২টায় নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান রিজভী।

 

/এএইচআর/এফএস/

লাইভ

টপ
X