‘সরকারকে জনরোষ থেকে রক্ষার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:২৯, মে ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৫, মে ০৯, ২০২০

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

করোনা মহামারির সময়ে সারাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যাপক অপব্যবহার চলছে অভিযোগ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি সুস্পষ্ট ভাষায় সরকারকে জানাতে চায়, বর্তমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কেবল সরকারকে জনরোষের আগুন থেকে রক্ষার জন্যই অপব্যবহার চলছে। এই মুহূর্তেই রাষ্ট্রের এই অন্যায় বন্ধ করতে হবে। শনিবার (৯ মে) রাজধানীর গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।
ফখরুল বলেন, ‘এই গণবিরোধী আইন বাতিল করতে হবে। করোনা মহামারির এই সময়ে সারাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের অপপ্রয়োগ করে গ্রেফতার ও হয়রানির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতারকৃত ‘প্রিজনার্স অফ কনসায়েনস’সহ সকল রাজবন্দি, আদালত পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে না খোলা পর্যন্ত হত্যা-ধর্ষণসহ জঘন্য অপরাধ ছাড়া সকল প্রকার গ্রেফতার বন্ধ রাখা অথবা বিকল্প হিসেবে গ্রেফতারকৃতদের আদালত খোলার পর আত্মসমর্পণের শর্তে মুচলেকায় মুক্তি, লঘু অপরাধে কারাবন্দি ও রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতারসহ বয়স্ক ও মহিলা বন্দিদের মুক্তি দিতে আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া দলের সিনিয়র নেতা আবদুস সালাম পিন্টু ও লুৎফুজ্জামান বাবর, ছাত্রনেতা ইসহাক সরকার, শেরপুর জেলার নেতা হযরত আলীসহ দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা নেতাদের মুক্তির দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।
একইসঙ্গে সব কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার আওতায় আনা এবং সংক্রমিতদের যথাযথ চিকিৎসার দাবিও জানান মির্জা ফখরুল।
করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নতুন করে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, লেখক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মানুষজন গ্রেফতারের ঘটনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে একটি কার্যকর মানহানি আইন থাকা সত্ত্বেও নির্যাতন ও হয়রানির উদ্দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকেই বারবার ব্যবহার করছে সরকার। মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে পেছনে হাতমোড়া অবস্থায় হ্যান্ডকাফ পড়া সাংবাদিকের (শফিকুল ইসলাম কাজল) ওই ছবিসহ সংবাদ প্রমাণ করে কিভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে সরকার সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে চলছে।
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার তো দূরে থাকুক মানুষ তার কষ্টের কথাও যাতে ভার্চুয়াল জগতে প্রকাশ করতে না পারে তার জন্য একের পর এক পরিপত্র জারি করে চলেছে সরকার।’ সংবাদ সম্মেলনে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।

/এমআর/

লাইভ

টপ