‘দেশের পাটকল শিল্প ধ্বংস করা পশ্চিম বাংলার মৃতপ্রায় পাটকলগুলো চালুর নীলনকশার অংশ’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:২০, জুন ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৩, জুন ৩০, ২০২০

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকরোনা মহামারিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ নেওয়া দূরে থাকুক, সরকার বর্তমানে কর্মে নিযুক্ত মানুষকেও কর্মচ্যুত করছে বলে অভিযোগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জোটের নেতারা বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত দেশের পাটকল শিল্পকে ধ্বংস করে পশ্চিম বাংলার মৃতপ্রায় পাটকল কারখানাগুলো চালু করার নীলনকশার অংশবিশেষ বলে মনে হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী ৫১ হাজার শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে এক বিবৃতিতে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা এসব কথা বলেন।

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেন, পাটকলগুলোতে বর্তমানে স্থায়ী শ্রমিক আছেন ২৪ হাজার ৮৮৬ জন। এছাড়া তালিকাভুক্ত বদলি ও দৈনিকভিত্তিক শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। অর্থাৎ ৫১ হাজার কর্মীর পরিবারের অন্তত আড়াই লাখ মানুষের জীবনে এক চরম বিপর্যয় তৈরি করা হচ্ছে। এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যখন করোনার ভয়ঙ্কর অভিঘাতের ফলে কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ নেওয়া দূরে থাকুক, সরকার বর্তমানে কর্মে নিযুক্ত মানুষকেও কর্মচ্যুত করছে।

বিরোধী এই জোটের নেতারা বলেন, সরকার বলছে- পাটকলগুলো পরবর্তী সময়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় চলবে। সরকারের অতীত রেকর্ড থেকে এই আশঙ্কা করার খুবই যৌক্তিক কারণ আছে, শেষ পর্যন্ত এই পাটকল এবং এর সব সম্পত্তি সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হবে নামমাত্র মূল্যে । সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের পাটকল শিল্পকে ধ্বংস করে পশ্চিম বাংলার মৃতপ্রায় পাটকল কারখানাগুলো চালু করার নীলনকশারও অংশবিশেষ বলে প্রতীয়মান হয়।

গত ৪৮ বছরে সরকারকে পাট খাতে ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা লোকসানের কারণে পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত - পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবের এই বক্তব্যের প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বলেন, অথচ এক ওয়াট বিদ্যুৎ না কিনে গত ১০ বছরে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ সরকারের অতি ঘনিষ্ঠ বিরাট কয়েকজন ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকা । পাট খাতে যে লোকসান হয় সেটার জন্য শ্রমিকরা কোনোভাবেই দায়ী নয়। রাষ্ট্রায়ত্ত আর সব খাতের মতো প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অযোগ্যতার কারণেই এই শিল্পগুলোতে লোকসান হয় । সেই ব্যর্থতার মূল্য আজ দিতে হচ্ছে শ্রমিক ভাইদের।

পাঠকল বন্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার দাবি জোটের নেতারা বলেন, এই সিদ্ধান্ত রদ করার লক্ষ্যে পাটকলগুলোর শ্রমিকদের যে কোনেও কর্মসূচির প্রতি আমরা সংহতি জানাই।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন জাতীয় ঐক্যফন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

 

/এএইচআর/এফএস/

লাইভ

টপ