জাপায় কী হচ্ছে?

Send
আদিত্য রিমন
প্রকাশিত : ২২:০১, জুলাই ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪২, জুলাই ৩০, ২০২০

জাতীয় পার্টিজাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মতো দল পরিচালনায় হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধারা অব্যাহত রেখেছেন তার ছোট ভাই দলের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। জাপা নেতারা বলছেন, হুট করে মহাসচিব পদ থেকে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে সরিয়ে দিয়ে দলকে কোনও একটা বার্তা দিয়েছেন চেয়ারম্যান। যদিও সেটা কী এখনও দলের নেতাকর্মীদের কাছে পরিষ্কার নয়। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার যে এরশাদ মারা গেলেও দল পরিচালনায় তার নীতি এখনও বহাল রয়েছে। ফলে চেয়ারম্যান পদটি ছাড়া অন্যদের পদ-পদবি যেকোনও সময় পরিবর্তন হতে পারে।

জাপা নেতারা বলছেন, এরশাদের মৃত্যুর পর পদ-পদবি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে জি এম কাদের ও রওশন এরশাদের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ, এমনকি কথা বলা বন্ধ ছিল। কিন্তু গত ১৪ জুলাই এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর দিন রওশন এরশাদের বাসায় যান জি এম কাদের। সেখানে তাদের দুইজনের মধ্যে কথাবার্তাও হয়েছে। একইদিন আবার এরশাদের ছেলে এরিখ এরশাদের মা বিদিশা সিদ্দিকীর তত্ত্বাবধানে প্রেসিডেন্ট পার্কের মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়েছিলেন রওশন এরশাদের ছেলে সাদ এরশাদ। কিন্তু বিদিশার প্রেসিডেন্ট পার্কে থাকা এবং জাপার রাজনীতিতে তিনি ফিরে আসুক—এর কোনোটাকে ভালো চোখে দেখছেন না জি এম কাদের। ফলে, একদিকে রওশনের পরিবারের সঙ্গে কাদেরের সম্পর্কের উন্নতি, অন্যদিকে তার শত্রুর সঙ্গে রওশন পরিবারের সম্পর্কের উন্নয়ন রাজনীতির কোনও মারপ্যাঁচ কিনা তা বলা মুশকিল। জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে কী হচ্ছে বা আগামীতে কী হতে পারে, সেটা এখনি বলা মুশকিল হয়ে পড়েছে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান মহাসচিবকে সরিয়ে দিয়েছেন। নতুন আরেকজনকে মহাসচিব করেছেন। এখানে কার কী বলার আছে। আর দল আগের মতোই চলছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার একজন কো-চেয়ারম্যান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর রওশন এরশাদ ও জি এম কাদের এক হয়েছেন। তারা এখন একে-অপরের সঙ্গে কথা বলেন। আবার রাঙ্গাকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াতে রওশন এরশাদের সমর্থনও রয়েছে। ফলে, জাপার রাজনীতিতে নতুন কোনও পরিবর্তন আসতে পারে। এদিকে, এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকী নতুন করে জাপার রাজনীতিতে আসছেন বলেও শোনা যাচ্ছে। কিন্তু তার সঙ্গে জি এম কাদেরের দ্বন্দ্ব এখনও মেটেনি। অন্যদিকে, রওশনের পরিবারের সঙ্গে বিদিশার সম্পর্ক বর্তমানে ভালো। তাই জাপার আগামী দিনের রাজনীতি নিয়ে আগাম ধারণা করা ঠিক হবে না।’

বিদিশা সিদ্দিকী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রংপুরের নেতারা চাচ্ছেন আমি রাজনীতিতে আসি। রাজনীতি আমি অবশ্যই করবো। তবে কখন রাজনীতিতে আসবো, সেটা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।’

বিদিশা সিদ্দিকী জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে ফিরে আসা সম্ভব কিনা জানতে চাইলে রওশন এরশাদের ছেলে জাপার যুগ্ম মহাসচিব সাদ এরশাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা আমি কীভাবে বলবো। তবে, দলের চেয়ারম্যান চাইলে পার্টির রাজনীতিতে আসতে পারেন। সেটা চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’

তবে এসব বিষয় জানতে একাধিকবার জি এম কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 আরও পড়ুন- ‘জাপা একমাত্র সম্ভাবনাময় দল’

রওশনসহ সিনিয়র নেতাদের সম্মতিতেই রাঙ্গার স্থলে বাবলু
পদ হারানোর কারণ জানেন না রাঙ্গা

 

এদিকে জাপার একটি সূত্র বলেছে, মসিউর রহমান রাঙ্গাকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় রংপুরের নেতাদের মধ্যে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিন্তু জাতীয় পার্টির কোনও আঞ্চলিক দল নয়। সারা দেশে এই দলের কার্যাক্রম রয়েছে। তবে, এটা ঠিক যে, রংপুর অঞ্চলে এখনও সবচেয়ে জনপ্রিয় দল জাতীয় পার্টি। তাই বলে দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিব দুই জনকেই রংপুরের হতে হবে এমন কোনও নিয়ম নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাপার এক প্রেসিডিয়াম সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাঙ্গাকে মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কী চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের ছিল, নাকি অন্য কোনও মহলের সিদ্ধান্ত তিনি বাস্তবায়ন করেছেন সেটা তো বলা মুশকিল। কারণ, অতীতেও দেখা গেছে এই দলে এমন অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে; যা বাইরে  থেকে চাপিয়ে দেওয়া ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে এখনও অনেক কিছু চলছে। ফলে, দলের মধ্যে কখন কে সামনে আসবে, আবার কে পেছনের সারিতে চলে যাবে তা ধারণা করাও যাবে না।’

/আইএ/এফএএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ