শফিক রেহমান: গ্রেফতার তত্ত্বে নতুন মোড় ঢাকায় ২৩ মার্চের বৈঠক

Send
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৫৬, এপ্রিল ১৯, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:০৯, এপ্রিল ২০, ২০১৬

শফিক রেহমানপ্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের চক্রান্তের অভিযোগে প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হলেও এর নেপথ্যে একটি বিশেষ গোপন বৈঠকের বিষয় রয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপির একটি সূত্র। আর ওই বৈঠকের কারণ ও আলোচনার বিষয়বস্তু জানতেই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রের দাবি, গত ২৩ মার্চ রাজধানীর গুলশানে ইউরোপ ও এশিয়ার দুটি বড় দেশের ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন শফিক রেহমান। ওই বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দু-একটি দেশের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে আলোচনা হয়। এ বৈঠকের খবর এশিয়ার একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পারে। পরে এই বৈঠক নিয়ে কাজ শুরু করে বাংলাদেশের একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা।
সূত্রের দাবি, বৈঠকে ব্রিটেনের নাগরিক ও বাংলাদেশের প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানের সঙ্গে ওই দুই রাষ্ট্রদূতের বৈঠকটি দীর্ঘস্থায়ী ছিল। তবে বৈঠকের স্থান ও সময় নিয়ে সূত্র নির্দিষ্ট কোনও তথ্য দিতে পারেননি। এ বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, উনার তো অনেকের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ ছিল। বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে রিলেশন ভালো। কিন্তু এ ধরনের বৈঠকের খবর আমার জানা নেই।
যদিও পুলিশ প্রশাসন বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার পরিকল্পনার অভিযোগ থেকে শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ওই ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত বেশ কিছু নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমানের বাসা থেকে। রিমান্ডে পুলিশকে দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) তার বাসায় গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এসব নথি উদ্ধার করেছে।
জানা গেছে, ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত তিনজনের ওই বৈঠকের খবর লিক হয় বিএনপিপন্থী একজন বুদ্ধিজীবীর মাধ্যমেই। ওই বুদ্ধিজীবীই আগ্রহী পক্ষে খবরটি দেন। এরপরই দেশের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা বৈঠক নিয়ে খবর নেওয়া শুরু করে। যদিও কোনও পরিষ্কার তথ্য পাচ্ছিল না সংস্থাটি। আর ওই বৈঠকের বিষয়বস্তু ঠিক কী ছিল এ নিয়ে সরকারের তরফেও চাপ ছিল। বিশেষ করে দুটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে শফিক রেহমানের কোন পারপাস থেকে যোগাযোগ, সেটি বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মিস্টার রহমান নাগরিক হিসেবে ব্রিটেনের এবং সাংবাদিক হিসেবে বিদেশি প্রভাবশালী সাংবাদিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার বিষয়টিও নজরে এনেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সূত্রের দাবি, এই বৈঠকের খবর সম্পর্কে বেশি আগ্রহ এশিয়ার একটি গোয়েন্দা সংস্থার। তাদের পরামর্শেই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলত, আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ওই বৈঠকের মূল আলোচনা সম্পর্কে জানতে চায় ওই সংস্থাটি। যদিও সরকারের তরফ থেকে শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

গত রবিবার পৃথকভাবে সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানান। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের কাছে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়।

যদিও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, অনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের স্পষ্টভাষী ও সত্য উচ্চারণে অকুণ্ঠ জ্ঞানী-পণ্ডিত ব্যক্তিদেরকেও নির্মূলের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন তার পছন্দের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সংখ্যক সদস্যদের দিয়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের পেছনে সরকারের অভিযোগের বাইরে কী অভিযোগ আছে, সেটি জানি না। তবে যেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ বলা হয়েছে, সেহেতু আমরা এখন খোঁজ করছি। ওই মামলার তদন্তে শফিক রেহমানের নাম কিভাবে এসেছে, কী অভিযোগ আছে বা ছিল, এ বিষয়গুলো আমরা জানার চেষ্টা করছি। এর বাইরে আপাতত আমার কিছু বলার নেই।

/এএইচ/

লাইভ

টপ
X