বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন বিলম্বিত হলে দেশে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের অকার্যকারীতায় সামাজিক নৈরাজ্য দ্রুত রাজনৈতিক নৈরাজ্যের পথে বাঁক নিচ্ছে। সংস্কার ও নির্বাচন ঝুলিয়ে দিতে নানা অপতৎপরতা চলছে।
বুধবার (৯ জুলাই) দলীয় কার্যালয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ২১ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সাইফুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তাহীনতা নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দেশজুড়ে মব সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়া নতুন উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে উল্লেখ করে সাইফুল হক বলেন, সরকারের অকার্যকারীতায় সামাজিক নৈরাজ্য দ্রুত রাজনৈতিক নৈরাজ্যের পথে বাঁক নিচ্ছে। সংস্কার ও নির্বাচনকে ঝুলিয়ে দিতে নানা অপতৎপরতা চলছে। পরিকল্পিতভাবে এসব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে বোঝা-পড়ার সংবাদে রাজনৈতিক দলসহ জনগণের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি দেখা গেছে। সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বও খানিকটা কমেছে বলে ধারণা করা যায়।
‘কিন্তু সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বৈঠকের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের সম্ভাব্য তফসিল নিয়ে কোনও কথা বলতে পারেননি।’
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি কাঙ্ক্ষিত নয়। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল মোটামুটি নির্বাচনের ৬০ দিন আগে ঘোষণা করার বিধান থাকলেও নির্বাচন কমিশনের দিক থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা দরকার ছিল। আশা করি, নির্বাচন কমিশন এ সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে কথা বলবেন।
তিনি বলেন, গত একমাসে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নতুন করে আবারও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিটাই অবান্তর। এটা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বও নয়। গত ১৬ বছর দেশের মানুষ নিশ্চয় স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করেনি।
সাইফুল হক বলেন, বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোতে এখনও পর্যন্ত রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে পিআর পদ্ধতিতে ভোটের জন্য প্রস্তুত হতে পারেনি। এ কারণে এবার কেবল আমরা সংসদের উচ্চকক্ষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে আসছি।
জুলাই-আগস্ট ছাত্র শ্রমিক জনতার গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২১ দিনের কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে— ১৬ জুলাই শহীদ আবু সাঈদ, পার্টির দুই শহীদ বদিউজ্জামাল ও আবদুল লতিফসহ গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রংপুরে তিন শহীদের কবরে শ্রদ্ধা জ্ঞাপনসহ সারা দেশে শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সমাবেশ, ১৮ জুলাই ছাত্র শ্রমিক জনতার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে শহীদ পরিবারগুলো ও আহতদের নিয়ে ঢাকার আশুলিয়ায় শ্রমিক গণসমাবেশ, ২৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জে গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের পরিবারসহ গণসমাবেশ, ২ আগস্ট সকাল ১০টায় সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি- গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভা, ৫ আগস্ট ২০২৫ গণঅভ্যুত্থানের আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ অন্যান্য কর্মসূচি।
তিনি জানান, এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তীতে পার্টির পোস্টার ও ‘ডাক দিয়ে যাই’ শীর্ষক স্মরণিকা প্রকাশিত হবে।
একইসঙ্গে তিনি গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, আহতদের উপযুক্ত চিকিৎসা এবং তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা দেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, সাইফুল ইসলাম, ফিরোজ আলী, কেন্দ্রীয় সংগঠক বাবর চৌধুরী, জামিরুল রহমান ডালিম প্রমুখ।









