বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সমালোচনা করে বলেছেন, ‘যারা জুলাইকে সামনে রেখে, জুলাইয়ের মধ্য দিয়ে নেতা হয়েছেন, তারা জুলাই বিপ্লবীদের পাশে খুব একটা এসে দাঁড়াননি।’
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিফাত রশিদ এই মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি জুলাই আন্দোলনকারী মাহদী হাসান ও তাহরিমা জান্নাত সুরভীর আটকের ঘটনায় এনসিপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিফাত রশিদ বলেন, ‘তারা দুজনের মুক্তির পরে বিবৃতি দিলেও বিপদের সময় মুখে কুলুপ এঁটে বসে ছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি মনে করেন, নির্বাচন-নির্বাচনের মাঠে গিয়ে, ভোট ভোট খেলা খেলে, আওয়ামী লীগের ঐ সো-কল্ড ভোটের জন্য আপনারা জুলাই বিপ্লবীদের হাত ছেড়ে দেবেন তাহলে আপনারা বড় ভুল করছেন।’
‘আওয়ামী লীগ কখনোই বাংলাদেশের বন্ধু না। আওয়ামী লীগ কোনোদিন কারো বন্ধু হয় না, আওয়ামী লীগ হলো সেই কালসাপ— যা এখন শুধু একটু গর্তের মধ্যে ঢুকে আছে, সুযোগ পেলেই এমন জোরে ছোবল দেবে, সে বিষে আপনি তো মরবেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আমাদের যে জুলাইয়ের যোদ্ধারা রয়েছে তাদেরও সেই বিষ মুক্তি দেবে না।’
এছাড়া, রিফাত রশিদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন দফা কর্মসূচি এবং দাবি ও পেশ করেন।
তাদের কর্মসূচিগুলো হলো
১। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশের যে যে থানার অধীনে ছাত্র জনতাকে শহীদ করা হয়েছে সেই সব থানার ওসি এবং সেই জেলাগুলোর এসপি থেক শুরু করে তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই তালিকাটি আইসিটি ট্রাইব্যুনালে জমা পূর্বক মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
২। ইনডেমিনীটি অর্ডিন্যান্স রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারি নিশ্চিতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
৩। নির্বাচনকালীন বৃহত্তম দুটি জোটের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎপূর্বক তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে জুলাইয়ের বৈপ্লবিক চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং জুলাই বিপ্লবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যাপারটি স্পষ্ট উল্লেখ নিশ্চিত করতে আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।
তিন দফা দাবি
১। মাহাদী ও সুরভীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং ওমর ফারুকসহ হেনস্তাকারী পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
৩। জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে, তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে তাদের হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করতে হবে। এবং ২০০৯ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষাণলে পরে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি বঞ্ছিত অফিসারদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদগুলোতে পদায়ন করতে হবে।









