শেষ পর্যায়ে নির্বাচনি প্রচারণা, শীর্ষ নেতাদের নানা আশ্বাস

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৪৩আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৪৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনি প্রচারণার ২২তম দিনে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। এদিন কেউ কেউ জাতির উদ্দেশে ভাষণও দেন। নির্বাচিত হলে কী করবেন—এমন নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন তারা।

দিনের প্রথম কর্মসূচিতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিজের নির্বাচনি পথসভায় যোগ দেন ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে তিনি ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬ আসনে অনুষ্ঠিত আরও পাঁচটি সমাবেশে অংশ নেন।

এদিন সকালে বাড্ডার সাঁতারকুলে ঢাকা-১১ আসনের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ওই সভায় নাহিদ ইসলামও বক্তব্য রাখেন। বিকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন নাহিদ ইসলাম। এসব কর্মসূচিতে শীর্ষ নেতারা নিজেদের নানা আশ্বাসের কথা তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, এদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ঢাকা-৮ আসনের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির মির্জা আব্বাস ও এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথাও প্রকাশ করেন মির্জা আব্বাস।

এছাড়া হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রয়াত আমির জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা।

নিরাপদ ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার তারেক রহমানের

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিনের প্রথম কর্মসূচিতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিজের নির্বাচনি পথসভায় যোগ দেন ঢাকা-১৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এ সময় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি নানা প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, বিএনপি ১২ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করলে ঢাকা মহানগরে ৪০টি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকাকে একটি নিরাপদ নগর হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। মা-বোনদের নিরাপদ চলাচল এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

তারেক রহমান ইসিবি চত্বর থেকে জসিম উদ্দিন পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

এছাড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। কৃষকদের জন্য সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতিও দেন।

ঢাকা-১৬ আসনের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই আসনে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি বিদেশে চাকরির উদ্দেশ্যে যেতে আগ্রহীদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি আরও জানান, দেশের প্রতিটি এলাকায় অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেখানে ভাষা শিক্ষা ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণরা নিজ উদ্যোগে ব্যবসা করতে পারবে কিংবা বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।

নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বললেন জামায়াতের আমির

সকাল ৯টায় বাড্ডার সাঁতারকুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মা-বোনদের ইজ্জতের কোনও নিরাপত্তা নেই—ঘরেও নেই, রাস্তায়ও নেই, কর্মস্থলেও নেই। আমরা ক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণেরা কখনও বেকার ভাতা চায়নি। তারা অধিকার ও ন্যায্য কাজের সুযোগ চেয়েছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে বেকারদের কর্মসংস্থানে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হবে।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নাহিদ ইসলামের

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ঘুষ, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের সংস্কৃতির অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

রবিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বিচার বিভাগ সংস্কার, শাসনব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ, সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা, নারীর সমঅধিকার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে দুর্নীতি বন্ধ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নতজানু অবস্থান পরিহার করে স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনীতি গ্রহণের কথাও বলেন নাহিদ ইসলাম। পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ সবার সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। পুলিশ বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে জননিরাপত্তার গণসংস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

আবারও আলোচনায় আব্বাসপাটওয়ারী

নিজের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস।

রবিবার রাজধানীর আরামবাগে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোটের নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দিয়ে আল্লাহ আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন। আমি যেন ১২ তারিখ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে থাকতে পারি—এই দোয়া চাই।

অপরদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরেও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়। সম্প্রতি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রয়াত আমির জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিয়ে তার একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দুপুরে বায়তুল মোকাররমের সামনে তারা পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। পরে এ বিষয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

/এমকে/এম/ 
সম্পর্কিত
এমপি মাসুদের দম্ভোক্তির জোর কোথায়?
দুই ঘণ্টায় ওসিকে চেয়ার থেকে সরিয়েছি, মেজরকে চেইঞ্জ করেছি, পাওয়ারে এমপি হইছি
দেশ স্থিতিশীল, ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী, স্মরণ রাখবে জাতি: সেনাপ্রধান
সর্বশেষ খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
জনআস্থা ও জবাবদিহিমূলক সংসদ গঠনে সাংবিধানিক জ্ঞান জরুরি: ডেপুটি স্পিকার
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
প্রতিনিধি পরিষদের ইরান যুদ্ধ-বিরোধী ভোটের প্রতিক্রিয়ায় মুখ খুললেন ট্রাম্প
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করছে জাতীয় সংসদ: স্পিকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী