‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে হবে’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৩ মে ২০২৬, ১৪:২৪আপডেট : ০৩ মে ২০২৬, ১৪:২৪

সংস্কার নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে সরকার। এভাবে চললে সরকার কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে হবে।

রবিবার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, মানবাধিকার, সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় কনভেনশনে এমন কথা বলেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী সেশনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির সহ-প্রধান সারোয়ার তুষার। এছাড়া প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনা করেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী এবং সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান।

আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পরেই আমি বলেছি, এটা প্রতারণা ও প্রবঞ্চণার সংসদ। আমি কেন এলাম এই সংসদে এবং কী পেলাম? যে অধ্যাদেশগুলো আইন করলে সরকারের ক্ষমতা বাড়বে, সেগুলোকে তারা আইনে পরিণত করেছে। কিন্তু যেগুলো সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে, সেগুলো তারা ল্যাপস করে বাতিল করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ে ভোট চুরি করে নির্বাচিত বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিনিধিদের সরাতে একটি বিশেষ মুহূর্তে অন্তর্বর্তী সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। নির্বাচিত সরকার এসে সেটিকে আইনে পরিণত করেছে। যার মাধ্যমে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছাড়াই তারা স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অপসারণ করতে পারবে। এতে বিরোধী দলের কাউকে তাদের অপছন্দ হলে তাকে সরিয়ে পছন্দমতো প্রশাসক বসাতে পারবে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, ১৯৯১ সালে রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তার একটিও বাস্তবায়ন করেনি। ২৪ এর অভ্যুত্থানের পর কী ফল হলো? আমরা একটা প্রতারণামূলক দলের সঙ্গে কাজ করছি। যারা প্রথম থেকে ম্যাটিকুলাসলি প্ল্যান করেছে যেন অভ্যুত্থানের পর আমরা যে স্বপ্ন দেখেছি, তা ভেস্তে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের এলিট, সিভিল-মিলিটারি-বুরোক্রেসি ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। সে কারণে তারা সংস্কারকে ভণ্ডুল করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সংসদে দাঁড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, কানাডায় যদি কোনও মন্ত্রী এরকম মিথ্যা কথা বলতো, তাকে সেদিনই পদত্যাগ দিতে হতো।

তিনি বলেন, নির্বাচনে দুমাসও যায়নি। এরমধ্যে আমাদের আলোচনা করতে হচ্ছে। জুলাই সনদে ও অধ্যাদেশে রেখে যাওয়া গুম, মানবাধিকার, দুদক, বিচার বিভাগসহ একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাতিল করছে সরকার। কাউন্সিল গঠন করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। যার ফলে প্রতিষ্ঠান স্বাধীন থেকে নির্বাহী বিভাগের বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারবে। কিন্তু সেটিও হয়নি। এগুলো না হলে প্রধানমন্ত্রী কতৃত্ববাদী হয়ে উঠবে।

সমাজবিজ্ঞানী মির্জা হাসান বলেন, জুলাই সনদে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অনন্য বিষয়। যার মূল কথা হলো রাষ্ট্রের যে প্রধান তিনটি অঙ্গ রয়েছে তথা বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ নির্বাহী বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ঠিক রাখা।

তিনি আরও বলেন, সুশীল সমাজ বলেছে, এই সনদের সঙ্গে মানুষের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু এটি ভ্রান্ত ধারণা। 

আরেকটা কথা বলা হয়, আইন করে লাভ নেই, মানুষকে ভালো হতে হবে। এটা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য। কারণ মানুষ ফেরেস্তা নয়। ফলে তার হাত-পা বেঁধে দিতে হবে। এটাই সনদের মূলকথা।

সরোয়ার তুষার বলেন, বিএনপি সরকার সংস্কার করতে চায় না। অনেকে এতদিন তাদের একটি ‘বেনিফিট অব ডাউট’ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এটা পরিষ্কার, বিএনপি সরকার আর সংস্কার করবে না। শুধু তাই নয়, দলীয় ও নির্বাচনি ইশতেহারে যে সংস্কারের কথা তারা বলেছে, সেখানে ফেরাও বিএনপির পক্ষে সম্ভব নয়। তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলসহ সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের মাধ্যমে তারা তা ভঙ্গ করেছে।

তিনি বলেন, একটা যুক্তি অনেকে দেন, আমাদের সরকার, তাই আমরা সব জায়গায় আমাদের লোক বসাবো। কিন্তু সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে আপনি দলীয় লোক বসাতে পারেন না। সব জায়গায় বিএনপি দলীয় লোক বসালেও রাষ্ট্রপতি বানানোর মতো একটি লোক বিএনপিতে পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত এবং ইতোমধ্যে তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে বিএনপির লোকেরাই বলছেন। সংস্কার বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং বিএনপি সংস্কার বাস্তবায়ন না করলে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গণভোটের জনগণের রায়কে অমর্যাদা না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সেশনটি মডারেট করেন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।

/এমকে/আরকে/
সম্পর্কিত
দেশের রাজনীতিতে এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ প্রাসঙ্গিক নয়: আসিফ মাহমুদ
যে জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করতে চান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কার নামে হবে?
বেইমানি করলে সরকারের পতন হতে বেশি সময় লাগবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
সর্বশেষ খবর
মোহাম্মদপুরে আহত বিএনপির নেতাকে দেখতে ঢামেকে ববি হাজ্জাজ
মোহাম্মদপুরে আহত বিএনপির নেতাকে দেখতে ঢামেকে ববি হাজ্জাজ
অনুপ্রবেশ ও অ্যাসাইলাম নিয়ে ‘হার্ডলাইনে’ পুরো ইউরোপ, নতুন কী কী পদক্ষেপ
অনুপ্রবেশ ও অ্যাসাইলাম নিয়ে ‘হার্ডলাইনে’ পুরো ইউরোপ, নতুন কী কী পদক্ষেপ
শিকড় উৎপাটন না করলে পরাজিত অপশক্তি ফিরে আসতে পারে: রিজভী
শিকড় উৎপাটন না করলে পরাজিত অপশক্তি ফিরে আসতে পারে: রিজভী
ইরান একেবারে শেষ, ট্রাম্পের দাবি
ইরান একেবারে শেষ, ট্রাম্পের দাবি
সর্বাধিক পঠিত
আলোচিত প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সংবাদ করায় কারাগারে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আলোচিত প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সংবাদ করায় কারাগারে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের, মসজিদ মাইকে ঘোষণা দিয়ে নেওয়া হলো চাঁদা
প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের, মসজিদ মাইকে ঘোষণা দিয়ে নেওয়া হলো চাঁদা
ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও কেন ফিকে হয়ে যায় দাম্পত্য?
ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও কেন ফিকে হয়ে যায় দাম্পত্য?
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুনের জানাজা অনুষ্ঠিত
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুনের জানাজা অনুষ্ঠিত
চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলো কেমন চলছে? 
চতুর্থ প্রজন্মের ব্যাংকগুলো কেমন চলছে?