প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ এবং জনস্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা শ্রমিকবান্ধব বাজেট প্রণয়ন ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক উইং জাতীয় শ্রমিক শক্তির উদ্যোগে ‘২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়।
জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকিরের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব ঋয়াজ মোর্শেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন বিলসের নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আখতার চৌধুরী, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ এ এম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক বাদল খান এবং এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।
সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাজেট গত অর্থবছরের তুলনায় কমানো হয়েছে, যা দেশের বিপুল শ্রমশক্তির উন্নয়ন ও কল্যাণের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। শাকিল আখতার চৌধুরী বলেন, বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রমিক কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তায় কার্যকর কোনও পরিকল্পনা নেই। আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লেও শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ঋয়াজ মোর্শেদ বলেন, জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনও অর্থবহ সংলাপ হয়নি। ফলে শ্রমিকদের বাস্তব চাহিদা বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, পেনশন, শিক্ষা ও বেকারত্বকালীন সহায়তার মতো মৌলিক বিষয়গুলো এখনও উপেক্ষিত। একই সঙ্গে বন্ধ শিল্প-কারখানা পুনরায় চালু ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারেও বাজেটে সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার বাজেটকে ‘হাওয়াই মিঠাইয়ের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘সেই কুখ্যাত আবুল বারাকাতের মৌলবাদের অর্থনীতির তত্ত্ব বিএনপির ওপর ভর করেছে।’
সেমিনার থেকে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে জাতীয় তহবিল গঠন, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, শিল্পাঞ্চলে বিশেষায়িত হাসপাতাল, শ্রমিক আবাসন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, স্বাস্থ্যবিমা, বেকার ভাতা, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি এবং ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সমাপনী বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, ‘বর্তমান বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতিফলন নেই। তাই জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই বাজেটকে শ্রমিকবান্ধব নয় এবং গণবিরোধী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে।’









