বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের-বাসদ (মার্কসবাদী) প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হুসেন মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, আমৃত্যু দেশের শোষিত মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে নিয়োজিত ছিলেন মুবিনুল হায়দার চৌধুরী। তারা আরও বলেন, পুঁজিবাদী ব্যবস্থা উচ্ছেদ করে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সঠিক বিপ্লবী পার্টিকে শক্তিশালীতে হবে।
দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মাসুদ রানার সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য রাশেদ শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্য তসলিমা আক্তার বিউটি।
সভায় বক্তারা বলেন, ২০২১ সালের ৬ জুলাই, ৮৭ বছর বয়সে মুবিনুল হায়দার চৌধুরী প্রয়াত হন। তিনি আমৃত্যু এদেশের শোষিত মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি কমরেড শিবদাস ঘোষের আদর্শ ও চরিত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে শৈশবেই ভারতে এসইউসিআই (সি) দলের সাথে যুক্ত হন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি শরণার্থী শিবিরে কাজ করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এদেশে আসেন।
বক্তারা বলেন, সদ্যস্বাধীন দেশে বুর্জোয়া শ্রেণির নেতৃত্বে পুঁজিবাদী আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। এতে শোষণমুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যে জনগণ যুদ্ধ করেছিল, তাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। এদেশে পুরাতন ও প্রচলিত বামপন্থি রাজনীতির ধারা মুক্তিযুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা নিতে পারেনি, শোষিত মানুষের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে।
তারা জানান, দেশের যুবক-তরুণরা এই শোষণমুক্তির আকাঙ্ক্ষা ধারণ করলেও সঠিক পথের দিশা না পাওয়ায় দিকভ্রান্ত এমন প্রেক্ষাপটে দেশের শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় সত্যিকারের শ্রমিকশ্রেণির দল গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশে আসেন কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী।
বক্তারা আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অসম বাণিজ্য চুক্তি করেছে। বিএনপি সরকার সেই চুক্তি নিয়ে পার্লামেন্টে কোনও আলোচনা করেনি। জামায়াত-এনসিপিও এই বিষয়ে নিশ্চুপ। এমনকি সংসদ ভবন চত্ত্বরে নজিরবিহীন ভাবে আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের ২৫০ বছর পালন করেছে। নির্বাচিত সরকার অগণতান্ত্রিক কালাকানুন বাতিল, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, পুলিশ-দুদকের সংস্কারের উদ্যোগ নেননি। আমরা সব সময় বলেছি, ফ্যাসিবাদ কোনও দল আনে না, ফ্যাসিবাদ আনে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা। এতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও বৈষম্যহীন সমাজের জন্য পুঁজিবাদী ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা তথা সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইকে বেগবান করতে হবে।








