গতানুগতিক ছাত্রদল, কৌশলী শিবির: ঢাবির ছাত্ররাজনীতি কোন পথে?

আতিক হাসান শুভ
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৩৬ আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩:১৪

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির চিত্র বদলেছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক তৎপরতা ও শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর কৌশল নিয়ে যেমন আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে, আবার ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের কার্যক্রম ও সাংগঠনিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ। যদিও ছাত্রদল ও শিবির; উভয় সংগঠনের নেতারাই দাবি করেছেন, তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ করছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অনেকেই, এমনকি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর একধিক নেতাও ক্যাম্পাসের রাজনীতি নিয়ে শিবির ও ছাত্রদলের সমালোচনা করেছেন। দুই সংগঠনের কার্যক্রম ও রাজনৈতিক কৌশল ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, ঢাবির ছাত্ররাজনীতি শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোচ্ছে?

ডাকসুর পর শিবিরের ‘কৌশলী অবস্থান’, ‘গতানুগতিক ধারায়’ ছাত্রদল

চব্বিশের ৫ আগস্টের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ ছিল না ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের। সংগঠনটি বিভিন্ন কৌশলে অভ্যন্তরীণভাবে রাজনীতি করতো। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও তখন অনেকটা কোনঠাসা অবস্থায় ছিল। তবে মামলা-হামলা, জেল-জুলুমসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন উপেক্ষা করে ছাত্রদল প্রকাশ্যে নানা কর্মসূচি, মিছিল ও সভা-সমাবেশ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোতে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংগঠনটির কমিটিও ছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি বদলে যায়। ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে এসে সক্রিয় হয়। ছাত্রদলও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সময়কে শিবির নানা কৌশলে কাজে লাগায়। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে গুছিয়ে উঠতে পারেনি। এর প্রভাব ডাকসু নির্বাচনেও পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে কৌশলে রাজনীতি করছে ছাত্রশিবির। হলগুলোতে প্রকাশ্য কমিটি না থাকলেও সংগঠনটির সরব উপস্থিতি রয়েছে। নিজস্ব কাঠামোয় নিয়মিত সভা-সমাবেশ, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও অনলাইন প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে তারা।

অন্যদিকে, ছাত্রদল গতানুগতিক মিছিল-সমাবেশ এবং আসন্ন কমিটিতে পদ-পদবি পেতে দৌড়ঝাঁপ ও তদবিরে ব্যস্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। হলগুলোতে কমিটি থাকলেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে দৃশ্যমান কর্মকাণ্ড কম। বরং ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের মারধরসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা আলোচনায় এসেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ মনে করেন, ডাকসুকে কেন্দ্র করে আবারও মাঠ গোছাচ্ছে শিবির। কৌশলে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনকে সামনে রেখে সংগঠনটি রাজনীতি করছে। অন্যদিকে, ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে কাজ করার পরিবর্তে দু-একজনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু ভালো কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে শিবির গুপ্ত রাজনীতি করার কৌশল অবলম্বন করেছিল, এখনও তাই করছে। এতে শিবির লাভবান হইছে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হইছে শিক্ষার্থীরা। শিবিরের প্রকাশ্য কমিটি না থাকায় ছাত্রলীগ ভিন্নমতাবলম্বী যারে-তারে শিবির ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করতো। শিবিরের এই গুপ্ত রাজনীতির বলি হয়েছিল স্বয়ং আবরার ফাহাদ। আরও কত নিরপরাধ শিক্ষার্থী যে শিবির ট্যাগ খেয়ে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছিল, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।’

তিনি আরও বলেন, এত কিছুর পরও শিবির নিজেদের স্বার্থে গুপ্ত রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নতুন ধারার রাজনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।

শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করার দাবি ছাত্রদলের

শিক্ষার্থীদের কল্যাণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল কেবল ৫ আগস্টের পর থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছে, বিষয়টা এমন না। আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের পূর্ব থেকেই প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমরা রাজপথে ছিলাম। ৫ আগস্টের পর অনেক বহুরূপী নানা কায়দায় ছাত্রদলকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে, আদতে তাদের সেই কামনা-বাসনা ব্যর্থ।’

শিবিরের রাজনীতি সম্পর্কে আবিদ বলেন, ‘৫ আগস্টের আগেও তারা গুপ্ত রাজনীতি করেছে, এখনও তারা তাই করছে। আমরা স্বৈরাচারী সরকারের সময়েও মৃত্যুকে পরোয়া না করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে রাজনীতি করেছি, এখনও তাই করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটা মর্যাদা আছে, নীতি-নৈতিকতা আছে। তারা সেটা বিসর্জন দেবে না। অথচ শিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মমর্যাদা বিক্রি করে নামমাত্র উন্নয়ন করে বাকিটা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।’

ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে আবিদ বলেন, ‘সবার আগে আমরা দলগতভাবে ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে সর্বদা প্রস্তুত। বিগত নির্বাচন যে নানা কারণে বিতর্কিত এবং তৎকালীন ভিসি কর্তৃক ম্যানিপুলেট করা, সেটা সবাই জানে। আমরা তখন দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সেটা মেনে নিয়েছিলাম। তার প্রমাণ কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস জয় প্রমাণ করেছে। এবারের ডাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা নিঃসন্দেহে ছাত্রদলের প্যানেলকে সব বাধা অতিক্রম করে জয়ী করবে, ইনশাআল্লাহ।’

শিবির সবচেয়ে জনপ্রিয় ছাত্রসংগঠন, দাবি ফরহাদের

বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সবচেয়ে জনপ্রিয় ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বলে দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস ও শিবির নেতা এস এম ফরহাদ।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘যে কয়টা ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে—ডাকসু, জাকসু, রাকসু, জকসু, চাকসুসহ প্রত্যেকটি ছাত্র সংসদে আমরা কমন রিফ্লেকশন পেয়েছি। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ছাত্রশিবিরকে বেছে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নেবে। এই ভয়েই অন্যান্য সংগঠনগুলো ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভয় পায়। যার কারণে দুটো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ পর্যন্ত করে দিয়েছে।’

শিবিরের কার্যক্রম সম্পর্কে ফরহাদ বলেন, ‘আমরা একটা কথা বারবার বলি, আমাদের মূল কাজই হচ্ছে কল্যাণমূলক কাজ। আমাদের কাজ হলো নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া, নিজেরা উপকৃত হওয়া এবং শিক্ষার্থীদেরও উপকৃত করা। পাশাপাশি আমাদের নিজেদের সীমাবদ্ধতাগুলোকে অ্যাড্রেস করা, অর্থাৎ আমরা যেন একে অপরের মেন্টর হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের থেকে যাওয়া সীমাবদ্ধতাগুলোকে চিহ্নিত করে আমাদের বিদ্যমান যত রিসোর্স রয়েছে, সেগুলোকে মোবিলাইজ ও ইউটিলাইজ করে আমরা সব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে চাই। আমরা দেশের জন্য দেশপ্রেমিক, সৎ এবং দক্ষ নাগরিক তৈরি করার জন্য যত রকমের চেষ্টা করা সম্ভব, তা জারি রেখেছি। আমরা প্রত্যেকটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জিপিএ-৫ সংবর্ধনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কানেক্ট করার চেষ্টা করেছি। তাদের একটা রিমাইন্ডার দেওয়ার চেষ্টা করেছি যে, যারা ভালো রেজাল্ট করেছেন, বাকি দুই বছর তাদের কীভাবে কাটাতে হবে। সেখানে মেডিকেল, বুয়েট কিংবা ঢাবি থেকে আসা সফল শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় গাইডলাইন তুলে ধরেছেন। আবার যারা খারাপ করেছে কিংবা ফেল করেছে, তাদেরও আমরা কাউন্সেলিংয়ের আওতায় নিয়ে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, আর তা হলো দেশের জন্য দক্ষ, সৎ, মেধাবী ও সুশৃঙ্খল নাগরিক তৈরি করা।’

বামপন্থী রাজনীতি ও ছাত্রদল নিয়ে শিবিরের বক্তব্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বামপন্থী রাজনীতির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে শিবির নেতা এস এম ফরহাদ বলেন, ‘আমরা কীভাবে কাজ করি, আর বাকিরা কীভাবে পাওয়ার প্র্যাকটিস করছে, এখানে দুটি প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যায়। যারা বামপন্থী রাজনীতি করছেন, বর্তমানে দেশে সেই বামপন্থী রাজনীতির কোনো আবেদনই নেই। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যের সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পায় না। সত্তরের দশক বা তার আগে ষাটের দশকে তাদের যে জয়জয়কার অবস্থা ছিল, তারা শিক্ষার্থীদের অনেক স্বপ্ন দেখাতেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে তাদের সেই স্বপ্নগুলো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে এবং তাদের সেই চিন্তাধারা যে ভিত্তিহীন ছিল, তা প্রমাণিত হয়েছে। ফলে বর্তমানে তাদের সেই আবেদনটুকু আর অবশিষ্ট নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি প্রায় সব ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বামপন্থী প্যানেলগুলোর ভোটের অনুপাত বিশ্লেষণ করলে তা দেখতে পাবেন। সব প্রার্থীর গড় ভোট, ন্যূনতম ভোট কিংবা সর্বোচ্চ ভোট যেভাবে বিশ্লেষণ করেন না কেন, দেখতে পাবেন যে শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে আর নেই।’

ছাত্রদলের রাজনীতি সম্পর্কে ফরহাদ বলেন, ‘যখনই ছাত্রদল বা বিএনপি ক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়, ছাত্রদল তখন ছাত্রলীগের মতো একই আচরণের পুনরাবৃত্তি করে। অর্থাৎ, তারা সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ করছে, ক্যাম্পাসে ভিন্নমত দমন করছে, হলের প্রভোস্টের সামনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এমনকি তারা শাহবাগ থানার ভেতরে ঢুকেও হামলা চালাতে দ্বিধা করছে না। কোন রিকশা মাঠে থাকবে আর কোনটা থাকবে না, এই চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘাত সৃষ্টি করে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীকে হত্যা পর্যন্ত করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল সেই সহিংস রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। ছাত্রলীগের অধীনে যেসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চর্চা ছিল, সেই একই অভয়ারণ্য তারা বজায় রাখছে। এর বিপরীতে, আমরা ছাত্রশিবিরের জায়গা থেকে সবসময় শিক্ষার্থীবান্ধব ও কল্যাণমুখী কাজ করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো যোগ্য নাগরিক গড়ে তোলা, যা আমরা অতীতেও করেছি এবং ভবিষ্যতেও জারি রাখব। পাশাপাশি যারা আমাদের সংগঠনে আসবে, সেসব শিক্ষার্থীকে সমাজের জন্য দক্ষ করে গড়ে তুলতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

সব ছাত্রসংগঠনের উদ্দেশে ফরহাদ বলেন, ‘আমাদের কাজে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে মানুষের ভালো পরামর্শ ও গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করে নিজেদের সংশোধন ও ইমপ্রুভ করার চেষ্টা করছি। এই যে একটা ইতিবাচক প্রতিযোগিতা—অন্য যেকোনো সংগঠন যদি এমন ইতিবাচক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দক্ষ ও সৎ নাগরিক গড়ার চেষ্টা করে, তবে আমরা তাদের সাদরে স্বাগত জানাব। এর ফলে শিক্ষার্থীরাই বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। কিন্তু শিক্ষার্থী-বিচ্ছিন্ন রাজনীতি কিংবা সন্ত্রাসের রাজনীতি, এই দুটিকেই আমরা সবসময় ‘না’ বলেছি এবং সবসময় এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান বজায় রাখব।’

দৃশ্যমান কর্মসূচি নেই, ঝিমিয়ে পড়েছে বাম দলগুলো

ছাত্রশিবিরের মতো গুপ্ত রাজনীতি বা ছাত্রদলের মতো অরাজকতার রাজনীতি বাম দলগুলো করে না বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ।

বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘শিবির তো স্বাধীনতাবিরোধী গণহত্যাকারী সংগঠন। তাদের তো রাজনীতি করারই অধিকার নেই। সেই জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তারা রাজনীতি করছে, জোরজবরদস্তি করে ডাকসু জিতেছে। তারা সবসময় অপসংস্কৃতি ও আধিপত্যের রাজনীতি করেছে, এখনও করছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে বাম দলগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণসহ শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা পূরণে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর থাকার পরিবেশ, মানসম্মত খাবারের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা বাড়ানো ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলন করেছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বহুবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এসব বিষয়ে লিখিত দাবি দিয়েছি।’

বাহাউদ্দিন শুভ বলেন, ‘আমার মনে হয়, ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মানসম্মত খাবার প্রয়োজন, গবেষণার প্রয়োজন। এসবের চেয়ে এসি নিশ্চয়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ না। গণহত্যাকারী সংগঠন ডাকসু প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ শিবিরের কর্মকাণ্ড বলে প্রচার করছে। আমরা শিক্ষার্থীদের স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছি। শিবির শিক্ষার্থীদের প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা হলে হলে আধিপত্য বিস্তার করছে।’

এ ছাড়া ছাত্রদলও বিভিন্ন জায়গায় অরাজকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন এই বামপন্থী নেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল সহিংসতা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল চান তদন্তকারীরা
তুচ্ছ ঘটনায় ঢাবিতে দুই হলের ছাত্রদলের সংঘর্ষ
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ঢাবির ২২ শিক্ষক-গবেষক
সর্বশেষ খবর
টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না এক জেলার ১৫ গ্রামে
টানা ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না এক জেলার ১৫ গ্রামে
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর
শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিল্লাইকে ‘কট্টর বর্ণবাদী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে মন্তব্য নেতানিয়াহুর
রাজবাড়ীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪২টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার
রাজবাড়ীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪২টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার
ধানক্ষেতে স্কুলছাত্রীকে হত্যার রহস্য খুলতে শুরু করেছে, মোবাইল ফোন উদ্ধার
ধানক্ষেতে স্কুলছাত্রীকে হত্যার রহস্য খুলতে শুরু করেছে, মোবাইল ফোন উদ্ধার
সর্বাধিক পঠিত
বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সেই মাহদীকে
বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সেই মাহদীকে
ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দেওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত
ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দেওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী
শাবনূরের অনুরোধে সিডনির রাস্তায় গান গাইলেন রবি চৌধুরী
এক বড় দলের সা. সম্পাদকের নাকি ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক  
এক বড় দলের সা. সম্পাদকের নাকি ৭০০ অটোরিকশা: ডিএনসিসি প্রশাসক  
ইলিশ বিক্রি করায় তিন হোটেলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা
ইলিশ বিক্রি করায় তিন হোটেলকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা