তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা দেড় বছরে নেমে আসায় নিশ্চিতই স্বস্তিতে ছিলেন উমর আকমল। কিন্তু পাকিস্তানের ৩০ বছর বয়সী এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান আর স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না। তার শাস্তি মওকুফের বিরুদ্ধে সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে আপিল করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
গত মাসের শেষদিকে এক নিরপেক্ষ বিচারকের রায়ে উমরের তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা দেড় বছরে নেমে আসায় পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে বড় রকমের সাড়া পড়ে যায়। অনেকেই বিস্মিত হন, অনেকেই রায়ের সমালোচনা করেন। কেউ কেউ কাঠগড়ায় তোলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকেই (পিসিবি)। শেষ পর্যন্ত পিসিবি বিতর্কিত ব্যাটসম্যান উমরের সাজা মওকুফের বিরুদ্ধে সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (কোর্ট অব আরবিট্রেশন অব স্পোর্টস) আপিল করেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
পিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (চিফ অপারেটিং অফিসার) সালমান নাসের মঙ্গলবার সিএএসে আপিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, ‘নিরপেক্ষ বিচারকের দেওয়া রায় চ্যালেঞ্জ করাটা আমাদের জন্য একটা কঠিন সিন্ধান্ত ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আমাদের কাছে কিছু উদ্বেগের জায়গা ধরা পড়ে এবং আমরা মনে করি উমর যেহেতু দুর্নীতি দমন বিরোধী আইনের দুটি ধারা ভঙ্গ করেছেন, তার শাস্তি যথেষ্ট হয়নি।’
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসল) শুরুর আগে উমর আকমলের দুর্নীতির দুটি প্রস্তাব পেয়েও পিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে জানাননি। এটি নিয়ে দুই দফা শুনানির পর গত এপ্রিলে উমরকে ক্রিকেট থেকে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে পিসিবি। পরে শাস্তি মওকুফের আবেদন করেন উমর এবং ২৯ জুলাই পিসিবির নিরপেক্ষ বিচারক, পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ফকির মোহাম্মদ খোকার উমরের নিষেধাজ্ঞা তিন বছর থেকে কমিয়ে করেন ১৮ মাস।
নাসের বলেছেন, নিরপেক্ষ বিচারকের রাযের বিশদভাবে পড়ে তারা জানতে পেরেছেন যে তিনি (বিচারক) উমর আকমলের আচরণে সন্তুষ্ট ছিলেন না এবং যে বক্তব্য উমর পেশ করেছেন তা পরস্পরবিরোধী। কিন্তু বিচারক তার সাজা কমিয়েছেন সহানুভূতিশীল হয়ে। এখানেই পিসিবির আপত্তি যে সহানুভূতিশীল হয়ে দুবার দুর্নীতি প্রচেষ্টায় জড়িত হওয়ার প্রস্তাব পাওয়া ক্রিকেটারের শাস্তি কমানো যায় কি না।
দুর্নীতি ও ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে শূন্য-সহিষ্ণুতার বার্তা দিতেই সিএএস শরণ বলে জানিয়েছেন পিসিবির চিফ অপারেটিং অফিসার।








