প্রথম টেস্টে ১৪৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু দিনের প্রথম ওভারের শেষ দুই বলে আব্দুল্লাহ শফিক (৫২) ও আজহার আলীকে (০) ফিরিয়ে দারুণ শুরু এনে দেন তাইজুল ইসলাম। আনিন্দ্য সুন্দর সকালের শুরুটা পরের সেশনেও ধরে রাখেন বাঁহাতি এই স্পিনার। একে একে আব্দুল্লাহ-আজহার-আবিদ-ফাওয়াদ-হাসানদের ফিরিয়ে নবমবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন। এমন কীর্তির দিনে ছাড়িয়ে গেছেন মেহেদী হাসান মিরাজকেও। এই অফস্পিনারের ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড ইনিংসে ৮ বার। তাইজুল নিলেন নবমবার।
রবিবার সকালে বল হাতে নেওয়ার পর টানা ১৬ ওভার একই প্রান্ত থেকে বোলিং করেছেন তাইজুল। লাঞ্চ বিরতির আগে ৩ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সব মিলিয়ে সকালের সেশনে ১৬ ওভার বোলিং করে ৩১ রান খরচ করে নিয়েছেন ৩ উইকেট। দ্বিতীয় সেশনে নেন আরও তিনটি। এখন অবধি তাইজুলের শিকার ৬ উইকেট।
এদিন দিনের প্রথম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন তাইজুল। অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ শফিককে আউটের পর আজহার আলীকে গোল্ডেন ডাকে ফিরিয়েছেন। ২৫তম বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশে এসে গোল্ডেন ডাক পেলেন তিনি। এরপর নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান ফাওয়াদকে। বিশাল এক টার্নের বলে আলগা শট খেলতে গিয়ে লিটনের গ্লাভসবন্দি হয়েছেন। ৮৮তম ওভারে তাইজুলকে চার মেরে প্রথম সেশনের খেলা শেষ করেছিলেন সেঞ্চুরিয়ান আবিদ আলী। এই তাইজুলের বলেই দুবার জীবন পাওয়া আবিদ এলডব্লিউর ফাঁদে পড়ে আউট হন ১৩৩ রানে।
এরপর ম্যাচের ৯৬তম ওভারে হাসান আলী পাকিস্তানের রান বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন দ্রুত। তাইজুলের প্রথম দুই ওভারে এক চার ও এক ছক্কা মেরে আক্রমণাত্মক ইনিংসের বার্তা দিচ্ছিলেন। একই ওভারে তাইজুলের ফ্লাইটেড বল কিছুটা শার্প টার্ণ করায় হাসানের ব্যাট-বলের সংযোগ হয়নি। ফলে স্টাম্পড হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে পাকিস্তানি পেসারকে। তাতেই নবমবারের মতো ৫ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তাইজুল।
সবচেয়ে বেশি চারবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়ে নিয়েছেন তাইজুল। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুইবার করে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। আর একবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।









