ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ১০ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের পেসার শহীদুল ইসলাম। আইসিসির অ্যান্টি ডোপিং কোডের ২.১ নম্বর ধারা ভেঙে এই শাস্তি পেয়েছেন তিনি। যদিও ২৭ বছর বয়সী এই পেসার খেলাধুলার পারফরম্যান্স বাড়ানোর কোনও উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ এই ওষুধ নেননি। মূলত ব্যক্তিগত ইউরোলজিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই ওই ওষুধ নেন তিনি।
বুধবার (১৪ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়েছে, গত ৪ মার্চ ঢাকায় অ্যান্টি ডোপিং ইউনিটের কাছে পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল দেন তিনি। সেই স্যাম্পল পরীক্ষা করে এর মধ্যে নিষিদ্ধ ক্লোমিফেন পাওয়া গেছে। যা আসলে ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং (ওয়াডা) কর্তৃক নিষিদ্ধ একটি উপাদান।
সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ১০ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ার পর নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন। মূলত নিজের বোকামি এবং ওই ডাক্তারের পরামর্শেই নিষিদ্ধ ওই ওষুধটি নিয়ে ফেলেন এই পেসার।
বাংলা ট্রিবিউনকে শহীদুল বলেছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে আমি ইউরোলজিস্ট চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। উনি আমাকে কিছু ওষুধ দিয়েছিলেন। যার মধ্যে ওই ওষুধটিও ছিল। ওনারতো আর দোষ নেই, আমার উচিত ছিল বিসিবির চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্রটা দেখানোর। কিন্তু ভুল করে আমি সেটা দেখাতে ভুলে যাই। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধও খাই। ফলে ডোপ পজিটিভ ধরা পড়ে আমার।’
এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিক্যাল বিভাগও নিশ্চিত করেছেন নিষিদ্ধ ওষুধ সেবনে শহীদুলের ইচ্ছাকৃত কোনও ভুল ছিল না, ‘শহীদুলের ব্যক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে তিনি ব্যক্তিগত ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। শহীদুল যে চিকিৎসকের কাছ থেকে ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য ওষুধ নিচ্ছিলেন, তিনি নিশ্চিত করেছিলেন এই ওষুধে কোনও সমস্যা হবে না। শহীদুল সরল মনে সেই সেবা নিয়েছেন। যার ফলে তাকে পজিটিভ হয়ে নিষিদ্ধ হতে হলো। আইসিসির ডোপ টেস্টের সময় নিজ থেকেই জানিয়েছিলেন তিনি কী কী ওষুধ গ্রহণ করেছেন। কোনও কিছুই লুকাননি। লুকালে বোঝা যেতো যে কোনও খারাপ উদ্দেশ্য ছিল। অনেকটা ভুলবশত ঘটনা ঘটে গেছে।’
নিজের ভুলে পাক্কা ১০ মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে শহীদুলকে। আক্ষেপের কণ্ঠে শহীদুল বলেছেন, ‘ভুল করেছি, তার খেসারত তো দিতেই হবে। আশা করি, ১০ মাস ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করে আবার ফিরে আসবো। ভুলটাতো আমরাই, আমার ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলেন আর বিসিবির চিকিৎসক বলেন— কারো তো দোষ নেই। মেডিক্যাল বিভাগ সব সময় অ্যান্টি ডোপিংয়ের ক্লাস নেয়। আমি আসলে ভুল করেই জানাইনি।’
নিষিদ্ধ পদার্থ ব্যবহার করে তার খেলাধুলার পারফরম্যান্স বাড়ানোর কোনও উদ্দেশ্য ছিল না শহীদুলের। এই কারণেই মাত্র ১০ মাসের শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাকে। তবে এই শাস্তি শুরু হবে পিছনের তারিখ ২৮ মে থেকে। ওই দিনই প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল তার ওপর। এখন তিনি ২০২৩ সালের ২৮ মার্চ ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পাবেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করে জাতীয় দলে ডাক পেয়েছিলেন। তিন ফরম্যাটের স্কোয়াডে নিয়মিত ডাক পেলেও কেবল একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। গত বছর নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে অভিষেক হয় শহীদুলের। অভিষেক ম্যাচে ৩৩ রানে নেন ১ উইকেট। চলমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের দলেও ডাক পেয়েছিলেন। কিন্তু ইনজুরির কারণ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত যেতে পারেননি। ২৭ বছর বয়সী সর্বশেষ বিপিএলেও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জার্সিতে দারুণ বোলিং করে দলকে শিরোপা জেতাতে ভূমিকা রেখেছিলেন।








