যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন এশিয়া কাপের দলে। তরুণ পেসার শরিফুল ইসলাম তো অনেক আগেই থিতু হয়েছেন জাতীয় দলে। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে নিয়মিত হলেও মাঝের সময়টা খারাপ যাওয়াতে বাদ পড়েছিলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। আফগানিস্তানে বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভালো করায় এশিয়া কাপের দলে সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এদিকে তামিমের ইনজুরিতে কপাল খুলেছে যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের অপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের। তরুণ শামীম ও তামিমকে নিয়ে দারুণ আশাবাদী প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু।
তামিমের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নের বীজ বোনা শুরু হয়েছিল তৃতীয় শ্রেণিতে থাকতে। ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত বগুড়া জেলার হয়ে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছেন। এরপর ২০১৭ সালে রাজশাহীর বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে উত্তরা ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে প্রথম বিভাগে অংশ নেন। এই ক্লাবের হয়ে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ ছাড়াও খেলেছেন দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ১১৩ বলে ১১৭ রানের ইনিংসের পর থেকেই আলোচনায় তিনি। বয়সভিত্তিক দলের পর বড়দের ক্রিকেটে আলো ছড়িয়েছেন এই তরুণ। সর্বশেষ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ইমার্জিং এশিয়া কাপে দারুণ পারফরম্যান্স আর সাবেক অধিনায়ক তামিমের ইনজুরিই এশিয়া কাপে সুযোগ করে দেয় তাকে।
এশিয়া কাপে সুযোগ পাওয়া তামিমকে নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী প্রধান নির্বাচক নান্নু, ‘তামিমকে নিয়ে আমরা নির্বাচকরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। কারণ ওকে এইচপিতে অনেক নার্সিং করা হয়েছে। শেষ ইমার্জিং কাপেও কিন্তু যথেষ্ট ভালো পারফর্ম করেছে। আমরা আশাবাদী ইনশাআল্লাহ ও (তামিম) দেশের জন্য ভালো কিছু দেওয়ার অপেক্ষা করছে।’
এদিকে ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় শামীমের। সুযোগ পাওয়ার পর সময়টা ভালোই কাটছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বাজে সময় দেখে ফেলেন শামীম। কিন্তু এইচপি ও বাংলা টাইগার্সের ক্যাম্পে থেকে নিজেকে বদলে ফের সুযোগ পান জাতীয় দলে। কুড়ি ওভারের ক্রিকেট ভালো করে এবার জায়গা হলো ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপের স্কোয়াডে। শামীমের সুযোগ নিয়ে নান্নু বলেছেন, ‘শামীম আমাদের এইচপিতে ছিল আন্ডার নাইন্টিন থেকে আসার পর। আমাদের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের ক্রিকেটার। মাঝখানে ২১ বিশ্বকাপের পর পারফরম্যান্স একটু নিচের দিকে ছিল। তারপরে ওভারকাম করেছে। যতগুলো সিরিজ গেছে, শেষ টি-টোয়েন্টিতেও যথেষ্ট ভালো খেলেছে। ওর অবশ্যই সামর্থ্য আছে ভালো ক্রিকেট খেলার। ওই আত্মবিশ্বাসেই আমরা ওকে নিয়ে আগাচ্ছি।’
সাত নম্বর পজিশেনকে ঘিরে এশিয়া কাপের স্কোয়োডে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার আছেন। যদিও মেহেদী হাসান মিরাজকে ঘিরেই পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধান নির্বাচক, ‘এই ম্যানেজমেন্টের অধীনে মিরাজকেই সাতে বিবেচনা করা হচ্ছিল কয়েকটা সিরিজে। মিরাজের ওপর আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। আট নম্বরে অতিরিক্ত পেসার বা স্পিনার যখন যেটা যে কন্ডিশনে দরকার হবে, ওভাবেই কিন্তু আগায়। টিম ম্যানেজমেন্টের অনেক পরিকল্পনা আছে, যেগুলো এখানে শেয়ার করতে পারি না। ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনায় সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিয়েই দলটা তৈরি করা হয়েছে।’









