শ্রীলঙ্কার কাছে আবার হারলো বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৫:১৬আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০০:২০

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

বাংলাদেশ: ৪৮.১ ওভারে ২৩৬/১০ (হাসান ১০*, নাসুম ১৫, শরিফুল ৭, তাসকিন ১, হৃদয় ৮২, শামীম ৫, মুশফিক ২৯, লিটন ১৫, সাকিব ৩, নাঈম ২১, মিরাজ ২৮); লক্ষ্য ২৫৮ রান। 

শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২৫৭/৮ (রাজিথা ১*, সাদিরা ৯৩, ঠিকশানা ২, দুনিথ ৩, শানাকা ২৪, ধনঞ্জয়া ৬, আসালাঙ্কা ১০, মেন্ডিস ৫০,  নিসাঙ্কা ৪০, করুনারত্নে ১৮)

ফল: শ্রীলঙ্কা ২১ রানে জয়ী।

২১৬ রানে ৯ উইকেট পড়ে গেলেও হাসান মাহমুদ দুটি বাউন্ডারি মারলেন মাথিশা পাথিরানাকে। পরের ওভারে শ্রীলঙ্কার বদলি ফিল্ডার দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে নাসুম আহমেদকে আটকে দেন। বল বাউন্ডারির ওপারে আছড়ে পড়ার আগেই লাফিয়ে বল এপারে পাঠান। কিন্তু রিপ্লেতে সেটি ছক্কার সিদ্ধান্ত হয়। তাতেই যেন বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য কিছুর স্বপ্ন দেখছিল। শেষ দুই ওভারে দরকার ২২ রান। হাতে এক উইকেট। শ্রীলঙ্কাও কি একটু চাপে পড়েছিল? পাথিরানা সব চাপ দূর করে দিলেন দুর্দান্ত ইয়র্কারে নাসুমকে বোল্ড করে। ২৩৬ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ৮৩ রানে চার উইকেট হারানোর পর তাওহীদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায়। মূলত হৃদয়ের তাক লাগানো ব্যাটিংয়ে জয়ের স্বপ্ন ভালোভাবে দেখতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তার ৮২ রানের ইনিংস শেষ হতেই ফিকে হতে শুরু করে জয়ের আশা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২১ রানে হেরে এশিয়া কাপ থেকে বিদায় প্রায় নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের।

তবে গাণিতিকভাবে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠা এখনও অসম্ভব নয়, কিন্তু বেশ কঠিন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সুপার ফোরে ভারতের সঙ্গে শেষ ম্যাচ খেলবেন সাকিব আল হাসানরা। তার আগের তিন ম্যাচের ফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ আসতে পারে, সেক্ষেত্রে ভারতকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। 

বাংলাদেশকে থামাতে এদিন বার্থডে বয় দাসুন শানাকা নেন তিন উইকেট। মাথিশা পাথিরানা ও মাহিশ ঠিকশানাও সমান তিনটি করে উইকেট পান।

গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। এই পর্বে পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় তারা। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শোধ তোলার সুযোগ ছিল সাকিব আল হাসানদের সামনে। তাছাড়া ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না। কিন্তু ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হতাশ হতে হলো।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ওয়ানডেতে টানা ১৩টি জয় পেয়েছে, যা দ্বিতীয় দীর্ঘতম। তারা পেছনে ফেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। টানা ২১ জয় নিয়ে সবার উপরে অস্ট্রেলিয়া।

 এনিয়ে টানা ১৩ ওয়ানডেতে প্রতিপক্ষকে অল্আউট করলো লঙ্কানরা। আর কলম্বোতে এনিয়ে ১২ ম্যাচের সবগুলো হারলো বাংলাদেশ।

হৃদয়কে হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ

শেষ ভরসা হয়ে ক্রিজে ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। ৪৪তম ওভারে কোমরের নো বলের পর ছক্কা মারেন। এরপরই থেমে যেতে হয়। আগের ওভারে শামীম হোসেনকে ফেরানো মাহিশ ঠিকশানাই তার ইনিংসে ইতি টানেন। ৯৭ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ে ৮২ রান করেন হৃদয়। ১৯৭ রানে সাত উইকেট হারালো বাংলাদেশ। স্কোর দুইশ ছুঁতে একই ওভারে তাসকিন আহমেদকেও এলবিডব্লিউ করেন ঠিকশানা। ২০০ রানে নেই বাংলাদেশের ৮ উইকেট। লোয়ার অর্ডারে আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। মাথিশা পাথিরানা ফেরান শরিফুলকে। ৭ রান করে লঙ্কান পেসারের ইয়র্কারে বোল্ড হন শরিফুল। ২১৬ রানে নবম ব্যাটার ফিরে গেলেন।

শামীমের বিদায়ে ফের চাপে বাংলাদেশ

মুশফিকুর রহিম আউট হওয়ার পর তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে শামীম হোসেনের জুটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দুজনে মিলে ২৬ রানের বেশি তুলতে পারেননি। শামীম ১০ বলে ৫ রান করে এলবিডব্লিউ হন। রিভিউ নিয়েও আম্পায়ারের আউটের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারেননি। তাকে আউট করেন মাহিশ ঠিকশানা। ১৮১ রানে পড়ে গেলো বাংলাদেশের ৬ উইকেট।

মুশফিকের বিদায়ের পর হৃদয়ের ফিফটি

একশ করার পথে ছিল মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়ের জুটি। দাসুন শানাকা বল হাতে নিয়ে তাদের বিচ্ছিন্ন করেন। মুশফিককে কাসুন রাজিথার ক্যাচ বানিয়ে ৭২ রানের জুটি ভেঙে দেন তিনি। দলীয় ১৫৫ রানে পাঁচ উইকেট হারালো বাংলাদেশ। ৪৮ বলে ২৯ রান করেন বাংলাদেশি ব্যাটার। তার এক বল পরই হাফ সেঞ্চুরি করেন হৃদয়, ৭৩ বল খেলে চারটি চারের মার ছিল তার এই ইনিংসে।

শ্রীলঙ্কার কাছে আবার হারলো বাংলাদেশ

মুশফিক-হৃদয়ের জুটিতে প্রতিরোধ

একশর আগেই চার টপ অর্ডার ব্যাটারের বিদায়ে আতঙ্ক ছড়ায় বাংলাদেশের ক্যাম্পে। অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম কিন্তু তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে আশা জাগাচ্ছেন। তাদের জুটি পঞ্চাশ ছাড়িয়ে গেছে। ৩৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৫ রান বাংলাদেশের।

বাংলাদেশের সংগ্রহ একশ ছাড়ালো

৮৩ রানে চার উইকেট পড়ার পর মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়ের জুটিতে একশ ছাড়ালো বাংলাদেশের স্কোর। ২৫ ওভারে চার উইকেটে তাদের সংগ্রহ ১০১ রান।

লিটনের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ

একে একে টপ অর্ডারের চার ব্যাটার ফিরে গেলেন। মাত্র ১৫ রান করে সবশেষ বিদায় নিলেন লিটন দাস। দুনিথ ভেল্লালাগের বলে কুশল মেন্ডিসের ক্যাচ হন তিনি। লিটনের ২৪ বলের ইনিংসে ছিল মাত্র একটি চার। ৮৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কার কাছে আবার হারলো বাংলাদেশ হতাশ করলেন সাকিব

দাসুন শানাকা এলবিডব্লিউর রিভিউ নিয়ে সাকিব আল হাসানকে থামাতে পারেননি। বাংলাদেশের অধিনায়ক সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মাথিশা পাথিরানার বলে কুশল মেন্ডিসকে ক্যাচ দেন সাকিব। আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল শ্রীলঙ্কা। ৭ বল খেলে ৩ রান করেন সাকিব। ৭০ রানে ৩ উইকেট হারালো বাংলাদেশ।

দুই ওপেনারকেই বিদায় করলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক

বল হাতে ১২তম ওভারে বাংলাদেশের ৫৫ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙেন দাসুন শানাকা। শ্রীলঙ্কার অধিনায়কের শিকার হন মেহেদী হাসান মিরাজ। আরেক ওপেনার মোহাম্মদ নাঈমও শানাকার পরের ওভারে বিদায় নিলেন। ৪৬ বলে ২১ রান করে পেছনে কুশল মেন্ডিসের গ্লাভসে ধরা পড়েন বাংলাদেশি ওপেনার। ৬০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারালো বাংলাদেশ। একই ওভারে সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর আপিলে সাড়া না পেয়ে রিভিউ নেন শানাকা। বল আউটসাইড লেগে থাকায় আম্পায়ারের আগের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। ১৫ ওভারে ২ উইকেটে ৬৫ রান বাংলাদেশের।

শ্রীলঙ্কার কাছে আবার হারলো বাংলাদেশ

দারুণ শুরু এনে দিয়ে প্যাভিলিয়নে মিরাজ

সাবলীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোহাম্মদ নাঈম। ১১তম ওভারেই দলীয় স্কোর পঞ্চাশ পার করেন। মিরাজ ভুল করলেন পরের ওভারে। দাসুন শানাকার বল পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ে এলোমেলো হলো। মিডউইকেট বদলি ফিল্ডার হেমন্তের ক্যাচ হন তিনি। ২৯ বলে চারটি চারে ২৮ রান করেন মিরাজ। ৫৫ রানে প্রথম উইকেট হারালো বাংলাদেশ।

পাওয়ার প্লেতে নাঈম-মিরাজে বাংলাদেশের ৪৭ রান

মেহেদী হাসান মিরাজ পাকিস্তানের বিপক্ষে ডাক মেরেছিলেন। আবারও তিনি ওপেনিংয়ে সাবলীল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মোহাম্মদ নাঈমকে নিয়ে তিনি পাওয়ার প্লেতে ৪৭ রান তুলে ফেলেছেন। শ্রীলঙ্কা এই সময়ে করেছিল ১ উইকেটে ৫১ রান।

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শুরু মিরাজের

প্রথম ওভারে এলো মাত্র ৩ রান। দ্বিতীয় ওভারে মাহিশ ঠিকশানার কাছ থেকে ৯ রান আদায় করলেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। এর মধ্যে মিরাজ একাই দুটি বাউন্ডারি মেরেছেন।

জিততে বাংলাদেশের চাই ২৫৮ রান

সেঞ্চুরি করতে শেষ ওভারে সাদিরা সামারাবিক্রমাকে করতে হতো ১৭ রান। তৃতীয় বলে স্ট্রাইকে গিয়ে প্রত্যাশিতভাবে আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি।তাসকিন আহমেদের ওপর চড়াও হয়ে টানা চার ও ছয়ও মারেন। পঞ্চম বলে টাইমিংয়ে গড়বড় করে রান নিতে পারেননি। শেষ বলে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচ হন তিনি। ৭২ বলে ৮ চার ও ২ ছয়ে ৯৩ রানে অপরাজিত ছিলেন সাদিরা। তার শেষ দিকের ঝড়ে আড়াইশ পার করা নিয়ে শঙ্কায় থাকা শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে ২৫৭ রান করে।

এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশকে করতে হবে ২৫৮ রান। বল হাতে তাসকিন ও হাসান মাহমুদ তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। মাঝের দিকে পাথুম নিসাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিসকে ফিরিয়ে শরিফুল ইসলাম দারুণ ব্রেক থ্রু আনেন। বোলাররা মোটামুটি সফল, এবার ব্যাটারদের দায়িত্ব। 

শেষ ওভারে তাসকিনের দ্বিতীয় উইকেট

ইনিংসের শেষ ওভারে বল হাতে নিয়ে দ্বিতীয়বার সাফল্য পেলেন তাসকিন আহমেদ। তার বলে মাহিশ ঠিকশানা কট বিহাইন্ড হন। ২৪৬ রানে অষ্টম উইকেট গেলো শ্রীলঙ্কার।

পা দিয়ে রান আউট করলেন হাসান

হাত দিয়ে বল থ্রো করে নয়, পা দিয়ে রান আউট করলেন হাসান মাহমুদ। নন স্ট্রাইকে থাকা দুনিথ ভেল্লালাগে স্ট্রাইকিং প্রান্তে পৌঁছানোর আগেই পায়ের আলতো টোকায় স্টাম্প ভেঙে দেন।

সাদিরা সামারাবিক্রমা হাসানের ইযর্কার সামলাতে পারেননি। তার পায়ের পাতায় বল আঘাত করে, লেগ বাই নিতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে হাসানের দারুণ দক্ষতায় খেসারত দিতে হলো উইকেট হারিয়ে। ২৪৩ রানে ৭ উইকেট হারালো শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কার কাছে আবার হারলো বাংলাদেশ

হাসানের বলে প্যাভিলিয়নে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক

সাদিরা সামারাবিক্রমা ও দাসুন শানাকার ব্যাটে শ্রীলঙ্কা তাদের দ্বিতীয় সেরা জুটির দেখা পায়। ৬০ রানে তাদের বিচ্ছিন্ন করলেন হাসান মাহমুদ। ৩২ বলে ২৪ রানে থামেন শানাকা। অধিনায়ককে বোল্ড করেন হাসান। ২২৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারালো শ্রীলঙ্কা। ৪৭ ওভারে ৬ উইকেটেতাদের রান ২২৬।

সাদিরার হাফ সেঞ্চুরি

১৬৫ রানে পঞ্চম ব্যাটারকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে ফেলেন হাসান মাহমুদ। তবে সাদিরা সামারাবিক্রমা সেট হয়ে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। তার সঙ্গে অধিনায়ক দাসুন শানাকা প্রতিরোধ গড়েছেন। ৪৩ ওভারে ৫ উইকেটে স্বাগতিকদের রান ২০২।

ধনঞ্জয়াকে থামালেন হাসান

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে চাপে রেখেছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদের বল ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা কট বিহাইন্ড হন। দলীয় ১৬৫ রানে মুশফিকুর রহিম তার ক্যাচ নেন। ১৬ বলে ৬ রান করেন ধনঞ্জয়া। ৩৮ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭১ রান শ্রীলঙ্কার।

শ্রীলঙ্কার কাছে আবার হারলো বাংলাদেশ তাসকিনের শিকার আসালাঙ্কা

শরিফুল ইসলামের জোড়া সাফল্যের পর তাসকিন আহমেদও পেলেন উইকেটের দেখা। বাংলাদেশি পেসারের স্লোয়ার ডেলিভারিতে মিড অনে বল উড়ান চারিথ আসালাঙ্কা। কিন্তু সাকিব আল হাসান দৌড়ে এসে স্লাইড করে নিচু ক্যাচ ধরেন। ২৩ বলে ১ চারে ১০ রান করেন লঙ্কান ব্যাটার। ৩৬ রানের ব্যবধানে তিন উইকেট তুলে নিলো বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার রান ৩২ ওভারে ৪ উইকেটে ১৪৪।

নিসাঙ্কার পর মেন্ডিসকেও প্যাভিলিয়নে পাঠালেন শরিফুল

শরিফুল ইসলাম তার চতুর্থ ওভারে ভেঙে দিলেন বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তি তৈরি করা শ্রীলঙ্কার জুটি। পাথুম নিসাঙ্কাকে এলবিডব্লিউ করেন তিনি। রিভিউ নিয়েও লঙ্কান ব্যাটার সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারেননি। ৬০ বলে ৫ চারে ৪০ রান করেন নিসাঙ্কা। ভেঙে যায় কুশল মেন্ডিসের সঙ্গে তার ৭৪ রানের জুটি। বাংলাদেশি পেসার তার পরের ওভারে মেন্ডিসকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান। পরের ওভারে তার বলেই চার মেরে হাফ সেঞ্চুরি করেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটার। তিন বল পর তার ডেলিভারিতে থার্ড ম্যানে তাসকিন আহমেদের সহজ ক্যাচ হন মেন্ডিস, করেন ৭৩ বলে চার ৪ ও ১ ছয়ে ৫০ রান।

শ্রীলঙ্কার কাছে আবার হারলো বাংলাদেশ

মেন্ডিসের ক্যাচকে ছক্কা বানালেন শামীম

২২তম ওভারে শরিফুলের বলে পুল করেছিলেন কুশল মেন্ডিস। বল ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ গিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু শামীম সেটি হাতে তো নিতেই পারেননি। উল্টো হাতে লেগে সেটি ছক্কায় পরিণত হয়েছে। তাতে এই ওভারেই দলীয় স্কোর শত রান ছাড়ায় শ্রীলঙ্কার।  

নিসাঙ্কার ক্যাচ মিসের পর লঙ্কান জুটির পঞ্চাশ 

৩৪ রানে পড়েছে লঙ্কানদের প্রথম উইকেট। তার পর আর লঙ্কানদের উইকেট ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। নিসাঙ্কা-মেন্ডিসের ব্যাট-ই ভরসা দিচ্ছে তাদের। ১৮.২ ওভারে হাসানের বলে উইকেটের পেছনে নিসাঙ্কার ক্যাচ গেলেও সেটি গ্লাভসে রাখতে পারেননি মুশফিক। তখন নিসাঙ্কা ৩৬ রানে ব্যাট করছিলেন। এক বল পর অবশ্য পঞ্চাশ পূরণ করে এই জুটি। 

পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কার ৫১

৩৪ রানের ওপেনিং জুটি ভেঙেছেন হাসান। তার পর মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন নিসাঙ্কা। দু’জনের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কা ৫১ রান তুলেছে। অষ্টম ওভারে হাসান মাহমুদ দুটি বাউন্ডারি খাওয়ার পর নবম ওভারেই আক্রমণে আসেন সাকিব। লক্ষ্য ছিল রানের রাশ টেনে ধরা। পরের ওভারে আসেন নাসুম। তাতে সাফল্যও মেলে। পাওয়ার প্লের শেষ দুই ওভারে মাত্র চার রান দিয়েছেন তারা। 

শ্রীলঙ্কার কাছে আবার হারলো বাংলাদেশ

করুনারত্নেকে ফেরালেন হাসান মাহমুদ

দেখে শুনেই খেলছিলেন লঙ্কান দুই ওপেনার। করুনারত্নে একটু সময় নিয়ে ব্যাট চালানো শুরু করেছিলেন। ষষ্ঠ ওভারে এসে আরও বেশি আগ্রাসী হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। হাসান মাহমুদের বলে টানা দুই চারে আত্মবিশ্বাসী সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু তৃতীয় বলে লঙ্কান ওপেনারকে গ্লাভসবন্দি করিয়েছেন হাসান। তার ব্যাক অব লেন্থের বলটা অনেক সু্ং করেছিল। বামহাতি ব্যাটার ডিফেন্ড করতে গিয়ে পরাস্ত হন পুরোপুরি। বল তার ব্যাটে এজ হয়ে জমা পড়ে মুশফিকের গ্লাভসে। ফেরার আগে ১৭ বলে ১৮ রান করেন করুনারত্নে।    

শুরুতে রিভিউ নিয়ে রক্ষা পেলেন লঙ্কান ওপেনার

প্রথম ওভারে তাসকিনের চতুর্থ বলে এলবিডাব্লিউ হয়েছিলেন ওপেনার নিসাঙ্কা। আম্পায়ার আঙুলও তুলেছিলেন। কিন্তু সংশয় থাকায় রিভিউ নেন লঙ্কান ওপেনার। তাতে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। রিপ্লেতে দেখা গেছে, বল উইকেট মিস করেছে।       

টসের মুহূর্তে ছবি। শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ

এশিয়া কাপে ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার মিশনে আজ সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি বাংলাদেশ। কলম্বোয় টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিং নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। 

বাংলাদেশ দলে পরিবর্তন এনেছে একটি। আফিফ হোসেনের জায়গায় একাদশে ঢুকেছেন নাসুম আহমেদ।  

শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা অবশ্য বলেছেন, টস জিতলে তিনি ব্যাটিং-ই নিতেন। তিনি বলেছেন, পিচটা ব্যাটিং ট্র্যাক। পরে আলোর নিচে বলে কিছুটা মুভমেন্টও আসবে। সন্ধ্যায় টার্নও প্রত্যাশা করছেন তিনি।    

বাংলাদেশ একাদশ: মোহাম্মদ নাঈম, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, তাওহীদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, শামীম হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, নাসুম আহমেদ। 

শ্রীলঙ্কা একাদশ: পাথুম নিসাঙ্কা, দিমুথ করুণারত্নে, কুশল মেন্ডিস, সাদিরা সামারাবিক্রমা, চারিথ আসালাঙ্কা, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, দাসুন শানাকা (অধিনায়ক), দুনিথ ভেল্লালাগে, মাহিশ থিকশানা, মাথিশা পাথিরানা, কাসুন রাজিথা।

আজ বাংলাদেশকে জিততেই হবে

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরাজিত হলে বাংলাদেশের আজ ছিটকে যাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার কাছে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই হেরেছিল। ব্যাটিং ব্যর্থতার ম্যাচে বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটাররা ব্যর্থ হয়েছেন। ১৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর অনায়াসেই ম্যাচ জেতে লঙ্কানরা। এরপর সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষেও ছিল একই পরিণতি। বাংলাদেশ ১৯৩ রানে অলআউট হলে জবাবে পাকিস্তান ম্যাচ জিতে নেয় ৭ উইকেটের ব্যবধানে।

/এফআইআর/এফএইচএম/
সম্পর্কিত
তিন বছর পর দেশের বাইরে টেস্ট জিতলো পাকিস্তান 
হৃদয়-সাকিবদের জাফনা ফাইনালে
সাকিব আল হাসানের বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, ভাঙচুর 
সর্বশেষ খবর
ডোবায় গৃহবধূর লাশ, তিন আসামি র‍্যাবের হা‌তে গ্রেফতার
ডোবায় গৃহবধূর লাশ, তিন আসামি র‍্যাবের হা‌তে গ্রেফতার
সরকার নির্বাচনের শুরু থেকেই বিশ্বাসঘাতকতা করছে: নাহিদ
সরকার নির্বাচনের শুরু থেকেই বিশ্বাসঘাতকতা করছে: নাহিদ
আজ আঙুলের স্বাধীনতা দিবস!
আজ আঙুলের স্বাধীনতা দিবস!
বানরের দাপটে দিশেহারা নেপালের কৃষকরা
বানরের দাপটে দিশেহারা নেপালের কৃষকরা
সর্বাধিক পঠিত
সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেফতার করায় যা বললেন সারজিস আলম
সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেফতার করায় যা বললেন সারজিস আলম
সমিতির ৩৯১ কোটি টাকা আত্মসাৎ, জামায়াতের সাবেক আমির গ্রেফতার
সমিতির ৩৯১ কোটি টাকা আত্মসাৎ, জামায়াতের সাবেক আমির গ্রেফতার
দক্ষিণ এশিয়ায় চমক দেখালো টাকা
দক্ষিণ এশিয়ায় চমক দেখালো টাকা
সূর্যের সবচেয়ে নিখুঁত ছবিতে নতুন বিস্ময়
সূর্যের সবচেয়ে নিখুঁত ছবিতে নতুন বিস্ময়
কী কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল?
কী কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল?