মুম্বাইতে ৪৯তম সেঞ্চুরিতে কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারকে ছুঁয়ে ফেলার সুযোগ ছিল বিরাট কোহলির সামনে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই ম্যাচে মাঠেই ছিলেন শচীন। সুযোগ ছিল এক কিংবদন্তির সামনে আরেক কিংবদন্তির কীর্তি ছোঁয়ার। কিন্তু সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও ৮৮ রানে দিলশান মাদুশাঙ্কার স্লোয়ারে অপেক্ষা বাড়ালেন কিং কোহলি। তবে পরের ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে ভারতীয় ব্যাটিং গ্রেট শচীনকে ছুঁয়ে ফেললেন তিনি। জন্মদিনে এমন অর্জনে পুরো গ্যালারি কোহলি বন্দনায় মাতোয়ারা হলো।
লঙ্কানদের বিপক্ষে আগের ম্যাচে কোহলির সেঞ্চুরি মিসে হয়তো হতাশ হয়েছিলেন সিটি অব জয় খ্যাত কলকাতার সমর্থকরা! তাদের স্বপ্ন ছিল কিং কোহলি নিজের জন্মদিনে ৫০তম সেঞ্চুরি করে ইডেন রাঙাবেন, শচীনের রেকর্ডে ভেঙে নিজেকে ছাড়িয়ে যাবেন। পুরো স্বপ্ন হয়তো পূরণ হয়নি কলকাতা বাসীর। কিন্তু নিজের ৩৫তম জন্মদিনকে রাঙিয়েছেন দারুণ এক কীর্তি গড়ে, কলকাতাবাসীকে আনন্দে ভাসিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডেসের ম্যাচ দিয়ে চলতি বিশ্বকাপে ইডেন গার্ডেন্সের পর্দা উঠেছে। এই মাঠে বাংলাদেশ টানা দুটো ম্যাচ খেলেছে। অন্যটি পাকিস্তানের বিপক্ষে। দুটি ম্যাচ চলাকালে ভারতীয় সাংবাদিক, দর্শক, সংগঠক থেকে সবার আলেচনাতেই ছিল ভারত ও দক্ষিন আফ্রিকার মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে আলোচনা। দুই সপ্তাহ আগেই এই ম্যাচটি ঘিরে কলকাতায় ছিল উৎসবের আমেজ।
এই যখন পরিস্থিতি, প্রত্যাশিতভাবেই ভারতীয় দল কলকাতায় পৌঁছানোর পর কোহলিদের নিয়ে বাড়তি উন্মাদনা হওয়াটাই বরং স্বাভাবিক। এবার ইডেনে ম্যাচ শুরুর আগে সমস্ত আগ্রহ ছিল কোহলিকে ঘিরে। রবিবার ম্যাচ শুরুর আগে ইডেন গার্ডেন্সের আশপাশ কোহলিকে নিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে যায়। তার আগের ৪৮ সেঞ্চুরির প্রতিটি উদযাপনের মুহূর্তগুলো বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে। কোহলিকে নিয়ে নানা স্লোগান, জার্সিতে তাকে নিয়ে নানা উক্তি। ইডেন গার্ডেন্সের গ্যালারিতে প্রায় বেশিরভাগের হাতেই শোভা পাচ্ছে ‘হ্যাপি বার্থডে কিং কোহলি’লেখা ব্যানার। ভারতের ইনিংসের বেশিরভাগ সময়টাতেই গ্যালারি থেকে গর্জন হয়েছে ‘কোহলি, কোহলি’।
কোহলি মাঠে ঢোকার পর গার্ড নেওয়ার আগে পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি দর্শক তাকে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জন্মদিনে এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা সঙ্গী করেই ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। ভক্তদের নিরাশ করেননি। সেঞ্চুরিতে রাঙিয়ে ভক্তদের আক্ষেপ, অপেক্ষা- সবটাই দূর করেছেন তিনি। এই বিশ্বকাপ শুরুর আগে শচীনের চেয়ে দুটি সেঞ্চুরি পিছিয়ে ছিলেন কোহলি। রবিবার কলকতায় ১১৯ বলে ১০ চারে সেঞ্চুরি করে হয়ে যান ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান।
শচীন ২০১২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছিলেন ওয়ানডের ৪৯তম ও ক্যারিয়ারের শততম সেঞ্চুরি। ৪৯ সেঞ্চুরি করতে শচীনের লেগেছিল ৪৫১ ইনিংস। অন্যদিকে কোহলির লাগলো মাত্র ২৭৭ ইনিংস। সব কিছু ঠিক থাকলে বিশ্বকাপে আরও অন্তত তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন তিনি। তাতে করে শচীনকে ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানো তার জন্য কেবল সময়ের ব্যাপার।
ওয়ানডের শীর্ষ সেঞ্চুরির তালিকায় তিনজনই ভারতের। ৪৯ সেঞ্চুরিতে টেবিলের দুটি স্থানে শচীন ও কোহলি। ৩১ সেঞ্চুরি করে তিন নম্বরে আছেন রোহিত। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং ৩০ সেঞ্চুরি করে আছেন তালিকার চার নম্বরে। ২৮ সেঞ্চুরিতে তালিকার পঞ্চম স্থানে লঙ্কান গ্রেট ক্রিকেটার সনাথ জয়াসুরিয়া।
শচীন তো খেলা ছেড়েছেন বহু আগে। আর কোহলি এখনও দেদীপ্যমান। আলো ছড়াচ্ছেন। দলকে কীভাবে জয়ের বন্দরে বন্দরে ভেড়াবেন, সেই স্বপ্ন আঁকছেন প্রতিনিয়ত। রোহিত ছাড়া খেলা চালিয়ে যাওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে কেউই কোহলির ধারে কাছে নেই। কোহলির ফিটনেস ও ফর্মের অবস্থা যেমন, তাতে করে নিজেকে কোথায় নিয়ে যান সেটাই দেখার। শচীনকে ছুঁয়ে কোহলির এখন অপেক্ষা তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। শচীন যেবার ভারতের মাটিতেই বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন, সেই দলে ছিলেন কোহলিও। এবার অধিনায়ক হিসেবে না থাকলেও রোহিতের পাশে আছেন। ট্রফি জয়ের পাশাপাশি শচীনকে ছাড়ানোর কীর্তি গড়া গেলে কোহলি হতে পারেন ভারতের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারের একজন।









