শান্তর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নে দাগ কেটে দিলো ভারত

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৩:৪২আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ২৩:৪২

বাংলাদেশের টপ অর্ডারের ব্যাটিং সমস্যা দীর্ঘদিনের। সেটাই যেন আরও একবার ফিরে এলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মঞ্চে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা বাংলাদেশের ব্যাটারদের পুরানো সমস্যাই ফুটে উঠলো নতুন করে। ভারতের বিপক্ষে জেতার জন্য যতটুকু পুঁজির প্রয়োজন ছিল, বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে সেটি ছিল না। ফলে বোলাররা লড়াই করে জেতার অবস্থায় দলকে নিয়ে যেতে পারেননি। জাকের আলী ও তাওহীদ হৃদয়ের লড়াকু ইনিংসের স্কোরবোর্ডে ২২৮ রানের সংগ্রহ দাঁড়ায়। সেই লক্ষ্যটা ২১ বল আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে ছুঁয়ে ফেলে ভারত। টানা দুই সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়ে ম্যাচসেরা হন শুবমান গিল।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা টসের পর জানিয়েছিলেন তিনি টসে জিতলে বোলিংই করতেন। এমনিতেই দুবাইয়ের উইকেট ব্যাটিং বান্ধব। শান্তর সিদ্ধান্ত নিয়ে খুব বেশি সমালোচনা করার কিছু ছিল না। যদিও না টস জিতে তার ব্যাটাররা সফল হতে পারতেন! শুধু টস জেতার সিদ্ধান্তটুকুই নয়, ম্যাচ হারের পেছনে সেরা কম্বিনেশন সাজানো নিয়েও প্রশ্ন আছে। যে নাহিদ রানা জুজু পেয়ে বসেছিল ভারতীয়দের মনে, তাকে ডাগআউটে বসিয়ে রাখার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে খুব ভালো বাছাই নয় মোস্তাফিজুর রহমান। সেটি তার আজকের পারফরম্যান্স দেখলেই বোঝা যাবে। প্রথম দুই ওভারে কেবল রোহিত শর্মাকে কিছুটা চাপে রাখতে পেরেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে ৯ ওভারে ৬২ রান খরচ করে একটি উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার। তার জায়গায় দুবাইয়ের উইকেটে গতির ঝড় তুলে ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে ভীতি কিছুটা হলেও তৈরি করতে পারতেন নাহিদ!

তবে বোলিং বিভাগে টিম কম্বিনেশন যেমনই হোক না কেন ব্যাটিংয়ে তার প্রভাব পড়ার কথা না। কিন্তু সেটাই হলো। প্রথম দুই ওভারে সৌম্য সরকার এবং শান্ত রানের খাতা না খুলেই সাজঘরে ফিরেছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যাটারের এই পারফরম্যান্স ভারতের বিপক্ষে দলীয় স্কোরবোর্ডে অনেক প্রভাব ফেলেছে। সৌম্য-শান্তর পর তানজিদ হাসান তামিম, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত বিদায় নিলে অথৈ সাগরে পড়ে যায় বাংলাদেশ। উপরের ৫ ব্যাটারের মধ্যে তিনজনই রানের খাতা খুলতে পারেননি। ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিধ্বস্ত ব্যাটিং লাইনআপের হাল ধরেন জাকের ও হৃদয়। ৬ষ্ঠ উইকেটে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রেকর্ড ১৫৪ রানের জুটি গড়েছেন তারা। শুধু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই নয়, ওয়ানডে ক্রিকেটে ষষ্ঠ উইকেটে এটি বাংলাদেশের রেকর্ড জুটি এবং ভারতের বিপক্ষেও তাদের যে কোনও উইকেটে সর্বোচ্চ। দুজনের এই জুটির ওপর ভর করে ভারতকে ২২৯ রানের লক্ষ্য দিতে পারে বাংলাদেশ।

ম্যাচে হৃদয় দারুণ ব্যাটিং করেছেন। আসা যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত আগলে রেখে প্রতিরোধ গড়েন তিনি। ধীরস্থিরভাবে ইনিংস গড়ে তোলেন, শেষ দিকে ক্লান্তি জয় করেও চালিয়ে যান লড়াই। ৪৭.৬ ওভারে কুলদীপ যাদবের বলে ডিপ পয়েন্টে রান নিতে গিয়ে রান আউটের শঙ্কায় ড্রাইভ দিয়ে পড়ে যান। হৃদয় এতটাই বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন যে মনে হচ্ছিল আর উঠে দাঁড়াতেই পারবেন না! যদিও কয়েক সেকেন্ড পর উঠে দাঁড়িয়ে আবারও ব্যাটিং চালিয়ে যান। পান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা! ১১৪ বলে ১০০ রানের লড়াকু ইনিংস, যেখানে ৮টি চার ও ২টি ছক্কার মার ছিল। হৃদয়ের ১০০ ও জাকেরের ৬৮ রানের ইনিংসে ভর করে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সম্মানজনক স্কোর গড়ে। 

দুবাইয়ের উইকেটে ২২৯ রানের মামুলি এই লক্ষ্য কঠিন কিছু ছিল না। ম্যাচটাকে আরও সহজ করে তোলেন দুই ওপেনার রোহিত ও গিল। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার এক বল আগে রোহিত সাজঘরে ফেরেন। ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে উঠে গেছে ৬৯ রান। রোহিত ৩৬ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলার পথে ১১ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছান। বাংলাদেশের কোনও বোলারই চাপ প্রয়োগ করতে পারেনি ভারতীয় ব্যাটারদের উপর। বিশেষ করে তানজিম হাসান সাকিব ও মোস্তাফিজের বোলিং ভুগিয়েছে দলকে। জুনিয়র সাকিব ৮.৩ ওভারে ৫৮ রান খরচ করে ছিলেন উইকেটশূন্য। দলের হয়ে সেরাটা নিংড়ে দিয়েছেন তাসকিন। ফিল্ডাররা সহায়তা করলে আর একটি উইকেট নামের সঙ্গে যোগ হতে পারতো তার। ৯ ওভারে ৩৬ রান খরচ করে নিয়েছেন একটি উইকেট। মিরাজ কিছুটা কিপ্টে বোলিং করলেও প্রভাব ফেলতে পারেননি।

তবে লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ম্যাচের মোমেন্টাম ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। বিরাট কোহলি ও অক্ষর প্যাটেলকে দ্রুত ফিরিয়ে কিছুক্ষণের জন্য ম্যাচ বাংলাদেশের পক্ষে নিয়ে আসেন। ১০ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে রিশাদ শিকার করেন দুটি উইকেট।

ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ হয়তো নিতে পারতো বাংলাদেশ। ৩৭তম ওভারে লোকেশ রাহুল ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন স্কয়ার লেগে। কিন্তু জাকের সেই ক্যাচটি নিতে পারেননি। তখনো ভারতের জেতার জন্য প্রয়োজন ৬৩ রান। এরপর একটি রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। এই দুটো আউট পেলে হয়তো ম্যাচের গল্পটা ভিন্ন হতো! কিন্তু আজকের দিনটি মোটেও বাংলাদেশের ছিল না। ব্যাটিংয়ে বাজে শুরুর পর বোলিংয়েও ছিল ছন্নছাড়া। ভারতের ইনিংসের পাওয়ার প্লের সুযোগ নিতে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। রোহিত ক্লাসিক ব্যাটিং করে ভিত গড়ে দিয়েছেন। সেখান থেকে গিল সেঞ্চুরি করে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন।

/আরআই/এফএইচএম/
সম্পর্কিত
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
পদত্যাগ করেছেন শন টেইট
সর্বশেষ খবর
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী