২৩ বছর পর আবারও ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। আগামী ১৩ আগস্ট প্রথম টেস্টে মাঠে নামার আগে তাই ফিরে দেখা যাক এই মাঠে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টটির স্মৃতি। যে স্মৃতি মোটেও সুখকর নয়।
মজার ব্যাপার হলো, মারারা স্টেডিয়ামে প্রথমবার টেস্ট আয়োজন করা হয়েছিল বাংলাদেশকে দিয়েই। ২০০৩ সালে সেই ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার কাছে একপেশে লড়াইয়ে এক ইনিংস ও ১৩২ রানে হেরেছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের দল। মাত্র তিন দিনেই শেষ হয়েছিল সেই টেস্ট।
টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ। এরপর গ্লেন ম্যাকগ্রা, ব্রেট লি ও জেসন গিলেস্পিদের পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটিং।
মাত্র ৪২.২ ওভারে ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন মোহাম্মদ আশরাফুল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান আসে অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজনের ব্যাট থেকে।
বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ম্যাকগ্রা ২০ রানে নেন ৩ উইকেট। ব্রেট লি-ও নেন ৩ উইকেট, খরচ করেন ২৩ রান। জেসন গিলেস্পি ২৭ রানে নেন ২ উইকেট। বাকি ২ উইকেট নেন স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল।
জবাবে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর দাপট দেখিয়ে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া। ৭ উইকেটে ৪০৭ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকরা।
সেঞ্চুরি করেন ড্যারেন লেম্যান ও অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ। লেম্যান আউট হন ১১০ রানে। আর ওয়াহ ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।
প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত ১৭৮ রানে থেমে যায় সফরকারীদের ইনিংস।
হাফসেঞ্চুরি করেন হাবিবুল বাশার। তিনি করেন ৫৪ রান। ওপেনার হান্নান সরকারের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ রান। আল শাহরিয়ার করেন ৩৬।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন লেগ স্পিনার স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল। তিনি ৬৫ রানে নেন ৫ উইকেট। জেসন গিলেস্পি নেন ২ উইকেট, খরচ করেন ৪৮ রান। ম্যাচসেরার পুরস্কার ওঠে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহর হাতে।
২৩ বছর পর একই মাঠে আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সময়ের পরিক্রমায় টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি করেছে টাইগাররা। তাই এবার পুরোনো সেই দুঃস্বপ্ন বদলে নতুন গল্প লেখার অপেক্ষা। যদিও এবারের সফরের শুরুটা আশাব্যঞ্জক হয়নি।
ডারউনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসনের তোপে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা।
এর আগে প্রথম ইনিংসে অবশ্য ব্যাট হাতে বাংলাদেশের মান বাঁচিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে ১০৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার ব্যাটেই বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ পৌঁছায় ২৬৩ রানে। তবু শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৩৮ রানে ম্যাচটি হারে বাংলাদেশ।
এবার তাই ১৩ আগস্ট মারারা স্টেডিয়ামে নামার আগে প্রশ্ন একটাই-২৩ বছর আগের সেই দুঃস্বপ্ন কি এবার বদলে দিতে পারবে বাংলাদেশ?








