ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর ম্যাকাইয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়া। রবিবার মাত্র দুই দিনে শেষ হওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। একই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে।
২০২৩ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া চলতি চক্রের শুরুটা করেছিল দুর্দান্তভাবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার পর ঘরের মাঠে অ্যাশেজ ধরে রেখেছিল তারা। তবে ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক হার তাদের শীর্ষস্থান কিছুটা নড়বড়ে করে দিয়েছিল।
তবে ম্যাকাইতে দারুণ প্রত্যাবর্তনের পর ১০ ম্যাচে ৮ জয় নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট শতাংশ এখন ৮০। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার পথে তারা আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন আরও কঠিন পরীক্ষা। অক্টোবরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজ খেলবে তারা। এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ এবং ২০২৭ সালের শুরুতে ভারতের মাটিতে বহুল প্রতীক্ষিত বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে অংশ নেবে অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশ হারলেও টেবিলে চতুর্থ অবস্থান ধরে রেখেছে। তাদের পয়েন্ট ৫৫.৫৬ শতাংশ। এর আগে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় এবং ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল টাইগাররা।
বাংলাদেশের সামনে এখন ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ। এসব সিরিজে ভালো ফল করতে পারলে ফাইনালের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারবে তারা।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পরও ভারতের অবস্থানে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজে পূর্ণতা আনতে পারলে বদলে যেতে পারে সমীকরণ।
বর্তমানে ১০ ম্যাচে ভারতের সংগ্রহ ৬৪ পয়েন্ট এবং পয়েন্ট শতাংশ ৫৩.৩৩। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট জিতলে ভারতের সেটা বেড়ে দাঁড়াবে ৫৭.৫৭ শতাংশ এবং তারা টেবিলে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে চতুর্থ স্থানে উঠে আসবে।
অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার জয় সরাসরি ভারতের অবস্থান বদলায়নি, কিন্তু ফাইনালের লড়াই আরও জমিয়ে তুলেছে এবং কলম্বোয় ভারতের সামনে অবস্থান উন্নত করার পরিষ্কার সুযোগ তৈরি হয়েছে।









