২০১৮ বিশ্বকাপের বছর। ফুটবল মহাযজ্ঞের উত্তেজনার আঁচ এখনই পেতে শুরু করেছে বিশ্ব। ফুটবল উৎসবে মেতে ওঠার আগে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোকে নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই ভক্ত-সমর্থকদের। এবারও অংশ নিচ্ছে ৩২ দল। তাদের শক্তি-দুর্বলতা, স্কোয়াড, প্রতিপক্ষ নিয়ে সাজানো আমাদের এই আয়োজন। আজ থাকছে ‘সি’ গ্রুপের অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে-
বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে কখনও এতটা কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়নি কোনও দলকে। রাশিয়ার মূল পর্বের টিকিট পেতে অস্ট্রেলিয়াকে খেলতে হয়েছে ২২ ম্যাচ! ১১ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পাড়ি দিতে হয়েছে আড়াই লাখ কিলোমিটার। বাছাই পর্বে সকারুরা মাত্র ২ ম্যাচে হারলেও ড্রয়ের পর ড্র করায় সরাসরি পায়নি বিশ্বকাপের টিকিট। গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় খেলতে হয় প্লে অফ।
অস্ট্রেলিয়াকে খেলতে হয়েছে চারটি প্লে অফ। প্রথমে এশিয়া অঞ্চলের প্লে অফে মুখোমুখি হয় সিরিয়ার, এরপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে অফ খেলে হন্ডুরাসের বিপক্ষে। কনকাকাফ অঞ্চলের দলের মাঠ থেকে গোলশূন্য ড্র করে ফিরলেও সিডনিতে ৮০ হাজার দর্শকের সামনে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া ৩-১ গোলের জয়ে।
একনজরে:
অধিনায়ক: মাইল জেডিনাক
কোচ: বার্ট ফন মারউইক
ডাকনাম: সকারুস
র্যাংকিং: ৪০ (জুন ৭ পর্যন্ত)
ফিরে দেখা বাছাই পর্ব:
বাছাই পর্বে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। এশিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ে নিজেদের গ্রুপে তৃতীয় হওয়ায় সরাসরি জায়গা পায়নি রাশিয়ার আসরে। খেলতে হয় তাদের প্লে অফ, সেখানে সিরিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর নিশ্চিত করে ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে অফ। কনকাকাফ অঞ্চলের হন্ডুরাসের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়া প্লে অফের প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র করে ফিরলেও ঘরের মাঠের ফিরতি লেগ ৩-১ গোলে জিতে পায় রাশিয়ার মূল পর্বের টিকিট।
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ গ্রুপ:
গ্রুপ পর্বেই অস্ট্রেলিয়াকে দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। ‘সি’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের ফ্রান্স। বাকি দুই প্রতিপক্ষ ইউরোপের ‘নতুন শক্তি’ ডেনমার্ক ও লাতিন আমেরিকার পেরু।
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ সূচি:
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ শুরু হবে ১৬ জুন। প্রথম ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। পাঁচ দিন পর ২১ জুন দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে ডেনমার্কের বিপক্ষে। আর ২৬ জুন পেরুর বিপক্ষে খেলবে গ্রুপের শেষ ম্যাচ।
১৬ জুন: ফ্রান্স
২১ জুন: ডেনমার্ক
২৬ জুন: পেরু
নজরে থাকবেন:
টিম কাহিল: বয়স যে শুধু একটি সংখ্যা, সেটাই যেন প্রমাণ করে চলেছেন টিম কাহিল। ৩৮ পেরিয়ে গেছে, অথচ এখনও তিনি অস্ট্রেলিয়ার নির্ভরতার প্রতীক। এক দশক আগে অস্ট্রেলিয়ার ‘সোনালী প্রজন্মের’ ইতি ঘটলেও শেষ চিহ্ন হয়ে এখনও রয়ে গেছেন তিনি। বড় মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ানদের মনে স্বপ্নের বীজ বুনে চলেছেন। গত তিন বিশ্বকাপে পাঁচবার লক্ষ্যভেদ করা কাহিল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় থাকলেও গোলমুখে প্রতিপক্ষদের মনে ভয় ছড়ান প্রতিনিয়ত। আর ফুটবলের সামান্যতম খোঁজ-খবর যারা রাখেন, তাদের অজানা নয় কাহিলের হেডের পারদর্শিতার কথা।
শক্তি: আক্রমণভাগ।
দুর্বলতা: ড্রেসিং রুম নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা তাদের। যে কোচের অধীনে বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে সকারুরা, সেই আনজ পোস্তাকোগলু দায়িত্ব ছাড়ার পর নতুন কোচের সঙ্গে রাশিয়ায় নামতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
ভবিষ্যদ্বাণী: গ্রুপ পর্ব।
৩২ জনের প্রাথমিক স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: ম্যাথু রায়ান, ব্র্যাড জোন্স, ড্যানি ভুকোভিচ।
ডিফেন্ডার: ট্রেন্ট স্যাইন্সবুরি, আজিজ বেহিচ, মিলোস ডেকেনিক, জশ রিসডন, ম্যাথু জারনাম, জেমস মেরেডিথ, ফ্রান কারাচিচ।
মিডফিল্ডার: মাইল জেডিনাক, মার্ক মিলিগান, জেমস ট্রোসি, টম রোজিক, ম্যাসিমো লঙ্গো, অ্যারন মোই, জ্যাকসন ইরভাইন, ইয়াশুয়া ব্রিলান্টে, দিমিত্রি পেত্রোতোস, ড্যানিয়েল আরজানি।
ফরোয়ার্ড: টিম কাহিল, রবি ক্রুস, ম্যাথু লেকি, নিকিতা রাকাভেৎসা, জেমি ম্যাকলারেন, অ্যান্ড্রু ন্যাবট।








