দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ। রাশিয়ায় বসতে যাচ্ছে ফুটবল মহাযজ্ঞের ২১তম আসর। তার আগের প্রতিযোগিতাটিগুলো কেমন ছিল, কারাই বা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল- ফুটবল উৎসবের বানে ভেসে যাওয়ার আগে একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক সেখানে-
ফুটবল ইতিহাসে নেদারল্যান্ডসের ওই দলটা দাগ কেটে আছে ভক্তদের মনে। ‘টোটাল ফুটবল’-এর ঝড় তোলা ডাচদের হাতে বিশ্বকাপ শিরোপা দেখেছিলেন অনেকেই। ফাইনালেও ফেভারিট ছিল ইয়োহান ক্রুইফরা, কিন্তু মিউনিখের ফাইনালে কমলা-ঝড় থামিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা উদযাপন করে পশ্চিম জার্মানি।
বিশ্বকাপের দশম আসর বসেছিল পশ্চিম জার্মানিতে। ১৩ জুন থেকে ৭ জুলাইয়ের ওই আসর দিয়ে শুরু হয় এখনকার ট্রফির পথচলা। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল তৃতীয়বার শিরোপা জেতায় স্থায়ীভাবে তাদের দেওয়া হয় জুলে রিমে ট্রফি। নতুন ট্রফিটি প্রথমবার হাতে তোলে পশ্চিম জার্মানি ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারিয়ে। ১৯৫৪ সালের পর আবার বিশ্বকাপ ঘরে তোলে জার্মানরা।
অন্য চোখে: নতুন ট্রফির বিশ্বকাপে প্রথমবার ফুটবল মহাযজ্ঞে সুযোগ পায় অস্ট্রেলিয়া, পূর্ব জার্মানি, হাইতি ও কঙ্গো।
একনজরে:
আয়োজক: পশ্চিম জার্মানি
মোট দল: ১৬
ভেন্যু: ৯
চ্যাম্পিয়ন: পশ্চিম জার্মানি
রানার্স-আপ: নেদারল্যান্ডস
মোট ম্যাচ: ৩৮
মোট গোল: ৯৭
সর্বোচ্চ গোলদাতা: জেগর্জ লাতো (পোল্যান্ড), ৭ গোল।
সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়: ভদিস্লাভ জমুদা (পোল্যান্ড)।
ফরম্যাট:
১৬ দল চার গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলেছে একে অন্যের সঙ্গে। জয়ের জন্য ছিল ২ পয়েন্ট, আর ড্রতে ১ পয়েন্ট। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দুই দল জায়গা পায় পরের রাউন্ডে। গ্রুপে দুই বা তার বেশি দলের পয়েন্ট সমান হলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দল সুবিধা পেয়েছে। আগের বিশ্বকাপের সঙ্গে এই পর্যন্ত সব মিল ছিল, তবে ১৯৭৪ সালের আসরের ফরম্যাটে বদল আসে পরের রাউন্ড থেকে।
আগে গ্রুপ পর্ব শেষ করেই দলগুলো নামতো কোয়ার্টার ফাইনালে, তবে পশ্চিম জার্মানির আসরে গ্রুপ পর্ব শেষে আরেকটি গ্রুপ রাউন্ড ছিল। যেখানে চার গ্রুপ থেকে আসা আট দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে যায়। ওই দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল জায়গা পায় ফাইনালে, আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা দুই দল মুখোমুখি হয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।
গ্রুপ পর্ব:
পশ্চিম জার্মানি ও পূর্ব জার্মানি ছিল একই গ্রুপে। গ্রুপ-১-এ পশ্চিম জার্মানিকে পেছনে রেখে চ্যাম্পিয়ন হয় পূর্ব জার্মানি। গ্রুপ-২ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যায় যুগোস্লাভিয়া ও ব্রাজিল। গ্রুপ-৩ থেকে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন এবং গ্রুপ-৪ থেকে পরে রাউন্ড নিশ্চিত করে পোল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয় রাউন্ড:
গ্রুপ পর্ব শেষে আবারও দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে যায় আগের রাউন্ড থেকে আসা আট দল। গ্রুপ ‘এ’তে ছিল নেদারল্যান্ডস, ব্রাজিল, পূর্ব জার্মানি ও আর্জেন্টিনা। ‘বি’ গ্রুপে ছিল পশ্চিম জার্মানি, পোল্যান্ড, সুইডেন ও যুগোস্লাভিয়া।
ক্রুইফের জোড়া লক্ষ্যভেদে আর্জেন্টিনাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু করে নেদারল্যান্ডস। পূর্ব জার্মানি (২-০) ও ব্রাজিলের (২-০) বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠে যায় ডাচরা। জার্মানি দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু করে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে। এরপর সুইডেনকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর পোল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত করে ফাইনাল।
ফাইনাল:
রাইনাস মিশেলের অধীনে নেদারল্যান্ডস ছিল দুর্দান্ত এক দল। বিপরীতে ঘরের মাঠ হওয়ায় পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে ছিল সমর্থকরা। ফুটবল বিশ্বের জন্য অপেক্ষা করছিল তাই উত্তেজনাকর ফাইনাল। জার্মানদের ঘরের মাঠ হলেও ফাইনালে ফেভারিট ছিল ডাচরা। তার প্রমাণও পাওয়া যায় ম্যাচ শুরুর বাঁশি থেকে। প্রথম মিনিটেই একক প্রচেষ্টায় ক্রুইফ ঢুকে পড়েছিলেন জার্মান বক্সে, তাকে আটকাতে গিয়ে উলি হোয়েন্স ফেলে দিলে রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে ঠাণ্ডা মাথায় স্পট কিক থেকে লক্ষ্যভেদ করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে নেন ইয়োহান নেসকেন্স।
ঘরের মাঠে জার্মানদের স্তব্দতা ভাঙে ২৫ মিনিটে, যখন রেফারি বিতর্কিত পেনাল্টি উপহার দেন পশ্চিম জার্মানিকে। স্পট কিক থেকে গোল করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান পল ব্রিটনার। এরপর বিরতিতে যাওয়ার আগে উল্টো জার্মানরাই এগিয়ে যায় গার্ড ম্যুলারের লক্ষ্যভেদে। ৪৩ মিনিটে দেওয়া ওই গোলটাই দ্বিতীয় শিরোপা এনে দেয় পশ্চিম জার্মানিকে।








