বিশ্বকাপের বাকি আর ১৩ দিন। রাশিয়ার ফুটবল মহাযজ্ঞে দলীয় পারফরম্যান্সের দিকে তো বটেই, ফুটবলপ্রেমীরা আলাদা নজর রাখবেন নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়ের ওপরও। যারা প্রতিপক্ষের মনে ভয় ছড়িয়ে পূরণ করবেন নিজ দলের প্রত্যাশা। তেমনই খেলোয়াড়দের নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। আজ থাকছে ফরাসি ফরোয়ার্ড আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানকে নিয়ে-
ফ্রান্সের জার্সিতে:
ম্যাচ: ৫২
গোল: ১৯
একটা অপবাদ সেঁটে গিয়েছিল তার নামের পাশে- ‘ফাইনাল হারা খেলোয়াড়’। আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের ফাইনাল খেলা মানেই হার, নিয়তি কিছুতেই বদলানো যাচ্ছিল না। অবশেষে বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে অপবাদটা ঘুচালেন তিনি অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের জার্সিতে ইউরোপা লিগ জিতে।
ফাইনাল জেতার জন্য তিনি কতটা মুখিয়ে ছিলেন, তা বোঝা যায় গ্রিয়েজমানের জোড়া লক্ষ্যভেদে। অলিম্পিক মার্শেইয়ের বিপক্ষে ফাইনালে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই শিরোপা জিতে অ্যাতলেতিকো। এই সাফল্যের সঙ্গে দুর্দান্ত ফর্ম নিয়ে নামতে যাচ্ছেন তিনি রাশিয়ার ফুটবল মহাযজ্ঞে।
ফ্রান্সে তারকা খেলোয়াড়ের ছড়াছড়ি। কাকে বাদ দিয়ে কাকে রাখবেন একাদশে- কোচ দিদিয়ের দেশমের মধুর সমস্যা। একাদশ যেমনই হোক, তার ইঞ্জিন যে গ্রিয়েজমান, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তার ওপরই প্রত্যাশা বেশি ফরাসিদের। ১৯৯৮ সালের পর আরেকবার ফুটবল আনন্দে ভেসে যেতে ফ্রান্সের ফুটবলপ্রেমীরা তাকিয়ে অ্যাতলেতিকো ফরোয়ার্ডের দিকে।
২০১৭-১৮ মৌসুম জুড়ে শোনা গেছে, মাদ্রিদের ক্লাব ছেড়ে বার্সেলোনায় যাচ্ছেন গ্রিয়েজমান। মৌসুম শেষে আলোচনাটা বেড়েছে আরও। তিনি নিজেও জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের আগে ভবিষ্যৎ ঠিক করে নিতে চান। যদিও এখন পর্যন্ত ভবিষ্যৎ ঠিক করেননি ফ্রান্সের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে অনুশীলন শুরু করা এই ফরোয়ার্ড।
শুধু বার্সেলোনা নয়, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসিও নাকি চাইছে ফরাসি তারকাকে। প্রচুর কর্মক্ষমতা, গতি ও রক্ষণেও কার্যকরী ভূমিকা রাখায় গ্রিয়েজমানের জন্য ১২০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতেও নাকি রাজি বার্সেলোনা। ফ্রান্স দলেও তার কদর অনেক। বিশেষ করে ২০১৬ সালের ইউরোতে এই ফরোয়ার্ড নিজের জাত চিনিয়েছেন ভালোভাবে। ফাইনালে পর্তুগালের বিপক্ষে হারলেও তিনি হয়েছিলেন প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতা।
অ্যাতলেতিকোর জার্সিতে মন্দ কাটেনি ২০১৭-১৮ মৌসুম। লিগে ৩২ ম্যাচে করেছেন ১৯ গোল, আর ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ১৪ ম্যাচে লক্ষ্যভেদে ৮বার। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে ২৯ গোল। রাশিয়া যাওয়ার পথে বাছাই পর্বে করেছেন আবার ৪ গোল। যাতে ফ্রান্সের জার্সিতে সব মিলিয়ে ৫২ ম্যাচে গোল সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৯-এ।
ঘরের মাঠের গত ইউরোতে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়ে ফ্রান্সকে। ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি। তাতে হতাশা থাকলেও আলো ছড়ানো গ্রিয়েজমানের ওই টুর্নামেন্টের ফর্মই দেখতে চাইবেন ফরাসিরা রাশিয়া ফুটবল মহাযজ্ঞে।
উইঙ্গার হিসেবে যেমন খেলতে পারেন ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড, তেমনি ‘দ্বিতীয়’ স্ট্রাইকার হিসেবেও কার্যকরী। তার ড্রিবলিং, গতি ও চমৎকার পাস রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে সামনে এগিয়ে নিতে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাছাড়া রক্ষণেও অবদান রাখতে পারেন তিনি। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে যেমন ভূমিকা রাখতে পারেন, তেমনি নিচে নেমে রক্ষণভাগকে সাহায্য করতে পারেন তিনি।
তবে বিশ্বকাপে ফরোয়ার্ড গ্রিয়েজমানকেই চাইবেন ফরাসিরা। ক্লাব ফুটবলে, বিশেষ করে ইউরোপা লিগ ফাইনালে যে গ্রিয়েজমানকে দেখা গেছে, সেই ফর্ম রাশিয়ায় সচল থাকলে ফ্রান্সের জন্য অপেক্ষা করছে দুর্দান্ত এক বিশ্বকাপ।
একনজরে:
পুরো নাম: আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান
জন্ম: ২১ মার্চ ১৯৯১ (২৭ বছর)
পজিশন: ফরোয়ার্ড
ক্লাব: অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ
উচ্চতা: ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি








