বিশ্বকাপের বাকি আর ৮ দিন। রাশিয়ার ফুটবল মহাযজ্ঞে দলীয় পারফরম্যান্সের দিকে তো বটেই, ফুটবলপ্রেমীরা আলাদা নজর রাখবেন নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়ের ওপরও। যারা প্রতিপক্ষের মনে ভয় ছড়িয়ে পূরণ করবেন নিজ দলের প্রত্যাশা। তেমনই খেলোয়াড়দের নিয়ে আমাদের এই আয়োজন। আজ থাকছে জার্মান ফরোয়ার্ড থোমাস ম্যুলারকে নিয়ে-
জার্মানির জার্সিতে:
ম্যাচ: ৯০
গোল: ৩৮
বিশ্বকাপ ম্যাচ: ১৩
বিশ্বকাপ গোল: ১০
ডিয়েগো ম্যারাডোনার কাছে তিনি ছিলেন ‘বলবয়’। আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্বে থাকা এই কিংবদন্তি ২০১০ বিশ্বকাপ শুরুর আগে কী ভুলটাই না করেছিলেন! যাকে গোনায় ধরেননি ম্যারাডোনা, সেই থোমাস ম্যুলারের আলোতেই আলোকিত হয়েছিল জার্মানি।
সেদিনের ‘বলবয়’ তার ফুটবল সামর্থ্য দিয়ে জার্মানির চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ২০১০ বিশ্বকাপে ৫ গোল করার পর ব্রাজিলের আসরে জার্মানদের শিরোপা জেতার পথে করেছেন আরও ৫ গোল। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে খেলা ১৩ ম্যাচে ম্যুলারের গোল সংখ্যা ১০। গোলের এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে বিশ্ব মঞ্চে তিনি জার্মানির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
পেশাদার স্ট্রাইকার না হয়েও গোলমুখে তার মতো ভয়ঙ্কর খেলোয়াড় খুব কমই আছে ফুটবল বিশ্বে। বক্সের ভেতরে করে থাকেন তিনি পাখির চোখ। বিশেষ করে ছোট বক্সের সামনে তার সামর্থ্য বিস্ময়কর। উইং দিয়ে যেমন দলের আক্রমণকে ধারালো করতে পারেন, তেমনি ‘সেকেন্ড স্ট্রাইকার’ হিসেবেও পরীক্ষিত। প্রয়োজনে আবার মিডফিল্ডারের ভূমিকাতেও সাহায্য করতে পারেন দলকে।
ম্যুলারের এই বহুমুখী প্রতিভায় ভর দিয়ে জার্মানি গত আসরে জিতেছে চতুর্থ বিশ্বকাপ। এবারও তাদের বিশ্বকাপ দৌড় অনেকটাই নির্ভর করবে এই ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্সের ওপর। রাশিয়া ফুটবল মহাযজ্ঞে নামার আগে আবার ক্লাব ফুটবলে দারুণ সময় পার করেছেন তিনি। বায়ার্ন মিউনিখের টানা ষষ্ঠ বুন্দেসলিগা জয়ের পথে রেখেছে অবদান।
পুরোদস্তুর স্ট্রাইকার না হয়েও ২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জাতীয় দলের জার্সিতে নামের পাশে ৯০ ম্যাচে যোগ করেছেন ৩৮ গোল। বড় মঞ্চেই দেখা যায় তার আসল পারফরম্যান্স। তার খেলা দুই বিশ্বকাপই যার বড় প্রমাণ। দক্ষিণ আফ্রিকার পর ব্রাজিলেও পাঁচবার লক্ষ্যভেদ করে জানান দিয়েছেন আবহাওয়া কিংবা পরিবেশ তার কাছে মুখ্য কোনও ব্যাপার নয়, মাঠে পারফর্ম করাটাই তার কাছে প্রধান বিষয়। দক্ষিণ আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা তার জন্য ছিল একরকম অচেনা জায়গা, তবু গোলের পর গোল করে গেছেন। আর এবার খেলা তো তার মহাদেশেই। রাশিয়ার আবহাওয়া পুরোটা না হলেও অনেকটাই তার দেশ জার্মানির মতো। তাই ম্যুলারের কাছে প্রত্যাশা আরও বেশি।
২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানিকে শিরোপা জেতাতে না পারলেও ম্যুলারের হাতে উঠেছিল গোল্ডেন বুট। ব্রাজিলে জার্মানিকে চ্যাম্পিয়ন করে জিতেছেন সিলভার বুট। ফুটবল মহাযজ্ঞে ম্যুলারের পারফরম্যান্সে গ্রাফ সত্যিই ঈর্ষনীয়। সামনে আরেকটি বিশ্বকাপ, তাতে বায়ার্ন তারকার সেরাটা দেখার সময় আসছে আবার। আগের দুই আসরের চেয়ে এবার তিনি আরও অভিজ্ঞ। অনেক তারকা খেলোয়াড়ের অবসরে কাঁধে দায়িত্বও অনেক বেশি। সেই সঙ্গে রয়েছে প্রত্যাশার চাপ। অতীতের পারফরম্যান্সের গ্রাফ ঠিক রাখতে পারবেন তো?
এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে মূল মঞ্চে। যদিও নতুন করে নিজেকে প্রমাণের কিছু নেই ম্যুলারের। ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের তারকা তিনি হয়ে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের আসর আলোকিত করে।
একনজরে:
পুরো নাম: থোমাস ম্যুলার
জন্ম: ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৮৯ (২৮ বছর)
পজিশন: ফরোয়ার্ড
ক্লাব: বায়ার্ন মিউনিখ
উচ্চতা: ৬ ফুট ১ ইঞ্চি








