আর্জেন্টাইনদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ। উত্তর আমেরিকায় ওঠা ঝড় কাঁপিয়ে দেয় লাতিন আমেরিকার লা প্লাতা নদীর পাড়ের দেশটিকে। যার ম্যাজিকে ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ এসেছে, চার বছর আগে ফাইনাল ওঠা হয়েছে, সেই ডিয়েগো ম্যারাডোনা কিনা নিষিদ্ধ!
ডোপ টেস্টে ‘পজিটিভ’ হওয়ায় বিশ্বকাপে আর খেলাই হয়নি আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বরের। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বেই ম্যারাডোনা খেলেন আর্জেন্টিনার জার্সিতে সবশেষ ম্যাচ। কার বিপক্ষে ছিল ম্যাচটি জানেন? নাইজেরিয়া।
সেবারই প্রথম বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছিল আফ্রিকার দেশটি। ফুটবল মহাযজ্ঞে নেমেই নাইজেরিয়াকে দাঁড়াতে হয় আর্জেন্টিনার সামনে। ম্যারাডোনার অধীনে সেবার ‘সুপার ঈগলদের’ ২-১ গোলে হারিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। এরপর আরও তিনবার বিশ্বকাপে দেখা হয়েছে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার। সময় ও মঞ্চ বদলালেও আর্জেন্টিনার সাফল্যের হিসাব বদলায়নি। এখন পর্যন্ত ফুটবল মহাযজ্ঞে মুখোমুখি হওয়া চার ম্যাচের সবক’টি জিতেছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১২টায় পঞ্চমবারের মতো দেখা হচ্ছে তাদের। যে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপে টিকে থাকার শেষ সুযোগ। জয় ছাড়া যেখানে অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই লিওনেল মেসিদের। বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ের আগে নিশ্চিতভাবেই অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে আগের চার ম্যাচ। শুধু হোর্হে সাম্পাওলির দল কেন, বিশ্বের সব আর্জেন্টাইন ভক্তই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে পরিসংখ্যানে।
আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে নাইজেরিয়া। দাপুটে ফুটবলে ২-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনাকে দিয়ে রেখেছে সতর্কবার্তা। তাছাড়া সবশেষ মুখোমুখি লড়াইয়েও আফ্রিকান দেশটি পেয়েছে ৪-২ গোলের জয়। তবে মঞ্চটা যেহেতু বিশ্বকাপের, তাই আলবিসেলেস্তেরা আশাবাদী হতেই পারেন।
ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার দেখা হয়েছিল আর্জেন্টিনার। ফক্সবোরো স্টেডিয়ামের ওই লড়াইয়ে অষ্টম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পরও ক্লাউদিও কানিজিয়ার জোড়া লক্ষ্যভেদে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
অতদূরও যাওয়ার দরকার নেই, গত বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচেই চোখ রাখতে পারে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। বিশ্বকাপ মঞ্চে শেষবার দেখা হয়েছিল তাদের ব্রাজিলের আগের আসরেই। পোর্তো আলেগ্রিতে মেসির জোড়া লক্ষ্যভেদে আর্জেন্টিনা জেতে ৩-২ গোলে। বারুদে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে মেসির লক্ষ্যভেদে লাতিন আমেরিকার দেশটি এগিয়ে গেলেও ঠিক পরের মিনিটেই নাইজেরিয়া সমতায় ফেরে আহমেদ মুসার গোলে। এরপর বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের আরেকটি অসাধারণ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু বিরতি থেকে ঘুরে এসে ৪৭ মিনিটে আফ্রিকার দেশটি আবারও সমতায় ফেরে মুসা দ্বিতীয়বার জাল খুঁজে পেলে। যদিও মিনিট তিনেক পর মার্কোস রোহোর গোলে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।
এর আগে ২০০২ সালের বিশ্বকাপেও দেখা হয়েছিল আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়ার। দক্ষিণ কোরিয়া-জাপানের আসরে ‘হট ফেভারিট’ হয়ে নামা লাতিন দেশটি গাব্রিয়েল বাতিস্তুতার লক্ষ্যভেদে নাইজেরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুরু করেছিল বিশ্বকাপ মিশন। যদিও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছিল তাদের। এবারও ঠিক একই জায়গায় দাঁড়িয়ে তারা। কঠিন এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখাটা জরুরি তাদের।
২০১০ সালের বিশ্বকাপও আর্জেন্টিনা শুরু করেছিল নাইজেরিয়াকে হারিয়ে। গাব্রিয়েল হেইঞ্জের দুর্দান্ত হেডে ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার দল।
আজও মাঠে থাকবেন ম্যারাডোনা; ডাগআউটে নয়, গ্যালারিতে। বিশ্বকাপ মঞ্চে আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর সব জায়গা থেকেই দেখেছেন নাইজেরিয়াকে। ১৯৯৪ সালের আসরে খেলোয়াড় হিসেবে, ২০১০ সালে কোচ হিসেবে, আর এবার দর্শক হয়ে। তার জায়গা বদল হলেও নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ফলে কোনও পরিবর্তন হয়নি। বিশ্বকাপ মঞ্চে নাইজেরিয়া মানেই আর্জেন্টিনার জয়।
এই রেকর্ডটা রাশিয়ার আসরেও ধরে রাখা চাই-ই চাই। তাহলেই হয়তো মেসির আর্জেন্টিনা টিকে থাকবে ফুটবল মহাযজ্ঞে!








