আবারও লক্ষ্যভেদ করলেন জেরি মিনা। ইংল্যান্ডের নিশ্চিত জিততে যাওয়ার ম্যাচের মোড় পাল্টে দিলেন এই কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার। তার লক্ষ্যভেদেই ইংল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে ১-১ গোলে। ফল নিষ্পত্তির জন্য ম্যাচ গড়িয়েছে তাই অতিরিক্ত সময়ে।
হ্যারি কেইনের পেনাল্টি গোলে জয়ের উৎসবে মেতে উঠেছিল ইংল্যান্ড। গ্যালারিতে উপস্থিত ইংলিশ সমর্থকদের কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখাটাই তো স্বাভাবিক। ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা ম্যাচে তখন চলছিল ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিট। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্নে ছুরি বসিয়ে দেন মিনা। গ্রুপ পর্বে পোল্যান্ড ও সেনেগালের বিপক্ষে গোল পাওয়া বার্সেলোনা ডিফেন্ডার আবারও হেডে লক্ষ্যভেদ করে ম্যাচে ফেরান ১-১ সমতা।কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে জালে জড়ান মিনা।
দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমের সব নাটক জমিয়ে রাখা ম্যাচের প্রথমার্ধটা ছিল ম্যাড়ম্যাড়ে। ইংল্যান্ড কিংবা কলম্বিয়া- কোনও দলই গোছানো ফুটবল খেলতে পারেননি প্রথমার্ধে। খেলার উত্তেজনাও তেমন একটা জমেনি। সুযোগ তৈরির দিক থেকে ইংলিশরা এগিয়ে থাকলেও কাজে লাগাতে পারেনি। বিপরীতে লাতিন আমেরিকার দলটি আক্রমণে উঠলেও ইংল্যান্ডের কড়া রক্ষণ ভেঙে বক্সের ভেতর ঢুকতে পারেনি খুব একটা।
১৬তম মিনিটে ইংল্যান্ডের আসে ভালো সুযোগ। যদিও এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইন হেডটা রাখতে পারেননি পোস্টের মধ্যে। কিয়েরন ট্রিপিয়ারের ক্রস ছোট বক্সের সামনে থেকে ইংলিশ অধিনায়ক আড়াআড়ি হেড করলে বল বারের ওপর দিয়ে পড়ে জালে। ৪২ মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পায় ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনকে ফাউল করায় পাওয়া ফ্রি কিকটা কাজে লাগাতে পারেনি ইংলিশরা। ট্রিপিয়ার মারেন পোস্টের অনেকটা বাইরে দিয়ে।
বিরতিতে যাওয়ার আগে কলম্বিয়াকে খানিকটা আশা দেখিয়েছিলেন হুয়ান কুইনতেরো। বক্সের বাইরে থেকে শট করেছিলেন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, কিন্তু রাখতে পারেননি পোস্টের ভেতর, উড়ে যায় বারের ওপর দিয়ে। দুদলের সুযোগ নষ্টে প্রথমার্ধ শেষ হয় তাই গোলশূন্যভাবে।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে গতি বাড়ে ইংল্যান্ডের। তবে কলম্বিয়া শারীরিক শক্তির ফুটবলের সামনে সুবিধা করতে পারছিল না তারা। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের সেট পিচে শরীরকে বেশি ব্যবহার করতে চাইছিল কলম্বিয়া। চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ গোল সেট পিচ থেকে এসেছে বলেই হয়তো লাতিন দেশটির বাড়তি নজর ছিল এখানে। তবে তার খেসারতও দিতে হয় তাদের!
৫৪ মিনিটে কর্নার পায় ইংল্যান্ড। সেট পিচের আগেই বক্সের ভেতর ইংলিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে বেশ খানিকটা ধাক্কাধাক্কি হয়, এমনকি রেফারিকেও যেতে হয় মাঝে। এরপর কর্নার থেকে উড়ে আসা বল যেন কেইনের কাছে না আসতে পারে, সেজন্য কার্লোস সানচেস চেপে ধরেন ইংলিশ স্ট্রাইকারকে। টটেনহাম তারকা মাটিতে পড়ে গেলে রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। ৫৬ মিনিটে সেই স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন কেইন।
এই গোলে রাশিয়া বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আরও এগিয়ে গেলেন ইংলিশ তারকা। চলতি আসরে তার গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৬-এ। ইংল্যান্ডের হয়ে আরেকটি রেকর্ডেও নাম লেখান তিনি। ১৯৩৯ সালে টমি লটনের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে থ্রি লায়ন্স জার্সিতে টানা ছয় ম্যাচে গোল করেছেন কেইন।
গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠা কলম্বিয়া আক্রমণ চালালেও ইংলিশ রক্ষণের সামনে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছিল। ৬০ মিনিটে রাদামেল ফালকাওয়ের উদ্দেশে ক্রস এলেও ডিফেন্ডার জন স্টোনসে তা বাধা পায়। তবে ৮১ মিনিটে যে সুযোগটা পেয়েছিল কলম্বিয়া, তার জন্য আফসোস করতেই পারে তারা। নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন হুয়ান কাদরাদো। ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকারের ভুল পাসে বল পেয়ে দ্রুতগতিতে আক্রমণে ওঠেন কার্লোস বাকা, বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ডান প্রান্তে পাস দেন ফাঁকায় থাকা কাদরাদোকে। জুভেন্টাস মিডফিল্ডার গোলমুখে শট করলেও উড়ে যায় বারের ওপর দিয়ে।
৮৬ মিনিটে আরেকবার হতাশায় পোড়ে লাতিন দলটি। বাঁ প্রান্ত থেকে আসা ক্রস বক্সের ভেতর থেকে লাফিয়ে হেড করলেও পোস্টে রাখতে পারেননি অধিনায়ক ফালকাও। মিনিট খানেক পর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফালকাওয়ের দুর্বল শট ধরতে কোনও সমস্যাই হয়নি ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের। তবে ইনজুরি টাইমে গিয়ে অবশেষে গোলের মুখে দেখে কলম্বিয়া মিনার হেডে।








