ব্যাটিং ব্যর্থতা কাটছে না জেমকন খুলনার। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় আরও একটি হার সঙ্গী হলো খুলনার। আজ (বৃহস্পতিবার) রবিউল ইসলামের স্পিন জাদুতে মুশফিকের বেক্সিমকো ঢাকার কাছে ২০ রানে হেরেছে মাহমুদউল্লাহরা। আগে ব্যাট করা ঢাকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান করে। জবাবে ১৯.৩ ওভারে ১৫৯ রানে অলআউট হয় খুলনা।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ দিয়ে মাঠে ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। লম্বা বিরতির পর মাঠে ফিরে খুব ভুগতে হচ্ছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে। বিশেষ করে তার ব্যাটিং ব্যর্থতা বেশি ভোগাচ্ছে খুলনাকে। এতদিন ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হলেও বোলিংয়ে মোটামুটি ভালোই করছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার বল হাতেও ব্যর্থ সাকিব। ৩ ওভারে ৩৬ রান দেওয়ার পর খেলেছেন ৭ বলে ৮ রানের ইনিংস।
ইনিংসের শুরুতেই রবিউলের ঘূর্ণির কাছে পরাস্ত ওপেনার জাকির হাসান (১)। এরপর সাকিবের বিদায়ে আরও কঠিন পরিস্থিতির তৈরি হয়। রবিউলের বলে বাজে শট খেলে থার্ডম্যানে সহজ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সাকিব। তৃতীয় উইকেটে জহুরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ৪৮ রানের জুটি গড়েন। ২৬ বলে ২৩ রান করে মাহমদুউল্লাহর বিদায়ে আরেকটি হার চোখ রাঙাতে থাকে খুলনাকে। সেটি আরও জোরালো হয় মাশরাফি ও আরিফুলের আউটে।
শামীম হোসেনের ৯ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে খানিক সময়ের জন্য আশার আলো দেখে খুলনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩ বল বাকি থাকতে ১৫৯ রানে অলআউট হয় খুলনা।
টুর্নামেন্টে প্রথম ৫ উইকেট তুলে নেন ঢাকার স্পিনার রবিউল। তিনি ৩.৩ বলে খরচ করেছেন ২৭ রান। এছাড়া রুবেল হোসেন ৩০ রানে ২টি, মুক্তার আলী ৩৫ রানে ২টি ও নাসুম আহমেদ ২৮ রানে একটি উইকেট নেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করা ঢাকার শুরুটা হয়েছিল দারুণ। ওপেনিং জুটির ৪১ রানের ওপর ভর করে বড় সংগ্রহ পায় মুশফিকের দল। সাকিবের প্রথম ওভারে ৪ ছক্কা হাঁকানো নাঈম করেন ৩৬ রান। শহীদুল ইসলামের বলে আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে ৫ ছক্কায় নাঈম নিজের ইনিংসটি সাজান। নাঈমকে হারিয়েও ঢাকার রানের চাকা সচল ছিল সাব্বির আহমেদ-আল আমিন জুনিয়রের জুটিতে।
পেসার মেহেদী হাসান রানার বদলে টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো সুযোগ পান আল আমিন জুনিয়র। তিন নম্বরে নেমে খেলেন ৩৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। ২৫ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় আল আমিন নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। তার বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান মুশফিকুর রহিম (৩) ও ইয়াসির আলী (০)।
ব্যর্থতায় দুই ম্যাচে একাদশের বাইরে ছিলেন সাব্বির। বৃহস্পতিবার ওপেনিংয়ে সুযোগ পেয়েই টুর্নামেন্টের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। পঞ্চম উইকেটে আকবর আলীকে সঙ্গে নিয়ে ৪২ রানের জুটি গড়েন তিনি। নাজমুল অপুকে ১ ওভারে আকবরের ৪ ছক্কা হজম করতে হয়েছে। ১৪ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৩১ রান করে আউট হন যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক।
আকবর ফিরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আউট হন সাব্বির। ফেরার আগে খেলেন ৩৮ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৬ রানের ইনিংস।
খুলনার শহীদুল ৩১ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে দলের সবচেয়ে সফল বোলার। এছাড়া হাসান মাহমুদ ২৩ রানে একটি এবং মাশরাফি ২৬ রানে একটি উইকেট নিয়েছেন।








