গত পাঁচ বছরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা চারবার জিতে নিজেদের ‘সম্পত্তি’ বানিয়ে ফেলেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এবার তাতে ভাগ বসাতে তুমুল লড়াই করছে আর্সেনাল। কয়েক সপ্তাহ আগেও যে লড়াইয়ে আধিপত্য ছিল তাদের হাতে। কিন্তু তারা দুই সপ্তাহে ছয় পয়েন্ট হারানোয় ট্রফির যুদ্ধ হয়ে উঠেছে জমজমাট। হিসাবনিকাশ বলছে, ম্যানসিটি বাকি ৮ ম্যাচ জিতলে তাদের হাতেই উঠতে যাচ্ছে ছয় বছরে পঞ্চম ট্রফি। আজ বুধবার রাতে আর্সেনালকে হারাতে পারলে ট্রফি জয়ের কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামের মহারণে আর্সেনাল অংশ নিচ্ছে টানা তিনটি ড্র করে। দুই নম্বরে থাকা সিটিজেনরা তাদের চেয়ে দুই ম্যাচ কম খেলে ৫ পয়েন্ট পেছনে। তাই এই ম্যাচ আর্সেনালের জন্য হতে যাচ্ছে অনেকটাই বাঁচামরার। অন্যদিকে সিটি জিতলে শিরোপার পথে বড় ধাপ ফেলবে।
টানা তিন ম্যাচ ড্র করায় আর্সেনালের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা লেগেছে, যা ম্যানসিটিকে উজ্জীবিত করাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোচ পেপ গার্দিওলার মতে, টানা তিন ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর কারণে আর্সেনাল আরও কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। ম্যানসিটির ট্যাকটিশিয়ান বললেন, ‘সবসময় আমার মনে হতো, এই পর্যায়ে এসে তাদের বিপক্ষে খেলা কঠিন হবে, কিন্তু তিন ম্যাচে তারা পয়েন্ট খোঁয়ানোয় এখন এই লড়াই হতে যাচ্ছে আরও অনেক বেশি কঠিন। তারা যদি আরও ভালো ফল নিয়ে খেলতে আসতো, তাহলেই বরং ভালো হতো।’
গত ফেব্রুয়ারি থেকে অপরাজিত ম্যানসিটি। আর্সেনালের বিপক্ষে শেষ ১১ লিগ ম্যাচই জিতেছে তারা। গোল করেছে ২৯টি, খেয়েছে মাত্র চারটি। ইতিহাদে গানাররা শেষ জিতেছিল আট বছরেরও বেশি সময় আগে, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে।
এই মৌসুমেই সিটি আর্সেনালকে দুইবার হারিয়ে দিয়েছে, একটি লিগে, আরেকটি এফএ কাপে। কিন্তু গার্দিওলা তারপরও উৎকণ্ঠায়, ‘এটা ভালো লক্ষণ, একটু স্নায়ুচাপে থাকা। আমি যখন এই অনুভূতি অনুভব করি, জানি এটা স্বাভাবিক। যদি এই অনুভূতি না থাকতো, তাহলে সমস্যা হতো।’
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে গার্দিওলা সম্ভবত ‘মাইন্ড গেম’ খেললেন। তবে আর্সেনাল তাদের মানসিকতা শক্তিশালী রাখতে ছাড় দিচ্ছে না। এই ম্যাচ জিতলে কিংবা হারলেই শিরোপা নির্ধারণ হবে মানতে নারাজ কোচ মিকেল আর্তেতা।
আগের তিন ম্যাচে একই ফল হলেও প্রথম দুটি ও শেষটির মধ্যে ভিন্নতা দেখেছেন আর্তেতা। ওয়েস্ট হ্যাম ও লিভারপুলের বিপক্ষে দুই গোলের লিড নিয়েও ড্র করেছিল, তারপর গত শুক্রবার তলানির দল সাউদাম্পটনের কাছে দুইবার দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩-৩ গোলের ড্রয়ে পয়েন্ট উদ্ধার করেছিল গানাররা। ওই ম্যাচে ছেলেদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আর্তেতা, ‘সবার মনে বিশ্বাস আছে, সাউদাম্পটনের ম্যাচে খেলোয়াড়রা কীভাবে সাড়া দিয়েছিল, আমি দেখেছি। তারা প্রতিটি মুহূর্তে একে অন্যকে রক্ষা করেছে। আমরা সত্যিই এটা চাই এবং কাল রাতে আবারও সেটা করে দেখাতে চাই। কিন্তু সেটা হতে হবে নিখুঁত। কারণ মৌসুমের এই সময়ে সেটাই দাবি করে।’
কোচ বললেন, ‘আমরা যদি কাল জিতি, তাহলে কিন্তু লিগ জিতে যাবো না। হয়তো সম্ভাবনা বেড়ে যাবে, কিন্তু লিগে তারপরও পাঁচটা কঠিন ম্যাচ খেলতে হবে।’
দুই কোচই নিজেদের নির্ভার রাখছেন। এই ম্যাচ জিতলেই লিগ নির্ধারণ হয়ে যাবে, এমনটা স্বীকার করছেন না। কিন্তু তারা ভালোভাবে বুঝতে পারছেন, এই মহারণের গুরুত্ব কতটা। মৌসুমের শেষভাগে দুই ক্লাব একে অন্যের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে, বাড়ছে বুকে পাহাড়সম চাপ। শেষ পর্যন্ত স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবে কে, বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় শুরু হওয়া ম্যাচের শেষে মিলবে সেই উত্তর।









