২০১১ সালের ২৮ জুলাই বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সোনালি একটি দিন। এর আগে ২৩ জুলাই লেবাননের কাছে ৪ গোলে হেরে লজ্জা পেতে হয়েছিল লাল-সবুজ দলকে। সেই দলের বিপক্ষে কিনা পাঁচ দিনের ব্যবধানে নিজেদের মাঠে দুই গোলে জয়! মিঠুন চৌধুরী ও জাহিদ হাসান এমিলির লক্ষ্যভেদে স্মরণীয় জয় পেয়েছিল ইলিয়েভস্কির দল। এক যুগের ব্যবধানে সেই লেবানন আবারও সামনে। তবে এবার বিশ্বকাপ বাছাই নয়, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ম্যাচে জামাল ভূঁইয়াদের প্রতিপক্ষ লেবানন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বেঙ্গালুরুর এই ম্যাচে এক যুগ আগের সেই জয়টা হতে পারে বড় প্রেরণা।
২০১১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় রাউন্ডে দুই লেগে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও লেবানন। ২৩ জুলাই বৈরুতে ৪-০ গোলে হেরে আসে বাংলাদেশ। ঢাকায় লাল-সবুজদের প্রতিশোদের জয়, ২-০ গোলে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। বিরতির পর এসেছে দুটি গোল। ৫৬ মিনিটে মিঠুন চৌধুরীর গোলে লিড পায় স্বাগতিকরা। ৮৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আরেক স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি।
ঢাকার ম্যাচটি স্মৃতিচারণ করে এমিলি বাংলা ট্রিবিউনের কাছে বলেছেন ‘ম্যাচের আগে মানিকগঞ্জ খেলতে যাওয়ায় আমার ও মিঠুনের খেলা অনিশ্চিত ছিল। কোচ ইলিয়েভস্কির কারণে আমরা খেলতে পেরেছি। মাঠে নামার পর আমরা বাইরের সবকিছু ভুলে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। ম্যাচে তার সুফলও আসে। সুযোগ পেয়েই দুটি গোল করে দলকে জয় নিশ্চিত করি।’
নিজেদের মাঠে চার গোলে জিতে লেবানন ঢাকায় হয়তো কিছুটা হালকা মেজাজে থেকে খেলেছিল। সেই সুযোগে বাংলাদেশ দল নিজেদের সেরাটা খেলে জয় নিশ্চিত করে। এমিলি বলছিলেন, ‘লেবানন দলটা বেশ শক্তিশালী ছিল। শারীরিকভাবেও আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন দলটির ফুটবলাররা। তবে সঠিক কৌশল ও ভালো কিছু করার প্রতিজ্ঞা থেকে আমরা সুযোগ পেয়ে লক্ষ্যভেদ করেছিলাম। জয়ও নিশ্চিত হয়ে পড়ে।’
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে লেবানের বিপক্ষে ম্যাচটা বেশ কঠিন হবে। এমিলি মনে করছেন কমিটমেন্ট বাড়িয়ে খেললে ইতিবাচক কিছু করা সম্ভব হবে, ‘বাংলাদেশ দলের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে লেবাননের মতো দলকে হারানো বেশ কঠিন। ফুটবলার হিসেবে অবশ্যই চাইবো বাংলাদেশ এ ম্যাচ জিতুক; কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। যখন খেলেছি ওই সময়ের লেবানন ছিল বেশ শক্তিশালী দল। আমার বিশ্বাস, লেবানন দল হিসেবে এখনও শক্তিশালী। ফিফা র্যাঙ্কিং কিন্তু সে কথাই বলছে। সেশেলসের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ দুটি দেখেছি। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে খেলাও দেখেছি। এ ম্যাচের নৈপুণ্যের আলোকে দলকে নিয়ে আশাবাদী হওয়া কঠিন। তবে কমিটমেন্ট বাড়িয়ে খেললে লেবাননের বিপক্ষে জয় সম্ভব, পয়েন্টও।’
তবে শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে বেঙ্গালুরুতে পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে যেতে পারলে দল যে বহুদূর যাবে তা মানছেন এমিলি। আর একজন সাবেক খেলোয়াড় হয়ে বর্তমান দলটির প্রতি শুভকামনা জানাতে ভুল হয়নি তার, ‘আমি চাই দল সাফে ভালো করুক। আমি আমার খেলোয়াড়ি জীবনে সাফে রানার্সআপ হয়েছিলাম। অনেক দিন ধরে আমরা সাফে ভালো করতে পারছি না। এবার সেই খরা কাটবে বলে আমার বিশ্বাস।’








