দুই বছর আগে আরাফাত রহমান ও রুজান কালাম রিম দম্পতি ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। এই ডাক্তার দম্পতি বর্তমানে লিভারপুলে থাকছেন। ভাগ্যান্বেষণে গিয়ে সেখানে থিতু হওয়ার চেষ্টা। সঙ্গে তাদের বড় ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া আব্দুল্লাহ আরাফাত আল তাওয়াফও আছে। ইংল্যান্ডে গিয়ে এবার ডাক্তার দম্পতির বড় ছেলে আব্দুল্লাহর দারুণ এক অভিজ্ঞতা হয়েছে। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ফ্রান্স-বেলজিয়াম ম্যাচে খেলোয়াড়দের সঙ্গে টানেল থেকে মাঠও প্রদক্ষিণ করেছে। এমন স্বপ্নময় দিন পেয়ে রোমাঞ্চিত আব্দুল্লাহ থেকে শুরু করে তার পরিবারও!
অনেক দিন আগে থেকে ফিফা নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল ইভেন্টে প্রতিটি দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্লেয়ার এস্কোর্ট বা চাইল্ড মাসকট হিসেবে একজন করে শিশু যুক্ত করে দেয়। এবার ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে সোমবার রাতে আব্দুল্লাহ বেলজিয়ামের ৩ নম্বর জার্সিধারী আর্থার থিয়েটের হাত ধরে টানেল থেকে মাঠে গিয়ে তাদের জাতীয় সঙ্গীতে অংশ নিয়েছে।
এমন অভিজ্ঞতা অর্জন করে আব্দুল্লাহ উচ্ছ্বসিত। জার্মানির ডুজলডর্ফ থেকে বাংলা ট্রিবিউনকে অল্প কথায় যা বললো, 'ফুটবল আমার প্রিয় খেলা। আমি অনেক খুশি। এক্সাইটেডও। আমার অনেক ভালো লেগেছে।'
লিওনেল মেসিদের খেলা দেখে এই প্রজন্ম বড় হচ্ছে। আর্জেন্টাইন অধিনায়কের খেলা অনেক ভালো লাগলেও আব্দুল্লাহর পছন্দ কিন্তু মোহাম্মদ সালাহ। লিভারপুল শহরে থেকে ভালোবাসা আরও বেড়েছে। তবে কাল বেলজিয়ামের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করলেও তাদের বিদায়ে বেশ কষ্ট পেয়েছে। যদিও জার্মানি তার প্রিয় দল।
ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে বেলজিয়ামের হয়ে ফুটবলারদের সঙ্গে একইসঙ্গে ড্রেসিংরুম হয়ে টানেল ও মাঠে প্রবেশের নেপথ্য ঘটনা জানা গেছে বাবা আরাফাত রহমানের কাছ থেকে। ইউরোর অন্যতম স্পন্সর লিডস। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা তাদের মাধ্যমে শিশুদের বাছাই করেছে। আব্দুল্লাহর ফুটবলের প্রতি আগ্রহ দেখে বাবাও লিভারপুল থেকে আবেদন করেন। নানান ধাপ পেরিয়ে টিকেও যায়।
ম্যাচের একদিন আগে উয়েফার ব্যবস্থাপনায় জার্মানি এসে রিহার্সেলও করতে হয়েছে। আরাফাত রহমান আরও বলছিলেন পেছনের কথা, 'লিডসের মাধ্যমে আমরা আবেদন করে টিকে যাই। এটা ছেলেকে বলতেই ও অনেক খুশি হয়ে যায়। এরপর আরও কিছু ধাপ পেরোতে হয়। সমস্যা হলো, তখন আমাদের ইউরোপে সেনজেন ভিসা ছিল না। আইসল্যান্ডে গিয়ে সেটা নিয়ে নেদারল্যান্ডস হয়ে জার্মানির শহরে আসতে হয়েছে। বিমান ভাড়া ও তারকা হেটেলে থাকা খাওয়াসহ সব খরচ উয়েফা দিয়েছে।'
এরপরই ইংল্যান্ডের বিমান ধরতে বিমানবন্দরে যেতে যেতে আরাফাত আনন্দ চিত্তে জানালেন, ‘আমাদের ছেলে ফ্রান্স-বেলজিয়ামের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরেছে। সাবেক খেলোয়াড়রাও ছিল। অনেক কিছু শিখতে পেরেছে। বাংলাদেশের একজন হয়ে এমন ম্যাচে ও থাকতে পেরে আমরা সত্যি গর্ব অনুভব করছি।'









