গুডিসন পার্কে শেষ মার্সিসাইড ডার্বি হলো ঘটনাবহুল। যুতসই সমাপ্তি টানলো এভারটন। বুধবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে স্টপেজ টাইমে গোল করে লিভারপুলের সঙ্গে ২-২ গোলে নাটকীয় ড্র করলো তারা।
ম্যাচটি শেষ হলো কুৎসিতভাবে। দুই দলই জড়িয়ে পড়লো হাতাহাতিতে। লিভারপুল দর্শকের সামনে এভারটনের আব্দুলায়ে ডোকুর উস্কানিমূলক উদযাপন করলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। রেফারি মাইকেল অলিভার দেখান চারটি লাল কার্ড- লিভারপুলের কুর্টিস জোন্স, কোচ আর্নে স্লট ও সহকারী কোচ সিপকে হালশঅফ ও আরেকটি এভারটনের ডোকুরকে।
দুই নম্বর দল আর্সেনালের সঙ্গে এক ম্যাচের ব্যবধান ঘুচিয়ে লিভারপুল সাত পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষে অবস্থান নিলো। এই মার্সিসাইড ডার্বি হওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরে। দারাঘ ঝড়ের কারণে তা স্থগিত করা হয়। ২৪ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট লিভারপুলের।
অথচ ব্যবধানটা ৯ পয়েন্ট হওয়ার কথা ছিল। জয়ের সুবাস পাচ্ছিল লিভারপুল। ৯৮তম মিনিটে তাদের হৃদয় ভেঙে দেন এভারটন অধিনায়ক জেমস তারকোস্কি। লম্বা সময় ভিএআর রিভিউয়ের পর রেফারি জানান, অনসাইডে থেকেই হয়েছে গোল।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের খেলোয়াড় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। লিভারপুল স্ট্যান্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ডোকুর উদযাপনে মাতলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন জোন্স। শুরু হয় হাতাহাতি।
১১তম মিনিটে বেতোর গোলে কেঁপে ওঠে গুডিসন পার্কের পুরানো স্টেডিয়াম। জ্যারাড ব্রান্টওয়েটের ফ্রি কিকে বক্সের বাঁ দিকে বল পেয়ে গোলকিপার আলিসনের হাতের নিচ দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পাঁচ মিনিট পর মোহাম্মদ সালাহর ক্রস থেকে হেড করে সমতা ফেরান অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার।
দুই দলই পরে আরও কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল। লিগের শীর্ষ গোলদাতা সালাহ ৭৩তম মিনিটে মৌসুমের ২২তম গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন। ব্র্যান্টওয়েট বল ক্লিয়ার করতে পারেননি, ভুলে হেড দেন জোন্সকে। তারই বাড়ানো বলে মিশরীয় ফরোয়ার্ড স্কোর ২-১ করেন।
তারপর ডিফেন্ডার তারকোস্কির ঝলক। গত শনিবার বোর্নমাউথের কাছে এফএ কাপ হারে দুই গোল হজমের জন্য দায়ী এই খেলোয়াড় গুডিসন পার্কে শেষ মার্সিসাইড ডার্বিকে স্মরণীয় করে রাখলেন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে এভারটন তাদের নতুন স্টেডিয়াম ব্রামলি মুরে ডকে খেলা শুরু করবে।








