বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ভিএআর সিদ্ধান্তগুলোর একটি দেখা গেলো ক্রোয়েশিয়া-পর্তুগাল ম্যাচে। যোগ করা সময়ের ১০৩ মিনিটে করা ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোল বাতিল করে দেন রেফারি। ভিএআরের হস্তক্ষেপে নেওয়া সেই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠে প্লাস্টিকের বোতল ছুড়ে মারেন ক্রোয়েশিয়ার সমর্থকেরা।
জসকো গভার্দিওল বল জালে জড়ালে তখন উল্লাসে মেতেছিল ক্রোয়েশিয়া। যদিও সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ।
নরওয়ের রেফারি এসপেন এসকাসকে ভিএআরের পরামর্শে মাঠের সাইড মনিটরে গিয়ে ঘটনাটি পর্যালোচনা করতে বলা হয়। রিপ্লে দেখার পর তিনি গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত দেন।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্রসে বল আসার সময় ইগর মাতানোভিচ সামান্য স্পর্শ করেছিলেন। এরপর অফসাইড অবস্থানে থাকা মারিও পাশালিচ বলটি গভার্দিওলের দিকে বাড়িয়ে দেন। পরে তিনিই গোল করেন। মাতানোভিচের সেই স্পর্শের কারণেই অফসাইড কার্যকর হয় এবং গোলটি বাতিল করা হয়।
বিতর্ক শুরু হলেও বিবিসি স্পোর্টকে ঘটনাটি ব্যাখ্যা করেছেন সাবেক প্রিমিয়ার লিগ সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যান। তিনি বলেছেন, ‘সতীর্থ শেষবার বল স্পর্শ করার সময় খেলোয়াড়টি অফসাইডে ছিল। ডিফেন্ডারের স্পর্শটি ইচ্ছাকৃতভাবে নয়, কেবল ডিফ্লেকশন ছিল। তাই অফসাইডের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্নিকো প্রযুক্তি শতভাগ নিশ্চিত করেছে যে মাতানোভিচ বলে সামান্য স্পর্শ করেছিলেন।’
ক্রিকেটে বহুল ব্যবহৃত ‘স্নিকো’ প্রযুক্তির আদলে ব্যবহৃত এই প্রযুক্তি ম্যাচের বলের ভেতরে থাকা ওয়েভফর্ম সেন্সরের মাধ্যমে ক্ষুদ্রতম স্পর্শও শনাক্ত করতে পারে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে ভিএআরের কাছে পাঠায়।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফা জানায়, অফিসিয়াল ম্যাচ বল অ্যাডিডাস ট্রিয়ন্ডায় ব্যবহৃত ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’র তথ্য অনুযায়ী, গোল হওয়ার আগে ইগর মাতানোভিচ বল স্পর্শ করেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রেফারি সঠিকভাবে অফসাইড শনাক্ত করে গোল বাতিল করেন।
ফিফা আরও জানায়, ট্রিয়ন্ডা বলের ভেতরে থাকা আইএমইউ সেন্সর অত্যন্ত ক্ষুদ্র স্পর্শও শনাক্ত করতে সক্ষম। সম্প্রচারে সেটি ‘হার্টবিট গ্রাফিক’ হিসেবে দেখানো হয়, যা ম্যাচ কর্মকর্তাদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।









